down of head

প্রায় দুই সপ্তাহ বন্ধ চিপস পাথর আমদানি

ভারতে পার্কিং চার্জ বৃদ্ধি ও ওভারলোডিং বন্ধসহ নানা কারণে দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে গত ১২ দিন ধরে চিপস পাথরের আমদানি বন্ধ রয়েছে। এতে করে বিভিন্ন প্রজেক্টে পাথর সরবরাহ করতে না পারায় বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারক ও পাথর ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে পাথর আমদানি না হওয়ায় কমেছে বন্দরের রাজস্ব আহরণও।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বন্দর দিয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চিপস পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে। মাঝে দুদিন অল্পসংখ্যক চিপস পাথর আমদানি হলেও এরপর থেকে চিপস পাথর আমদানি একেবারে বন্ধ রয়েছে। এদিকে পাথর আমদানি বন্ধ থাকায় বাড়তে শুরু করেছে দাম। বর্তমানে ৫/৮ ও ৩/৪ সাইজের পাথর ৩ হাজার ৭৫০ টাকা থেকে ১৬ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৫০ টাকা এবং ১/৪ ও ১/২ সাইজের পাথর ৩ হাজার ২৫০ টাকা থেকে ৯ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৫০ টাকা। তার পরও বন্দরে কোনো পাথর পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলা হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও পৌর মেয়র জামিল হোসেন চলন্ত বলেন, বন্দর দিয়ে ভারত থেকে সবধরনের পণ্যবাহী ট্রাক প্রবেশ করছে কিন্তু শুধু চিপস পাথর প্রবেশ করছে না। ভারতীয় রফতানিকারকরা জানিয়েছেন, তাদের দেশে ট্রাকের পার্কিং চার্জ যেটি দিনে ১০০ টাকা নেয়া হতো সেটি বাড়িয়ে ৪০০ টাকা নেয়া হচ্ছে। এছাড়া হল্টেজ চার্জ যেটি নেয়া হতো, সারাদিনে ৩০ টাকা, এখন সেটি ঘণ্টাপ্রতি ৫০ টাকা করে নেয়া হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ভারতীয় রফতানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বারবার বৈঠকে বসছে। এটি সমাধান হলে আবারো বাংলাদেশে চিপস পাথর রফতানি শুরু হবে বলে তারা জানিয়েছেন।

তিনি আরো জানান, আমাদের দেশে এ সময়টাতে সবচেয়ে বেশি কাজের সময়, যার কারণে পাথরের চাহিদা ব্যাপক। বিশেষ করে পাথর দিয়ে যে কাজগুলো করার কথা আমদানি বন্ধের কারণে সেই কাজগুলো এখন থমকে গেছে।

হিলি স্থলবন্দরের আমদানিকারক শাহিনুর রেজা শাহিন বলেন, দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে প্রচুর পরিমাণে পাথরের চাহিদা রয়েছে। বন্দরের বিভিন্ন আমদানিকারকরা এসব প্রকল্পে পাথর সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়ে ভারত থেকে হাজার হাজার টন পাথর আমদানি করে সেসব প্রকল্পে সররবাহ করছে। কিন্তু ভারতে ওভারলোডিং ও স্থানীয় ট্রাক সিন্ডিকেটের দ্বন্দ্বের কারণে বন্দর দিয়ে চিপস পাথর আমদানি একেবারে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ফলে আমরা যেসব প্রকল্পের সঙ্গে পাথর সরবরাহের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছি, সেগুলোতে পাথর সরবরাহ করতে পারছি না। আমাদের অনেক বিল আটকা রয়েছে, যা পাথর সরবরাহ করতে না পারায় ছাড় হচ্ছে না, এতে আমরা লোকসানের মুখে পড়ব। সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি বিষয়টি নিয়ে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে এর সমাধান করার।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, দেশের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে পাথরের ব্যাপক চাহিদা থাকায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে প্রচুর পরিমাণে চিপস পাথরসহ অন্যান্য পাথরের আমদানি অব্যাহত ছিল। কিন্তু ১৩ ফেব্রুয়ারি থেকে চিপস পাথর আমদানি বন্ধ রয়েছে, শুধু বোল্ডার পাথর আমদানি অব্যাহত রয়েছে। চিপস পাথর আমদানি বন্ধের কারণে সরকার যেমন রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তেমনি বন্দর কর্তৃপক্ষও দৈনন্দিন আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

হিলি স্থল শুল্কস্টেশনের রাজস্ব কর্মকর্তা এসএম নুরুল আলম খান বলেন, গত জুলাই থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ৫ লাখ ৮৯ হাজার ১৮৭ টন চিপস পাথর আমদানি হয়েছিল। এ থেকে সরকারের রাজস্ব আহরণ হয়েছিল ৪৪ কোটি ৯১ লাখ ৭৯ হাজার ৬৫৭ টাকা। বর্তমানে বন্দর দিয়ে চিসপ পাথর আমদানি না হওয়ায় গড়ে প্রতিদিন ২০ লাখ টাকার মতো রাজস্ব আহরণ বন্ধ রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর