রডের দাম নিয়ন্ত্রণে কর ও ভ্যাট কমানোর দাবি
আন্তর্জাতিক বাজারে রডের কাঁচামাল ও রাসায়নিকের দাম বেড়ে যাওয়ায় দেশেও রডের উৎপাদন খরচ বেড়েছে। তাতে দামও বাড়ছে। এ অবস্থায় রডের দাম নিয়ন্ত্রণে আগামী বাজেটে কর ও ভ্যাট কমানোর দাবি জানিয়েছেন এ খাতের ব্যবসায়ীরা। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান ইস্পাত খাতের উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসএমএ) নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে আগামী ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে ইস্পাত খাতের জন্য বেশকিছু সুপারিশ ও দাবি তুলে ধরা হয়। এ সময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিএসএমএর সাধারণ সম্পাদক ও মেট্রোসেম গ্রুপের এমডি মো. শহিদউল্লাহ। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএসএমএ সভাপতি মানোয়ার হোসেন, সহসভাপতি সুমন চৌধুরী, পরিচালক আশরাফুজ্জামান, আশরাফ সিদ্দিকী, হুমায়ূন কবির, আশফাকুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম প্রমুখ।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ইস্পাতের কাঁচামাল ও রড উৎপাদনে ব্যবহূত রাসায়নিকের বড় অংশই আমদানিনির্ভর। করোনার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে রড তৈরির কাঁচামাল ও রাসায়নিকের দুষ্প্রাপ্যতা তৈরি হয়েছে। এতে দাম অনেক বেড়ে গেছে। ফলে দেশেও রডের দাম বেড়ে চলেছে। বিএসএমএর সাধারণ সম্পাদক শহিদুল্লাহ বলেন, ২০২০ সালের মার্চ-এপ্রিলে রড তৈরির কাঁচামাল মেল্টিং স্ক্র্যাপের প্রতি টনের দাম ছিল ৩০০ থেকে ৩২০ মার্কিন ডলার। এখন তা বেড়ে ৫৫০ থেকে ৫৯০ ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ আন্তর্জাতিক বাজারে প্রায় দুই বছরের ব্যবধানে স্ক্র্যাপের দাম টনপ্রতি প্রায় ৮৪ শতাংশ বা ২৭০ ডলার পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে ইস্পাতপণ্য তৈরিতে ব্যবহূত প্রধান রাসায়নিক ফেরো অ্যালয়সের প্রতি টনের দাম বেড়ে ১ হাজার ৪৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া পণ্য পরিবহনে কনটেইনার ভাড়া প্রায় চার গুণ বেড়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে আগামী বাজেটে স্ক্র্যাপ (রড তৈরির প্রাথমিক কাঁচামাল) থেকে বিলেট (রড তৈরির মধ্যবর্তী কাঁচামাল) এবং বিলেট থেকে রড তৈরিতে ভ্যাটের পরিমাণ ১ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫০ টাকা করার দাবি জানান ব্যবসায়ীরা। পাশাপাশি যেসব কারখানা স্ক্র্যাপ থেকে বিলেট তৈরির পর সেখান থেকে রড উৎপাদন করে, তাদের ভ্যাটের পরিমাণ ২ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ৫০০ টাকা করার দাবি জানান।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে স্ক্র্যাপ আমদানিতে দেড় হাজার টাকা কাস্টমস ডিউটি ও ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর (এআইটি) দিতে হয়। ব্যবসায়ীরা স্ক্র্যাপের কাস্টমস ডিউটি কমিয়ে ৫০০ টাকা এবং অগ্রিম আয়কর ১০০ টাকা করার প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে রড তৈরির রাসায়নিক আমদানিতে বর্তমানে ৮০০ টাকা কাস্টমস ডিউটি ও ৫০০ টাকা অগ্রিম আয়কর দিতে হয়। আগামী বাজেটে রাসায়নিক আমদানির ক্ষেত্রে কাস্টমস ডিউটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার ও অগ্রিম আয়কর কমিয়ে ১০০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে বিএসএমএ নেতারা। এছাড়া ইস্পাতপণ্য তৈরিতে ব্যবহূত অপর রাসায়নিক ফেরো অ্যালয়সের আমদানিতে আরোপিত নিয়ন্ত্রণমূলক বা রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। পাশাপাশি উৎপাদনের পর রড বিক্রির ক্ষেত্রে উৎসেকর ২ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১ শতাংশ করারও দাবি জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএসএমএ সভাপতি ও আনোয়ার গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের চেয়ারম্যান মানোয়ার হোসেন বলেন, ‘রডের দাম বেড়ে যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে ভোক্তারা রড কেনা বন্ধ করে দেবেন। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় আমরা দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারছি না। এভাবে চলতে থাকলে সামনে দাম আরো বাড়বে।



