বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ২৬৩ কোটি টাকার গম আমদানি
লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে রেকর্ড পরিমাণ গম আমদানি হয়েছে। দেশের বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকলেও উৎপাদন সীমিত। এ কারণেই কৃষিপণ্যটির আমদানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। ছয় মাসে ২৬২ কোটি ৯৮ লাখ টাকায় ৯৫ হাজার ৫৬০ টন গম আমদানি হয়েছে। বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
আমদানিকারকরা জানান, দেশে গমের ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি প্রতিবেশী ভারত থেকে গম আমদানি করছে সরকার। দেশে উৎপাদন কম হওয়ায় ডলারের রিজার্ভ ভেঙে সরকারকে গম আমদানি করতে হচ্ছে।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমস সূত্র জানায়, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাইয়ে ৬ হাজার ৫১ টন, আগস্টে ১৫ হাজার ৩৪৫, সেপ্টেম্বরে ১৫ হাজার ৫৬২, অক্টোবরে ১৮ হাজার ২৩৪, নভেম্বরে ২০ হাজার ২৮৯ ও ডিসেম্বরে ২০ হাজার ৭৯ টন গম আমদানি হয়েছে।
জানতে চাইলে লালমনিরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. শামীম আশরাফ বলেন, গম চাষে কৃষকদের উৎসাহিত করা হচ্ছে। কিন্তু তামাক ও ভুট্টায় বেশি লাভ পাওয়ায় এ অঞ্চলের কৃষকরা গম চাষ কমিয়ে দিয়েছেন। এর পরও আমরা কৃষক পর্যায়ে গম চাষে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা করছি।
বুড়িমারী স্থলবন্দর কাস্টমসের সহকারী কমিশনার কেফায়েতুল্ল্যাহ মজুমদার বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কৃষি মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনসাপেক্ষে ভারত থেকে গম আমদানি করছেন ব্যবসায়ীরা। ভারত থেকে ৩১৫-৩২০ ডলারে প্রতি টন গম আমদানি হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৯৫ হাজার ৫৬০ টন গম আমদানি হয়েছে। এসব গমের মূল্য ৩ কোটি ৯ লাখ ৩৮ হাজার ৮২৪ ডলার।
বুড়িমারী স্থলবন্দরের উদ্ভিদ সংগনিরোধ কর্মকর্তা অতিরিক্ত উপপরিচালক মাহফুজুল হক বলেন, আমদানির পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে গম বাজারজাত করার জন্য ব্যবসায়ীদের ছাড়পত্র দেয়া হয়।
লালমনিরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি ও গম আমদানিকারক শেখ আব্দুল হামিদ বাবু বলেন, অন্য যেকোনো সময়ের তুলনায় গম থেকে উৎপাদিত খাদ্যের ব্যবহার অনেক গুণ বেড়েছে। চাহিদার তুলনায় গম উৎপাদন কম হওয়ায় আমদানি করেই চাহিদা পূরণ করা হচ্ছে।



