মস্কোয় ভয়াবহ হামলা
‘যুক্তরাষ্ট্রের সামান্য ওকালতিও ইউক্রেনের সম্পৃক্ততা প্রমাণ করবে’
রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, মস্কোর কাছে একটি কনসার্ট হলে বন্দুক হামলার ঘটনার তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই যদি যুক্তরাষ্ট্র কিয়েভের সাফাই গায়, তাহলে এটাই প্রমাণ করবে যে এই হামলার সঙ্গে ইউক্রেনের যোগসাজশ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদার গণতন্ত্রপন্থি দল ইউক্রেনভিত্তিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সব কার্যক্রমে অর্থায়ন করে আসছে। আর জো বাইডেন ক্ষমতায় আসার পর সেই সম্পৃক্ততা বহুগুণে বেড়েছে।
মারিয়া জাখারোভার মতে, দশকের পর দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্র খুব দক্ষতার সঙ্গে নিজের কিংবা তার মিত্রদের সংগঠিত হাই-প্রোফাইল অপরাধ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেওয়ার কাজ করে আসছে। অতএব, ক্রোকাস সিটি হলে সন্ত্রাসী হামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত, ওয়াশিংটনের কাছ থেকে কিয়েভকে ‘নিরপরাধ’ ঘোষণা করার সামান্য প্রচেষ্টাও ইউক্রেনকে ‘অপরাধী’ হিসেবে উপস্থাপন করবে।’
এর আগে শুক্রবার হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র জন কিরবি বলেছিলেন, এই ঘটনার সঙ্গে ইউক্রেন বা ইউক্রেনীয়রা জড়িত ছিল এমন কোনো প্রমাণ নেই।
এরপরই মারিয়া জাখারোভা বলেছিলেন, হোয়াইট হাউজ মস্কোতে সংগঠিক সন্ত্রাসী হামলার সঙ্গে ইউক্রেন কিংবা ইউক্রেনীয়দের জড়িত থাকার কোনো আলামত পায়নি। একটি শোকাবহ ও বর্বর ঘটনার তদন্ত চলার মধ্যেই মার্কিন কর্মকর্তারা কীসের ভিত্তিতে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছান? তাহলে ওয়াশিংটনের কাছে এই হামলার বিষয়ে তথ্য রয়েছে এবং আসলেই যদি থেকে থাকে, তাহলে তাদের উচিত হবে তথ্যগুলো মস্কোর সঙ্গে শেয়ার করা।
স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ৮টার দিকে ক্রোকাস সিটি হলের ভেতরে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি চালায় একদল অস্ত্রধারী। রুশ বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্স জানিয়েছে, পাঁচজন বন্দুকধারী এ হামলা চালায়। প্রথমে গুলিবর্ষণের পর সেখানে গ্রেনেড বা বোমা নিক্ষেপ করা হয়। তাতে হলটিতে আগুন ধরে যায়। এ হামলায় অন্তত ১৩৩ জন নিহত ও কমপক্ষে ১৪০ জন আহত হন।
এই হামলার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করছে রাশিয়া। অন্যদিকে, হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই জঙ্গি গোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করে। তবে হামলার জন্য কারা দায়ী, এ নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এখনো কিছু জানানো হয়নি।



