শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন, বাবা-মেয়ে গ্রেফতার
চুয়াডাঙ্গার দোস্ত গ্রামে চুরির অপবাদ দিয়ে ৫ম শ্রেণির এক ছাত্রকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়েছে। তাকে প্রায় আধঘণ্টা নির্যাতনের ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। নির্যাতনকারী আলী আহমেদ ও তার মেয়ে রোমানা খাতুনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে।
শিশুর মা ফাতেমা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। রোববার দুপুরে ওই শিশুকে বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করা হয়। সোমবার দুপুরে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত দুজনকে।
অভিযোগ থেকে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার দোস্ত গ্রামের দিনমজুর মনোয়ার হোসেনের ছেলে আবদুর রহমান (১০) দোস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। রোববার দুপুরে টিফিন পিরিয়ডে সে স্কুলের নিকটবর্তী দোকানে বিস্কুট কিনতে যায়। এ সময় দোকানদার আলী আহমেদের মেয়ে রোমানা খাতুন তাকে টাকা চুরির অভিযোগ তুলে চড়-থাপ্পড় মারতে শুরু করেন।
একপর্যায়ে দড়ি দিয়ে দোকানের সামনের বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে রাখেন। পথচারীরা শিশু আবদুর রহমানকে ছেড়ে দিতে অনুরোধ করলেও প্রভাবশালী দোকানির মন গলে না। দোকানি আলী আহমেদ জানান, আবদুর রহমান দোকান থেকে টাকা চুরি করেছে। আমার দোকান থেকে প্রায়ই টাকা চুরি হয়। এ কারণে তাকে বেঁধে রাখা হয়েছে; যাতে আর কেউ টাকা চুরি করতে সাহস না পায়।
এ ব্যাপারে দোস্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোমিন হোসেন বলেন, পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র আবদুর রহমানকে টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে বাঁশের খুঁটিতে বেঁধে রাখা হয়েছে জানতে পারি। সঙ্গে সঙ্গে আমি ওই দোকানে গিয়ে আবদুর রহমানকে মুক্ত করি। একজন দোকানদার টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে এভাবে একটা শিশু শিক্ষার্থীকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতন করবে আমি ভাবতেও পারছি না। চুরির অপবাদ দিয়ে শিশুর প্রতি এহেন আচরণ কেউ আশা করে না।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বেগমপুর ইউপি মেম্বার আবু সালেহ জানান, আমি বিষয়টি পরে জেনেছি। শিশুকে এভাবে খুঁটিতে বেঁধে রেখে নির্যাতন করা আইনের চোখে অন্যায় এবং শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
দোকান মালিক আলী আহমেদের মেয়ে রোমানা খাতুন বলেন, আমি নিজে টাকাসহ ধরেছি আবদুর রহমানকে; তাই বেঁধে সামান্য শাস্তি দিয়েছি।
দর্শনা থানার ওসি এএইচএম লুৎফুল কবির বলেন, ছোট্ট শিশুকে খুঁটিতে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। সোমবার দুপুরে সোমবার দুপুরে দোকান মালিক আলী আহমেদ ও তার মেয়ে রোমানা খাতুনকে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। বিকালে শিশুর মা ফাতেমা খাতুন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন।



