বিচার চান তারকারা
ঢাকা বিশবিদ্যালয়ে তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যা ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে শামীম মোল্লাকে পিটিয়ে আহত করার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে শোবিজ অঙ্গনের তারকারা। এসব ঘটনায় সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শোবিজ তারকারাও কথা বলছেন। তারা এই ‘মব জাস্টিস’-এর বিরুদ্ধে।
নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে বলেছেন, ‘আমি আশা করছিলাম, এই নতুন স্বাধীনতা প্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে নতুন দায়িত্বের ব্যাপারটা আমরা উপলব্ধি করব। আমাদের দিলে রহম জিনিসটা আসবে। ১০০ জন মববাজি করতে এলে দুজন হলেও রুখে দাঁড়াবে! ঢাকা আর জাহাঙ্গীরনগরে কি এ রকম চারজন ছিল না, রুখে দাঁড়ানোর? এটা লজ্জার, বেদনার।’ তিনি মব জাস্টিস বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘সবাই দায়িত্ব নিই চলেন। মববাজি বন্ধ করেন। ফ্যাসিবাদীদের ফাও আলোচনার বিষয় উপহার দেওয়া থেকে বিরত থাকেন। প্লিজ। আলোচনাটা থাকতে দেন রিফর্মে, ফ্যাসিবাদের বিচারে।’
নির্মাতা আশফাক নিপুণ এ ঘটনায় ব্যথিত। তিনি লিখেছেন, ‘আমি শুধু তাদের মায়েদের কথা ভাবি। এই যে তোফাজ্জল নামের এক মানসিকভাবে অপ্রকৃতিস্থ যুবককে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র পিটিয়ে মেরে ফেলল, আমি ভাবি তোফাজ্জলের মা সেটা দেখতে পেলে কী করতেন? জানলাম উনি মারা গেছেন আগেই। কিন্তু এমনও তো হতে পারে তোফাজ্জলের কাছ থেকে ৩ ফুট দূরে দাঁড়িয়ে ছিলেন উনি, ছেলেকে বাঁচাতে পারছিলেন না দেখে চূড়ান্ত অসহায় বোধ করছিলেন?’
নির্মাতার ভাষ্য, ‘আমি শুধু সেইসব মায়েদের কথা ভাবি। যারা ৯ মাস গর্ভে ধারণ করা থেকে সন্তান জন্ম দিয়ে তার পুরোটা জীবন সেই সন্তানকে লালন-পালন করে, বড় করে একদিন জানতে পারেন তার ছেলেকে বা মেয়েকে কেউ মেরে ফেলেছে। কী যায় তাদের ভেতর দিয়ে সেটা ভাবি। তল পাই না। অন্ধকার লাগে সব।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট দিয়ে প্রশ্ন করেছেন তিনি। তিনি জানতে চাইলেন ‘গণপিটুনিকে নরমালাইজ করা হচ্ছে কেন?’
ক্ষোভ প্রকাশ করে মৌসুমী হামিদ তার ফেসবুকে লেখেন, ‘আমি তোফাজ্জল হত্যার বিচার চাই। এই হাতের ওপর লাঠি রেখে যারা ওর হাত পাড়াচ্ছে? পা দুইটা থেঁতলায় ফেলছে মারতে মারতে? এদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনা হোক।’ বিচার চেয়েছেন অভিনেত্রী তমা মির্জাও। তিনি নিহত তোফাজ্জলের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘আমি বিচার চাই।’
অভিনেত্রী কাজী নওশাবা আহমেদ প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘এত কথার দরকার নাই, রাজশাহী, ঢাবি, জাবি, মব জাস্টিসের নাম ধরে যারা মব ভায়োলেন্স করেছে, তাদের বিচার চাই।’ অভিনেত্রী গোলাম ফরিদা ছন্দা সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টে লেখেন, ‘ভাত! ভিডিওটি দেখতে পারলাম না, সম্ভব না, অজান্তেই ঠিকরে পানি পড়ছে চোখ বেয়ে! আমরা কি মানুষ?’ বিচার চেয়ে আরেক পোস্টে ছন্দা লেখেন, ‘আমি বিচার চাই। কিন্তু আমরা এতই অমানুষ, জানি না বিচার আছে কি নাই।’
সংগীতশিল্পী আহমেদ হাসান সানি প্রতিবাদ করেছেন অন্যভাবে। তিনি এই দুই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে গান গাইবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। আহমেদ হাসান সানি নিজের ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে বলেন, ‘এই দুই হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমি আর ঢাবি ও জাবিতে গান করতে বা এমন কোনো কাজে যেতে চাই না। একজন শিল্পী হিসেবে এটা আমার বিবেকের প্রশ্ন। আমি খুনিদের বিচার চাই।’
এন এস



