এ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ পুনঃতফসিলে বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তি
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংকের বড় গ্রাহক এ্যাননটেক্স গ্রুপের ঋণ পুনঃতফসিলে অনাপত্তি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। শর্তসাপেক্ষে বিশেষ ব্যবস্থায় এ ঋণ নিয়মিত করার সুযোগ দেয়া হয়েছে। এ্যাননটেক্সের বিরুদ্ধে জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণ না পাওয়ায় তা পরিসমাপ্তি করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার জনতা ব্যাংকের উদ্দেশে ইস্যু করা একটি চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, লামিসা স্পিনিং লিমিটেড, জারা ডেনিম লিমিটেড, সিমরান কম্পোজিট লিমিটেড, গ্যালাক্সি সোয়েটার অ্যান্ড ইয়ার্ন ডায়িং লিমিটেডসহ এ্যাননটেক্স গ্রুপভুক্ত ১৭টি গ্রাহক প্রতিষ্ঠানের ঋণস্থিতি ৩ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকার ঋণ পুনঃতফসিলীকরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ডাউন পেমেন্ট বাবদ আদায়কৃত ৭১ কোটি ৬৪ লাখ টাকা সংশ্লিষ্ট ঋণ হিসাবগুলোয় জমাকরণের পর পুনঃতফসিল সুবিধাটি কার্যকর হবে।
এ প্রসঙ্গে জনতা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুছ ছালাম আজাদ বলেন, করোনাকালীন মহামারীর মধ্যেও এ্যাননটেক্স গ্রুপ তাদের প্রতিষ্ঠান চালু রেখে ব্যবসা অব্যাহত রেখেছে। গ্রুপটি এরই মধ্যে ৮৬ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা দিয়েছে। আরো ২৫ কোটি টাকা জমা দেবে। এ্যাননটেক্সের ঋণগুলো পুনঃতফসিল হলে জনতা ব্যাংকের খেলাপি ঋণ এক-চতুর্থাংশ কমে যাবে। এতে গ্রাহকের পাশাপাশি ব্যাংকও উপকৃত হবে। গ্রুপটির ঋণগুলো পুনঃতফসিল করার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদন দিয়েছে।
এ্যাননটেক্স ও ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জনতা ব্যাংক থেকে ঋণ নেয়ার পর গত প্রায় সাড়ে সাত বছরে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ১ হাজার ৮৮ কোটি টাকার বেশি পরিশোধ করেছে। ২০১৪ সালে এ্যাননটেক্স গ্রুপ জনতা ব্যাংককে ১৯২ কোটি টাকা পরিশোধ করে। এরপর ২০১৫ সালে ২৩৬ কোটি, ২০১৬ সালে ২৯৬ কোটি, ২০১৭ সালে ৩৪২ কোটি ও ২০১৮ সালে ২৮৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে গ্রুপটি। ২০১৯ সালে নানা বিতর্ক সত্ত্বেও ৮৬ কোটি টাকা পরিশোধ করেছে এ্যাননটেক্স। আর ২০২১ সালে পরিশোধ করেছে ৮৭ কোটি টাকা।
এদিকে দুদকের চিঠিতে জানা যায়, জাল জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানে প্রমাণিত না হওয়ায় দুদক তা পরিসমাপ্তি ঘোষণা করেছে। এছাড়াও দুদকের আরেকটি চিঠিতে এ্যাননটেক্স গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জামানত প্রদান না করে ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় শত শত কোটি টাকা ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে আত্মসাৎ সংক্রান্ত যে অভিযোগ করা হয়েছিল, তা সংস্থাটির অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয়নি।
এ বিষয়ে এ্যাননটেক্স গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, চলমান মহামারী সৃষ্ট অর্থনৈতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও গ্রুপটির প্রতিটি প্রতিষ্ঠান উৎপাদনে আছে। কিস্তি পরিশোধ ও পুনঃতফসিলের মাধ্যমে জনতা ব্যাংকের সব ঋণ নিয়মিত করার যে সুযোগ বাংলাদেশ ব্যাংক দিয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ্যাননটেক্সের প্রতিষ্ঠানগুলো আগামী পাঁচ বছর উৎপাদনে থাকলে জনতা ব্যাংকের সব ঋণই পরিশোধ হয়ে যাবে বলে মোহাম্মদ ইউনুস আশাবাদী।



