আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে উন্নতিতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দক্ষতা বৃদ্ধি প্রয়োজন
বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে আরো উন্নতি করার বিকল্প নেই। আগামীতে এলডিসি অর্জিত হলে অনেক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হবে। সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সক্ষমতা যেমন বাড়াতে হবে, তেমনি সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে সর্বস্তরের কর্মকর্তাদের দক্ষতাও বাড়াতে হবে। গতকাল ‘বুস্টিং বাংলাদেশ ট্রেড কম্পিটিটিভনেস’ শীর্ষক এক ওয়েবিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউট (পিআরআই) ও বিশ্বব্যাংক যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ইউসুফ আব্দুল্লাহ হারুন। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ-সংক্রান্ত জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ ড. নোরা দিহেল ও সিলা লাকাতোস।
মূল প্রবন্ধে বলা হয়, বাংলাদেশের রফতানি ৮৫ শতাংশ তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরশীল। এটি অর্থনীতির একটি সীমাবদ্ধতা। একই বা কাছাকাছি মূল্যমানের শ্রমবাজার রয়েছে এমন দেশের তুলনায় বাংলাদেশের রফতানি অনুপাত অনেক কম। গত পাঁচ বছর বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের দিকে তাকালে রফতানি উপযোগী নয় এমন পণ্যের উৎপাদন বেশি দেখা যায়। যেটি এলডিসি উত্তরণের পর বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে। বাংলাদেশের রফতানিমুখী প্রতিষ্ঠানগুলো আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় খুবই নমনীয় অবস্থানে রয়েছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়ন দ্রুতগতিতে হচ্ছে। গত এক দশকে বাংলাদেশ অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য উন্নতি করেছে। বর্তমান অর্থবছরে আমরা জিডিপি ৭ দশমিক ২ শতাংশ আশা করছি। আমাদের রফতানি খাতে উন্নতি করার অনেক সুযোগ রয়েছে। এজন্য আমাদের পরিবহন, লজিস্টিক সিস্টেম, প্রডাক্টিভিটি, ট্রেড ফাইন্যান্সিং ম্যাকানিজম, গ্লোবাল ভ্যালু চেইনে আরো বেশি সম্পৃক্ত হওয়া প্রয়োজন। সরকারের নানা উদ্যোগের ফলে করোনা-পরবর্তী অর্থবছরে রফতানি খাত এবং অর্থনীতির অন্য খাতগুলো দ্রুত উন্নতি করতে পেরেছে। আমাদের উদ্যোক্তারা যথেষ্ট যোগ্য এবং তারা পরিস্থিতি মোকাবেলা করে ঘুরে দাঁড়াতে জানে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা জানি এলডিসি উত্তরণের পর কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য লক্ষ্য অর্জনে আমাদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই।
ডিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট রেজওয়ান রহমান বলেন, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আমাদের অদক্ষতা রয়েছে। বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিষয়াদি দরকষাকষি করার মতো সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে আমাদের দক্ষ জনবল প্রয়োজনের তুলনায় নেই। এলডিসি উত্তরণের পর এ সমস্যাগুলো অনেক বড় প্রভাব ফেলবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে। এজন্য আন্তর্জাতিক বাজারে বুদ্ধিবৃত্তিক বাণিজ্য করার সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
এছাড়া অনুষ্ঠানে পিআরআইয়ের ভাইস চেয়ারম্যান ড. সাদিক আহমেদ, পিআরআইয়ের গবেষণা পরিচালক ড. আব্দুর রাজ্জাক বক্তব্য রাখেন।



