down of head

উচ্চ ঝুঁকিতে ৩২ বীমা কোম্পানি- সংবাদ সম্মেলনে আইডিআরএ

আজ (২জুলাই) আইডিআরএ এর কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম। দেশের বীমা খাতের ৩২টি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ আইডিআরএ  এর চেয়ারম্যান ড. এম আসলাম আলম। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্য ও সংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) চেয়ারম্যান ছাড়াও সংস্থাটির সদস্য (প্রশাসন) মো. ফজলুল হক, সদস্য (আইন) তানজিনা ইসমাইল, সদস্য (নন-লাইফ) মোহাম্মদ আবু বকর সিদ্দিক এবং সদস্য (লাইফ) মো. আপেল মাহমুদসহ নির্বাহী পরিচালক ও পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, সময় মতো বীমা দাবি পরিশোধ না করায় এ খাতের প্রতি মানুষের আস্থাহীনতা বেড়েছে। আর এ কারণে পিছিয়ে পড়ছে খাতটি। স্বচ্ছতা, জবাবদিহীতা ছাড়া আস্থা বাড়বে না। তিনি বলেন, লাইফ বীমা খাতের ৩৬টি কোম্পানির মধ্যে উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে ১৫টি। আর ১৫টি রয়েছে মধ্যম ঝুঁকিতে। ভালো অবস্থানে রয়েছে ৬টি লাইফ বীমা কোম্পানি। এর মধ্যে যে কয়টি কোম্পানি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে সেগুলো আনভায়াবল (টিকে থাকতে অক্ষম) পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তবে যেসব কোম্পানি মধ্যম ঝুঁকিতে রয়েছে তাদের সমস্যাগুলো নিরসনযোগ্য, এগুলো ঠিক করা যাবে বলে জানান ড. এম আসলাম আলম।

সংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইডিআরএ চেয়ারম্যান আরো বলেন, নন-লাইফ বীমা খাতেও ১৭টি কোম্পানির আর্থিক অবস্থা উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। বীমা দাবি পরিশোধ না করাসহ বীমা কোম্পানিগুলোর বিভিন্ন ক্রাইটেরিয়া বা মানদণ্ড যাচাই-পর্যালোচনা করে এই মূল্যায়ন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

ড. এম আসলাম আলম বলেন, বর্তমানে লাইফ বীমার ক্ষেত্রে ৪৫ শতাংশ এবং নন-লাইফ বীমার ক্ষেত্রে প্রায় ৪৭ শতাংশ বীমা দাবি অপরিশোধিত রয়েছে। এসব বীমা দাবি সময় মতো পরিশোধ করা এবং মানুষের আস্থা বাড়াতে বিভিন্ন আইন ও বিধি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যাংক রেজল্যুশনের আদলে বীমাকারির রেজল্যুশন অধ্যাদেশ প্রণয়নের সুপারিশ করা হয়েছে। এর আলোকে কেবল বীমা প্রতিষ্ঠান একীভূত হবে তেমন না; অবসায়ন, অধিগ্রহণসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হবে।

আসলাম আলম বলেন, মোটরযান বীমা সড়ক পরিবহন আইনের দ্বারা হয়েছে। এটা আমাদের দ্বারা নয়, আমাদের হাতে নেই। অর্থমন্ত্রণালয়ের হাতেও নেই। আইনটা ছিল সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ প্রতিস্থাপন করে এটির বাধ্যবাধকতা তুলে দেয়া হয়েছে। এই আইনের দুটি ধারা রয়েছে বীমা নিয়ে।

এরমধ্যে ৬০(১) ধারা দিয়ে মোটরযাত্রীর বীমাকে অপশনাল করা হয়েছে। এই আইন অনুসারে কেউ চাইলে বীমা করতে পারবে, না করলে নেই। কম্প্রিহেন্সিভ তো নেই-ই, মোটর বীমাকেও অপশনাল করে দেয়া হয়েছে। এ কারণে কেউ মোটরযানের যাত্রীর বীমা আর কিনছে না।

এসময় মোটরযানের বীমা প্রসঙ্গে আইডিআরএ চেয়ারম্যান বলেন, মোটরযানের বীমা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ৬০(২) ধারায়। তবে এটার বিপরীতে কোন জরিমানার বিধান রাখা হয়নি। আর জরিমানা না থাকায় পুলিম এটাকে কার্যকর করতে পারে না। আর যেহেতু পুলিশ এটাকে কার্যকর করছে না, তাই কেউ আর মোটরযানের বীমাও করছে না।

তাই সড়ক পরিবহন আইন সংশোধন করে মোটরযানের যে বীমা আছে সেটার বিপরীতে জরিমানা অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এ জন্য আমরা প্রস্তাবনাও পাঠিয়েছি। সেটার জন্যই আমরা দরবার করছি। যাত্রী বীমাকে বাধ্যতামূলক না করলে এটা হবে না। সড়ক পরিবহন খাতের বক্তব্য হচ্ছে তারা আর্থিক সহায়তা তহবিল গঠন করেছে। সেই তহবিল থেকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

আসলাম আলম আরও বলেন, জিডিপি অনুপাতে ২০১০ সালে বীমার হার ছিলো শূন্য দশমিক ৯৪ শতাংশ। ২০২৩ সালে তা কমে শুন্য দশমিক ৪১ শতাংশে নেমেছে। ২০২৪ সালে তা কমেছে। তিনি জানান, আস্থা বাড়াতে প্রাতিষ্ঠানিক, আইনগত ও ডিজিটালি সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

আইডিআরএর চেয়ারম্যান আরো বলেন, আইডিআরএ শুধু ২০২৪ সালে ২৪ হাজার ৮৫২টি অভিযোগ পেয়েছে। তবে জনবল সংকটের কারণে এসব তদারকি করা সম্ভব হচ্ছে না। আইডিআরএ তে ১৬০ জন অনুমোদিত জনবলের বিপরীতে মাত্র ১০৭ জন কর্মরত রয়েছে। জনবল বাড়ানোর জোর চেষ্টা চলছে বলে তিনি জানান।

বীমা কোম্পানিগুলোর নিবন্ধন নবায়ন ফি হাজারে ১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করেছে আইডিআরএ। এ বিষয়ে আসলাম আলম বলেন, বর্তমানে আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে। লোকবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। লোকবল বাড়লে তখন আইডিআরএ’র খরচ বাড়বে। সবকিছু বিবেচনা করেই নিবন্ধন নবায়ন ফি বাড়ানো হচ্ছে।

সম্পর্কিত খবর