কমছে খরচ, বাড়ছে ব্যবসা….
‘ঘুরে দাঁড়াচ্ছে যমুনা লাইফ’
প্রেস বিজ্ঞপ্তি :
বীমা দাবী পরিশোধ ও ব্যবসায়িক সফলতার মধ্যদিয়ে ঘুরে দাড়াচ্ছে ৪র্থ প্রজন্মের অন্যতম জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান যমুনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানী লিমিটেড। খরচ নিয়ন্ত্রন, দ্রুত বীমা দাবী পরিশোধসহ বিভিন্ন কার্যকরী পদক্ষেপ বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে কোম্পানীটি।
যমুনা লাইফের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমেছে এবং কোম্পানীর লাইফ ফান্ডও নেগেটিভ থেকে পজিটিভ পর্যায়ে এসেছে। কোম্পানীর লাইফ ফান্ড প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৩৬.০৮ শতাংশ। ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমেছে ৬৮.৩৫ শতাংশ।
২০২২ সালে যমুনা লাইফ মোট প্রিমিয়াম আয় ছিল ২৬.৯৫ কোটি টাকা। বিপরীতে ব্যয় ছিল ২৩.৫৪ কোটি টাকা। অর্থ্যাৎ ব্যবস্থাপনা ব্যয় ছিল ৮০.৩৪ শতাংশ।
২০২৩ সালে যমুনা লাইফ মোট প্রিমিয়াম আয় করেছে ৩৩.১৯ কোটি টাকা বিপরীতে ব্যয় করেছে ২৪.২৩ কোটি টাকা। কোম্পানীটি ব্যবস্থাপনা খাতে ব্যয় করেছে মোট প্রিমিয়ামের ৭৩.০০ শতাংশ।
এই হিসাব অনুযায়ী ২০২২ এর তুলনায় ২০২৩ সালে যমুনা লাইফের ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমেছে ১৬.৪১ শতাংশ, যা খুবই আশাব্যঞ্জক। ২০১৪ সালে কার্যক্রম শুরু করা কোম্পানীটি মূলত ২০২০ সাল থেকে প্রতিটি ক্ষেত্রে সফলভাবে ঘুরে দাড়ানোর প্রচেষ্টা শুরু করেছে।
২০১৯ সালে কোম্পানীটির মোট ব্যবসা ছিল ৯.৯২ কোটি টাকা। ২০২০ সালে মোট ব্যবসা ছিল ১১.৩৩ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির হার ১২.৪২ শতাংশ। ২০২১ সালে মোট ব্যবসা ছিল ১৫.১৯ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির হার ২৫.৪৬ শতাংশ। ২০২২ সালে মোট ব্যবসা ছিল ২৭.০০ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির হার ৪৩.৭২ শতাংশ। ২০২৩ সালে মোট ব্যবসা ৩৩.১৯ কোটি টাকা। প্রবৃদ্ধির হার ১৮.৬৬ শতাংশ।
এছাড়াও ২য় বর্ষ নবায়ন প্রিমিয়ামের হার বেড়েছে ৭.৫১ শতাংশ। ব্যবস্থাপনা ব্যয় কমায় সংগৃহীত প্রিমিয়াম ও বিনিয়োগ আয় থেকে বীমা দাবী পরিশোধ করার পরে লাইফ ফান্ডে নতুন তহবিল যুক্ত হয়েছে ৮৩ লক্ষ টাকা। কোম্পানীটির মোট বিনিয়োগ আছে ১৫.৫০ কোটি টাকা। যার মধ্যে সরকারী খাতে বিনিয়োগ আছে ১১.৫০ কোটি টাকা অর্থ্যাৎ মোট বিনিয়োগের ৭৪.৯৯ শতাংশ।
বীমা দাবী পরিশোধের ক্ষেত্রেও যমুনা লাইফ সফলতার সাথে কার্যকরী ভূমিকা রাখছে। ২০২৩ সালে মৃত্যুদাবী ছিল ১৭টি পরিশোধ হয়েছে ১১টি। যার পরিমাণ ১৬.০৪ লক্ষ টাকা। এসবি, স্যারেন্ডার ও মেয়াদোত্তর বীমা দাবী উত্থাপিত ছিল ৩৯৪টি, বিপরীতে দাবী পরিশোধ হয়েছে ৩৮৮টি, টাকার পরিমাণ ছিল ২.৩৪ কোটি টাকা। গ্রুপ স্বাস্থ্যবীমা ও জীবন বীমার দাবী উথাপিত হয় ৪,৯৪২টি। বিপরীতে দাবী পরিশোধ করা হয় ৪,৩৮৬টি। টাকার পরিমাণ ছিল ৪.৫৬ কোটি টাকা।
২০২৩ সালে যমুনা লাইফ মৃত্যুদাবী, সারভাইভল বেনিফিট, মেয়াদোত্তর, সমার্পন, গ্রুপ স্বাস্থ্য ও জীবন বীমায় মোট দাবী উত্থাপিত হয় ৫,৩৫৩টি। বিপরীতে দাবী পরিশোধের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা হয় ৪,৭৮৫টি অর্থ্যাৎ দাবী পরিশোধের হার ৮৯.৩৯ শতাংশ। অপরিশোধিত বীমা দাবীগুলো প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অন্যদিকে, যমুনা লাইফ ইনসিওরেন্স কোম্পানী প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা সুবিধা প্রদান শুরু করে। বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও হাজী মোহাম্মদ দানেশ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় মিলে প্রায় ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীদের বীমার আওতায় স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা সুবিধা দিচ্ছে যমুনা লাইফ।
এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর খাজা আবদুল আউয়াল বলেন, ‘‘সাধারণ মানুষকে বীমা সেবার আওতায় নিয়ে আসতে চাই এবং গ্রাহকের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কাজ করছি আমরা।’’
‘সাধারণ মানুষের আস্থা এবং নির্ভরতার প্রতীক হতে চায় যমুনা লাইফ’ এমন দাবী করে প্রতিষ্ঠানটির সিইও কামরুল হাসান খন্দকার বলেন, ‘‘এদেশে এখনো বহুলাংশে মানুষ জীবন বীমার আওতায় আসেনি। জীবন বীমাকে সামাজিক ও পারিবারিক আর্থিক নিরাপত্তা ও ভবিষ্যতে সুহৃদ সাথী হিসেবে ভাবতে হবে। এক্ষেত্রে বীমা প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে হবে। এতে অচিরেই দেশে জীবন বীমার পরিধি আরো বৃদ্ধি পাবে, আমরা সেই লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। ’’
এ বিষয়ে যমুনা লাইফের চেয়ারম্যান বদরুল আলম খান বলেন, ‘‘আমাদের লক্ষ্য উন্নত গ্রাহকসেবা। দেশের জনগণের মধ্যে জীবন বীমার সুফল ছড়িয়ে দিতে হবে। গ্রাহকের বীমা দাবী পরিশোধ এবং ব্যবসায়ীক সফলতার মধ্যদিয়ে দেশের শীর্ষ জীবন বীমা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। গ্রাহকের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সঞ্চয় তৈরীর মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রেখে ব্যাপক জনগোষ্ঠির কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে যমুনা লাইফ। ’’



