down of head

এবারও ধান সংগ্রহে ব্যর্থ সরকার

এবারও ব্যর্থ সরকারের ধান সংগ্রহ অভিযান। লক্ষ্যমাত্রার সিকিভাগও পূরণ করতে পারেনি খাদ্য অধিদপ্তর। কৃষকরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম পাওয়া যায় স্থানীয় বাজারে। তাই খাদ্য গুদামে ধান দেন না তারা। কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থে ধান সংগ্রহ নীতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি বলে মত বিশ্লেষকদের।

শক্তিশালী খাদ্য নিরাপত্তা, স্থিতিশীল বাজার আর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে কৃষকের কাছে ধান-চাল সংগ্রহ করে সরকার। এবারের আমন মৌসুমেও চলছে সেই কার্যক্রম। গেল বছরের ২৩ নভেম্বর শুরু হওয়া কর্মসূচি শেষ হবে ২৮ ফেব্রুয়ারি। তবে ৩ মাসে পূরণ হয়নি লক্ষ্যমাত্রার সিকিভাগও। ৮ বিভাগে ২ লাখ টন ধান সংগ্রহের কথা থাকলেও হয়েছে মাত্র ২৫ হাজার টন।

কিন্তু কেন এমন দূরাবস্থা? কৃষকরা বলছেন, সরকার নির্ধারিত ৩০ টাকা কেজিতে ধান বিক্রি করা সম্ভব নয় কোনোভাবেই। কারণ, এর চেয়ে বেশি দর পাওয়া যায় বাজারে। আর গুদামে ধান সরবরাহে আছে নানা জটিলতাও।

এক কৃষক বলেন, সরকার যখন গুদামে ধান নেয়, তখন দিতে পারি না। এছাড়া অনেক সমস্যা হয়। সবাই ঝঞ্ঝাট করে। আবার দিতে গেলে অনেক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হয়। ধান পরীক্ষা করা লাগে, রশিদ নিতে হয়। এতে বিরক্ত লাগে। আরেক কৃষক বলেন, সরকার যখন কিনে, তখন আমাদের ধান নেয় না। খুব বিরক্ত হয়ে বাজারে নিয়ে গিয়ে তা বিক্রি করি।

গেল কয়েক বছর ধরেই লক্ষ্যমাত্রার ধারেরকাছেও থাকে না সংগ্রহের পরিমাণ। তবুও ধানের এমন অযৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ ও তা সংগ্রহে অব্যবস্থাপনাকে সরকারের অবহেলা হিসেবে দেখছেন বিশষজ্ঞরা। তারা বলছেন এর ফলে অস্বাভাবিকভাবে বাড়ে চালের দাম। যার চরম মূল্য দিতে হয় ক্রেতাকে।

কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, ধান সরবরাহ সঠিকভাবে হচ্ছে না। ফলে ভোক্তা পর্যায়ে চালের দর বেড়ে যাচ্ছে। তারা ঠকছে, সেই সঙ্গে বাজার অস্থির হয়ে পড়ছে।

কৃষক ও ভোক্তার স্বার্থে চাল সংগ্রহ নীতিতে পরিবর্তন আনা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। ড. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকের খামার থেকে ধান সংগ্রহ করতে হবে। যেভাবে চাতালের মালিক এবং বড় ব্যবসায়ীরা তা সংগ্রহ করে থাকে। তাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে সরকার খাদ্যশ্যিটি সংগ্রহ করতে হবে।

উল্লেখ্য, ধান সংগ্রহে সফল না হলেও প্রায় শতভাগ অর্জন হয়েছে চাল সংগ্রহ।

সম্পর্কিত খবর