দেশের কোনো বীজ পরীক্ষাগারের প্রথম অর্জন
আইএসটিএ সনদ পেল এমএনটি বীজ পরীক্ষাগার

 

বিশ্বে বীজের সর্বোচ্চ মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সিড টেস্টিং অ্যাসোসিয়েশনের (আইএসটিএ) স্বীকৃতি ও সনদ পেয়েছে লাল তীর সিড লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান এমএনটি সিড টেস্টিং ল্যাবরেটরি। দেশের প্রথম কোনো বীজ পরীক্ষাগার এ সনদ পেল। গতকাল গাজীপুরের বাসনে লাল তীর সিড লিমিটেডের প্রধান গবেষণা কেন্দ্রে এক সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এ স্বীকৃতির মাধ্যমে এখন থেকে পরীক্ষাগারটির জারি করা বীজের গুণমানের প্রত্যয়নপত্র বিশ্বের সব দেশের সরকার ও বেসরকারি খাতে গ্রহণযোগ্য হবে। ২০১৫ সালে ইন্টারন্যাশনাল সিড টেস্টিং অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য পদ অর্জন করে এমএনটি পরীক্ষাগার। এর পর থেকে আইএসটিএ তাদের সব পদ্ধতি-প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বীজের গুণগতমান পরীক্ষা করে আসছে। দীর্ঘ সাত বছর পরীক্ষাগারটির কার্যপ্রক্রিয়া ও পদ্ধতি যাচাই-বাছাই ও বহুমুখী পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ২০২৩ সালের মে মাসে বীজ পরীক্ষাগারকে বিশ্ব মানসম্পন্ন হিসেবে স্বীকৃতি সনদ অনুমোদন করেছে।

লাল তীরের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব আনাম বলেন, ‘‌বাংলাদেশে উৎপাদিত লাল তীরের বীজ দেশের গণ্ডির বাইরেও—যেমন মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় রফতানি করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বিশ্বের ৮৩টি দেশের ১৩০টি ল্যাবরেটরি আইএসটিএ স্বীকৃত এবং বীজের মান নির্ণয় ও সনদ দেয়ার জন্য অনুমোদিত। এসব পরীক্ষাগার আন্তর্জাতিক বীজ বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বীজের গুণমানের সনদ (কমলা ও নীল) ইস্যু করার জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত। এ সনদ বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত।’

অনুষ্ঠানে লাল তীর সিড লিমিটেডের চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘‌দেশের সার্বিক উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আমাদের ল্যবের এ স্বীকৃতি বড় প্রভাব ফেলবে। পাশাপাশি বিদেশে বীজ রফতানির ক্ষেত্রে নতুন দুয়ার উন্মোচন হবে। এটি দেশের বীজ উন্নয়ন ও আমাদের পরীক্ষাগারের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ স্বীকৃতি। এক সময়ে দেশে ফসল উৎপাদনের একটি বড় বাধা ছিল মানসম্পন্ন বীজের অভাব। স্থানীয় জার্মপ্লাজম ব্যবহার করে বিভিন্ন ফসলের হাইব্রিড ও উন্মুক্ত পরাগায়িত উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন ও উন্নয়ন করাই ছিল আমাদের এ প্রতিষ্ঠানের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে শুরু থেকেই গবেষণা ও প্রজননের মাধ্যমে জাত উন্নয়নের কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। দেশের বিভিন্ন স্বীকৃতির পর এখন আমাদের বিশ্বমানের স্বীকৃতিগুলো আসছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা টিয়া করলা নামে একটি করলার বীজ উদ্ভাবন করেছি। করলায় ভারতসহ কোথাও এর চেয়ে ভালো জাত নেই। কিন্তু ভারতে নানা আইন থাকায় দেশটিতে আমরা বীজ রফতানি করতে পারি না। অথচ আমাদের দেশ থেকে এ জাতের বীজ ভিন্ন উপায়ে ভারতে যাচ্ছে। ভারতে যাতে বীজ রফতানি করা যায় সে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য সরকারকে বারবার জানানো হয়েছে। কিন্তু কোনো উদ্যোগ দেখছি না। লাল তীর গত বছর ১২ লাখ ডলারের বীজ রফতানি করেছে। আমরা প্রায় ১৫টি জাতের বীজ রফতানি করছি। এবার হয়তো রফতানি ১৫ লাখ ডলার হতে পারে। এ সনদ রফতানি বৃদ্ধিতে আরো ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।’

এ সময় জেনারেল ম্যানেজার ড. আব্দুর রশিদসহ কোম্পানির অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত খবর