তীব্র খাদ্য ঝুঁকিতে দক্ষিণ সুদানে ৮০ লাখ মানুষের জীবন

দক্ষিণ সুদানে যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি ও জলবায়ু সঙ্কটের কারণে প্রায় ৮০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যঝুঁকিতে পড়েছে। জাতিসঙ্ঘ ও সহায়তাসংস্থাগুলো বলছে, শিশু অপুষ্টি ও মানবিক বিপর্যয় ভয়াবহ আকার নিচ্ছে এবং দ্রুত সহায়তা না এলে পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে।

দক্ষিণ সুদানের আকাশজুড়ে এখন ঘোরতর দুর্ভিক্ষের ছায়া। প্রায় ৮০ লাখ মানুষ, অর্থাৎ দেশটির অর্ধেকের বেশি জনসংখ্যা এখন ভয়াবহ ক্ষুধার্ত অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে। জাতিসঙ্ঘ ও বিশ্বের সুপরিচিত দাতা সংস্থাগুলো বলছে, এখনই ব্যবস্থা না নিলে সামনে এক অপূরণীয় মানবিক বিপর্যয় অপেক্ষা করছে যা হয়তো আর সামাল দেয়া যাবে না।

যুদ্ধের কারণে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানো মানুষ আর জলবায়ু পরিবর্তনের ধাক্কায় পুরো দেশটি এখন ভয়াবহ সমস্যার কিনারায় দাঁড়িয়ে আছে। দাতা সংস্থাগুলো বারবার সতর্ক করছে, একটি বড় মাপের মানবিক বিপর্যয় ঠেকানোর জন্য সময় খুব দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

পরিসংখ্যানের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে শিশুদের করুণ দশা। গত ছয় মাসে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় এক লাখ। বর্তমানে প্রায় ২২ লাখ শিশু তীব্র অপুষ্টির শিকার, আর তাদের মধ্যে অন্তত সাত লাখ শিশুর অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে তারা প্রায় নিশ্চিত মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

দেশটির বর্তমান বিরাজমান পরিস্থিতির কারণে অনেক পুষ্টি সেবাকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা লড়াইয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রয়োজনীয় তহবিলের অভাব আর রসদ সঙ্কটে জীবনদায়ী চিকিৎসা সেবাটুকুও এখন মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে।

দক্ষিণ সুদান বিশ্বের কনিষ্ঠতম দেশ হলেও শুরু থেকেই লেগে থাকা জাতিগত সঙ্ঘাত আর প্রতিবেশী সুদান থেকে উপচে পড়া যুদ্ধের আঁচ সাধারণ মানুষের জীবনকে বিষিয়ে তুলেছে।

অর্থনৈতিক সঙ্কট এই পরিস্থিতির সাথে যোগ হয়ে মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৮ সালের শান্তি চুক্তির মাধ্যমে সাত বছর আগে যে গৃহযুদ্ধ থামার আশা জেগেছিল, সেই চুক্তি এখনো ঝুলছে।

প্রেসিডেন্ট সালভা কির এবং বরখাস্ত হওয়া ভাইস প্রেসিডেন্ট রিয়েক মাচারের পুরনো শত্রুতা আবারো দেশটিকে বড় কোনো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বর্তমানে রাজধানী জুবায় মাচারের বিচার চলছে, আর অন্যদিকে সরকারি বাহিনীর সাথে বিরোধী দলগুলোর লড়াই দিন দিন বাড়ছে। যুদ্ধের দামামা আর ক্ষুধার জ্বালায় পিষ্ট দক্ষিণ সুদানের এই অসহায় মানুষগুলো এখন তাকিয়ে আছে বিশ্ব সম্প্রদায়ের দিকে।

সম্পর্কিত খবর