প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড
‘‘ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে জহির উদ্দিনের দায়িত্ব পালন বে-আইনী” সংবাদের প্রতিবাদ
একটি অনলাইন নিউজ পোর্টালে ২৫ জুন প্রকাশিত ‘‘ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা পদে জহির উদ্দিনের দায়িত্ব পালন বে-আইনী” শীর্ষক সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রগ্রেসিভ লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) গোলাম মোস্তফা আহমেদ।
লিখিত প্রতিবাদলিপিতে গোলাম মোস্তফা আহমেদ বলেন, প্রকাশিত সংবাদটি তথ্য বহুল নহে এবং অনেকটা ভুল তথ্যে ভরপুর এবং বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনাটি একতরফা, তথ্য ভিত্তিক নহে এবং অন্যের দ্বারা প্ররোচিত হয়ে পক্ষাশ্রিত, অন্যায়, বে-আইনী ও রাগ-অনুরাগের বহি:প্রকাশ ও অসত্য। প্রকৃত সত্য ঘটনা হলো- মাননীয় পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতিক্রমে জনাব মোঃ জহির উদ্দিন কে সর্বশেষ উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে পদোন্নতি প্রদান করে। উহার অব্যবহিত পূর্বে তিনি এসইভিপি [সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট] পদ মর্যাদায় কোম্পানী সচিব হেড অব এইচ.আর, লিগ্যাল এবং উন্নয়ন প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব পালন করেন। উপর্যুক্ত পদ সমূহ পরিচালনা পর্ষদ সর্বসম্মতিক্রমে প্রদান করে। কোম্পানী সচিব আইনের বিধান মতে একটি সংবিধিবদ্ধ পদ, ইহা কোন পদবী নহে। পদবী পূর্বে উল্লিখিত হয়েছে। সম্মানিত কর্তৃপক্ষের স্মারক নং৫৩.০৩.০০০০.০৫২.১১.০০৭.২২.৪৪ তারিখ: ২৮ জুলাই, ২০২২ এর বিপরীতে কোম্পানী পত্র সূত্র নং-এইচও/এইচ.আর-০০০৫৩০/২০২২ তারিখঃ ০৮/০৮/২০২২ইং এর মর্মমতে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব মোঃ জহির উদ্দিন কোম্পানীর দ্বিতীয় ব্যক্তি এবং অব্যবহিত নিম্ম পদধারী হিসাবে প্রেরণ করে, যা আইডিআরএ নথিভূক্ত করে (সংযুক্ত) এবং গৃহীত হয়। অত:পর কোম্পানী হতে অপসারিত লুটেরা চক্র বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কে ভুল বুঝিয়ে গত ১৮/০৬/২০২৩ইং তারিখে স্মারক নং: ৫৩.০৩.০০০০.০৬৯.৬৩.০২২.১৯.১৪ এর মাধ্যমে এইচ.আর, লিগ্যাল ও উন্নয়ন প্রশাসন এর দায়িত্ব পালন নিয়ম বহির্ভূত উল্লেখ করে কর্তৃপক্ষ হতে অব্যাহতি দেয়ার যে পত্রটি আনয়ন করে উহা আইন ও নিয়ম বিরুদ্ধ। কর্তৃপক্ষ এ ক্ষেত্রে অভিভাবক সুলভ আচরণ করছে না, ব্যক্তি বিশেষ কে টার্গেট করে রাগ-অনুরাগে এমন অন্যায় নিপীড়নমূলক আচরন করছেন, যা বীমা সেক্টরের অভিভাবক প্রতিষ্ঠানের নিকট কোম্পানী বা বীমা শিল্প আশা করে না। অথচ গত ১০/০৫/২০২৩ ইং তারিখে এইচ.আর ১৮/০৬/২০২৩ইং তারিখে ভারপ্রাপ্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হওয়ায় লিগ্যাল ও উন্নয়ন প্রশাসন বিভাগ হতে স্বেচ্ছায় অব্যাহতি দেন কিন্তু আইডিআরএ এ সম্পর্কিত স্মারকটি অনুচিত প্রভাবে প্রভাবিত হয়ে ১৯/০৬/২০২৬ইং প্রদান করে, যা কাংখিত ছিল না। এ বিষয়ে মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয় ২০ জুন, ২০২৩ইং তারিখে এবং কোম্পানীর প্রচলিত প্রশাসনিক কার্যক্ষেত্রে উল্লিখিত এবং আইডিআরএ এর সার্কুলার নং-জিএডি-০৬/২০২১ এর মর্মমতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার অব্যবহিত নিম্ম পদধারী জনাব মোঃ জহির উদ্দিন কোম্পানীর সংঘবিধির ১২৬ বিধিমতে আমার নির্দেশে রেজুলেশন বাই সার্কুলেশন দ্বারা সম্মানিত পরিচালনা পর্ষদের মাননীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের ই-মেইলে প্রদত্ত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসাবে (৫-৩) দায়িত্ব প্রদানের বিষয়টি কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়। উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানী সচিব জনাব মোঃ জহির উদ্দিন অসংখ্যবার পেশাগত হয়রানি, সম্মানহানী, পেশাগত ক্ষতি ও শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন হতে রক্ষার আকুল আবেদন জানিয়ে কর্তৃপক্ষের মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয় কে তিনটি আবেদন করেন। কিন্তু কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহন করেন নাই। তাই তিনি অদৃশ্য কারণে ভূক্তভোগী ও জুলুমের শিকার। গত ১৯/০৬/২০২৩ইং তারিখে মাননীয় চেয়ারম্যান মহোদয় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কে অবহিত করা হলেও এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কোনরূপ তদন্ত না করে অজ্ঞাত কারণে এরূপ পত্র দিয়েছেন, যা আইনের দৃষ্টিতে অচল ও তথ্য ঘটনার প্রেক্ষিতে খুবই মন্দ। এতে কর্তৃপক্ষের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হতে বাধ্য, যা ওয়েব সাইটে কোম্পানী সচিব উল্লেখ আছে এমন হাস্যকর তথ্য দিয়ে বে-আইনী বলা হচ্ছে। কোম্পানী সচিব আইনের বিধান মতে সংবিধিবদ্ধ পদ, তবে তিনি একই সাথে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বটে। কোম্পানীর Organogram মতে দ্বিতীয় প্রধান ব্যক্তি।

যেহেতু, পরিচালনা পর্ষদের সংখ্যা গরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে জনাব জহির উদ্দিন মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হয়েছেন, যেহেতু, সর্বসম্মতভাবে মাননীয় পর্ষদের সিদ্ধান্ত আসেনি, যেহেতু, তিনি উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও কোম্পানী সচিব, সেহেতু, মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে বিব্রত হয়ে অনিবার্য কারণবশত: ২৫/০৬/২০২৩ইং সকল ১০:০০ ঘটিকায় মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার (ভারপ্রাপ্ত) পদ হতে ২৬ জুন, ২০২৩ইং অপরাহ্ন হতে পদত্যাগ করে উহা কোম্পানীর চেয়ারম্যান বরাবর প্রেরণ করেন, যা এখনও পর্ষদ কর্তৃক গৃহীত হয়নি এবং উক্ত সংবাদ Listing Company হিসাবে অর্থাৎ উক্ত ঘটনা Material Fact হওয়ায় কর্তৃপক্ষসহ মাননীয় চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ সকল রেগুলেটরিতে প্রেরণ করা হয়। কর্তৃপক্ষ পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা নিয়োগ করতে বললেও জনাব শাহজাহান আজাদীর নামে একটি আইন বহির্ভূত ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে সার্কুলার জারী করে তাকে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসাবে কথিত দায়িত্ব প্রদান করার কথা বলা হয়েছে, যা আইন সিদ্ধ নহে।
এখানে উল্লেখ্য যে, জনাব আজাদী বর্তমান কর্মস্থল চট্টগ্রাম। সে মাঠ কর্মকর্তা। মাঠ কর্মকর্তার জন্য অত্র কোম্পানীতে কোন Organogram নেই। তবে কর্তৃপক্ষের জিএডি সার্কুলার ০৯/২০২১ বাস্তবায়নের কাজ প্রক্রিয়াধীন। আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অনুধাবন করবেন এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ব্যতিরেকে যে সার্কুলার জারী করে জনাব আজাদী কে কথিত মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তার ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে যা, বে-আইনী কার্যকলাপ ও অপরাধ। প্রকাশিত প্রতিবেদনে লিখা হয়েছে, জনাব শাহজাহান আজাদী কে মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা হিসাবে নিয়োগ দিয়েছেন, উহা কি আইন সম্মত? পরিচালনা পর্ষদ বিদ্যমান আছে, চেয়ারম্যান আছে। তাহলে এটি কি বীমা সেক্টরের অভিভাবক হিসাবে আইডিআরএ অনুসন্ধান বা তদন্ত না করে এবং তাদের চাহিদা মতে প্রেরিত কোম্পানীর অব্যবহিত নিম্ম পদে পদধারী কে, তা যাচাই না করে পত্র প্রদান, আইনের প্রতি কর্তৃপক্ষ শ্রদ্ধাশীল নয় এবং একপেশে আচরন করছেন মর্মে প্রতীয়মান হচ্ছে, যা বীমা শিল্পের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হতে পারে না। আইডিআরএ জনগণের প্রতিষ্ঠান, বীমা পেশাজীবী ও বীমা কর্মকর্তা কর্মচারীদের অভিভাবক ও শেষ আশ্রয় ও ভরসার স্থল। কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি বা প্রতিষ্ঠান নহে এবং কেউ আইনের উর্দ্ধে নহে।
প্রতিবেদনের এক জায়গায় লিখা হয়েছে, নানান অভিযোগের প্রেক্ষিতে, গত ১৮ জুন জহির উদ্দিন কে কোম্পানী সচিব ব্যতিত প্রগ্রেসিভ লাইফের অন্য সকল পদ হতে অব্যাহতির নির্দেশ দিয়েছে আইডিআরএ। এটি মনগড়া এবং বানোয়াট। প্রগ্রেসিভ লাইফের ঘটনা নিয়ে গত ২০/০৬/২০২৩ ইং পল্টন থানার সাধারন ডাইরী নং-১৩২৩ রুজু করা হয়েছে, যা তদন্তাধীন।
আরো পড়ুন:
মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কোন পদ নহে, অতিরিক্ত দায়িত্ব মাত্র। মাননীয় পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব দিয়েছেন, জনাব জহির সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বিব্রত হয়ে পদত্যাগ করছেন।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষে পদত্যাগ পত্র প্রেরণ করা হয়েছে ২৫/০৬/২০২৩ইং ১:১৫ মিনিটে ই-মেইলে এবং হার্ড কপি একই সময়ে জমা দেয়া হয়েছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ ইহা আমলে গ্রহন না করে একই তারিখে ২:৩৩ মিনিটে ই-মেইলে আলোচ্য পত্রটি পাঠায়, যা ষড়যন্ত্র ও হয়রানিমূলক। কর্তৃপক্ষিয় প্রতিষ্ঠান বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের এরূপ অসত্য এবং ওয়েব সাইট দেখে সিদ্ধান্ত ও পত্র প্রদান নিশ্চয় অনুসন্ধান বা তদন্ত বলা যায় না বরং ব্যক্তি কেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত হিসাবে বলা যায়, যা বে-আইনী।
উল্লেখ্য, একজন সাংবাদিক জনাব জহির কে ফোন করেছিলেন, তখন জনাব জহির ভার্চুয়ালী উন্নয়ন সভায় বক্তব্যরত। তাই সম্মানিত সাংবাদিক তাকে ১ ঘন্টা পরে ফোন করবেন বলেছিলেন, কিন্তু করেন নি।
তাছাড়া, জনাব জহির একজন ব্যক্তিমাত্র। কোন পাবলিক লিঃ কোম্পানী ব্যক্তি বিশেষের কথায় চলে না এবং ব্যক্তি বিশেষের মতামতের কোন মূল্য নেই। এখানে কর্তৃপক্ষ আছে, বিজ্ঞ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন আছে, ষ্টক এক্সচেঞ্জ আছে, আরো রেগুলেটরি আছে। তাছাড়া, আইন, বিধি এবং পরিচালনা পর্ষদ দ্বারা প্রগ্রেসিভ লাইফের কর্মকান্ড পরিচালিত হয়। জনাব জহিরের দখলে প্রগ্রেসিভ একথা সত্য নহে। জনাব জহির একজন নির্ভিক, উচ্চ শিক্ষিত, সৎ সাহসী ও মেধাবী নির্বাহী এবং ইন্স্যুরেন্স সেক্টরের অভিজ্ঞ ও দক্ষ নির্বাহী। সে কোম্পানীর স্বার্থে আইন, বিধি ও পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত পরিপালনের মাধ্যমে সৎ ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করায় তার প্রতি অন্যাভয় ভাবে মিথ্যা অপবাদ দেয়া হচ্ছে। কাজ না করলে এরূপ অপবাদ আসত না। কেউ পর্ষদ সিদ্ধান্ত ও আইন অমান্য করলে আইন ও বিধি মতে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মূলত সংবাদটি প্রকাশ করা হয়েছে কর্তৃপক্ষের ভুল তথ্যে এবং কর্তৃপক্ষ জনাব মোঃ জহির উদ্দিনের প্রতি অন্যায় করছেন মর্মে আমি ও আমার পরিচালনা পর্ষদের নিকট প্রতীয়মান হয়েছে। সাক্ষী মিথ্যা বললেও পারিপাশ্বিক অবস্থা মিথ্যা বলে না। কর্তৃপক্ষের পত্রগুলো তার জলন্ত উদাহরণ। উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক জহির উদ্দিন আইন ও কর্তৃপক্ষের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, নিরীহ নাগরিক। মিথ্যা অপবাদ, পেশাগত ক্ষতি, সুনামহানী এবং শারিরীক ও মানসিক নির্যাতনে ভুক্তভোগী। তাই প্রকৃত সংবাদ পরিবেশন করে পাঠক কে প্রকৃত ঘটনা জানানো প্রয়োজন ছিলো। আমরা প্রকাশিত সংবাদের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।


