বাজারে স্থিতি ফেরাতে পারে সৌদি আরব ও ইউএই
সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বাজারে চলমান অস্থিরতা কাটিয়ে স্থিতি ফেরাতে পারে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)।
প্যারিসভিত্তিক সংস্থাটি সম্প্রতি জ্বালানি তেলের বাজারসংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে জানায়, অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের সরবরাহ খাতে যেসব ঝুঁকি রয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য নিজেদের অতিরিক্ত উত্তোলন সক্ষমতা যথাযথ ব্যবহারের মাধ্যমে সেগুলো কমিয়ে আনতে পারে। মধ্যপ্রাচ্যের মধ্যে সৌদি আরব ও ইউএইর জ্বালানি তেল উত্তোলন সক্ষমতা সবচেয়ে বেশি।
আইইএ বলছে, জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর মিত্র জোট ওপেক প্লাস উত্তোলন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে অনেক আগেই। জোটটি দৈনিক ৪৩ লাখ ব্যারেল করে বাজারে সরবরাহ বাড়াচ্ছে। এ কারণে জোটভুক্ত সৌদি আরবের অতিরিক্ত সক্ষমতা দৈনিক ২৫ লাখ ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। অতিরিক্ত সক্ষমতার দিক থেকে সৌদি আরবের পরই রয়েছে ইউএইর অবস্থান। দেশ দুটি সক্ষমতা অনুপাতে উত্তোলন বাড়ালে একদিকে যেমন সরবরাহ সংকট কাটবে, অন্যদিকে তেমনি কমে আসবে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম।
বাজার পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান ওয়ান্ডার ঊর্ধ্বতন বিশ্লেষক ক্রেইগ এরলাম বলেন, চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আইইএ। সম্প্রতি দেয়া এ পূর্বাভাসের পরই পণ্যটির দাম বেড়ে যায়। সংস্থাটি আরো জানায়, গত মাসে ওপেক প্লাস ব্যাপকভাবে জ্বালানি তেল উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে।
বর্তমানে জোটটি প্রতি মাসে দৈনিক চার লাখ ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করছে। আইইএ জানায়, গত মাসে উত্তোলন ও লক্ষ্যমাত্রার ব্যবধান ছিল নয় লাখ ব্যারেল।
এদিকে চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা আরো তীব্রভাবে বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে ওপেক। বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেল ছাড়াবে। ওপেকের তথ্য অনুসারে, সর্বশেষ ২০১৯ সালে জ্বালানি পণ্যটির ব্যবহার দৈনিক ১০ কোটি ব্যারেলের বেশি ছিল।



