রুশ এলএনজির মূল্য পরিশোধ নিয়ে ধাঁধায় এশীয় ক্রেতারা
রাশিয়া থেকে জ্বালানি পণ্য আমদানি নিয়ে ধাঁধায় পড়েছে এশিয়ার ক্রেতা দেশগুলো। সম্প্রতি জ্বালানি পণ্যের মূল্য পরিশোধ নিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এক ঘোষণায় এ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইউক্রেনে সামরিক অভিযানের জের ধরে বন্ধুভাবাপন্ন নয় এমন দেশের তালিকা তৈরি করে রাশিয়া। এ তালিকায় থাকা দেশগুলোকে আমদানীকৃত জ্বালানির মূল্য রুবল (রাশিয়ার মুদ্রা) দ্বারা পরিশোধ করার নির্দেশ দেন পুতিন।
রাশিয়ার বন্ধুভাবাপন্ন নয় এমন দেশের তালিকায় জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও তাইওয়ান। এসব দেশ রাশিয়া থেকে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি করে। সাধারণত উল্লিখিত দেশগুলো রাশিয়ার পূর্বাঞ্চলের সাখালিন-২ ও ইয়ামাল এলএনজি প্রকল্প থেকে গ্যাস আমদানি করে।
সম্প্রতি পুতিন জানান, তার দেশ গ্যাস সরবরাহ চালু রাখবে এবং চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যেই গ্যাস সরবরাহ হবে। তবে রুশ গ্যাস আমদানি করা দেশগুলোকে ডলারের পরিবর্তে রুবলের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধ করতে হবে।
তবে রাশিয়া কীভাবে এটি বাস্তবায়ন করবে তা নিয়ে কোনো ধরনের ধারণা নেই রুশ এলএনজির শীর্ষ আমদানিকারক জাপানের। জাপানের অর্থমন্ত্রী সুনিচি সুজুকি বলেন, এ সম্পর্কে আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছি। আমরা এখনো বুঝতে পারছি না তাদের (রাশিয়া) উদ্দেশ্য কী আর তারা কীভাবে এটি প্রয়োগ করবে।
২০২১ সালে রাশিয়া থেকে ৬৮ লাখ ৪০ হাজার টন এলএনজি আমদানি করেছে জাপান, যা দেশটির আমদানীকৃত মোট এলএনজির পরিমাণের ৯ শতাংশ। রেফিনিটিভ ট্রেড ফ্লো ডাটা থেকে এমনটা জানা যায়।
এখন পর্যন্ত সাখালিন এনার্জি থেকে ইউএস ডলারের পরিবর্তে রুবলের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধে কোনো ধরনের নির্দেশনা পায়নি জাপানের শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান জেইআরএ। কোম্পানিটির এক মুখপাত্র এমনটা জানান। এ সময় রুবলে মূল্য পরিশোধসংক্রান্ত সব তথ্য সংগ্রহ করছে বলেও জানান তিনি।
টোকিও ইলেকট্রিক পাওয়ার কোম্পানি হোল্ডিংস ও চুবু ইলেকট্রিক পাওয়ারের যৌথ অংশীদারত্বে পরিচালিত জেইআরএ দীর্ঘময়াদি চুক্তির আওতায় সাখালিন-২ সরবরাহ লাইনের মাধ্যমে প্রতি বছর ২০ লাখ টন এলএনজি আমদানি করে। জাপান অয়েল, গ্যাস ও মেটাল ন্যাশনাল করপোরেশনের (জেওজিএমইসি) দেয়া তথ্যমতে এমনটা জানা যায়। রুবলের মাধ্যমে মূল্য পরিশোধসংক্রান্ত তথ্য নিয়ে উদ্বিগ্ন টোকিও গ্যাস ও ওসাকা গ্যাস কোম্পানিও। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠান দুটির মুখপাত্ররা এমনটা জানায়। প্রতিষ্ঠান দুটি জাপানের অভ্যন্তরীণ গ্যাস সরবরাহকারীদের মধ্যে শীর্ষ অবস্থানে।
জাপানের শীর্ষ এলএনজি আমদানিকারক টোকিও গ্যাস সাখালিন এনার্জির মাধ্যমে প্রতি বছর ১১ লাখ টন গ্যাস আমদানি করে। তবে এ চুক্তি নিয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে রাজি হয়নি কোম্পানিটির মুখপাত্র।
এশিয়া অঞ্চলে রাশিয়ান এলএনজির তৃতীয় শীর্ষ আমদানিকারক দক্ষিণ কোরিয়া। রাশিয়া থেকে গ্যাস আমদানি অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ অব্যাহত রাখতে চায় দেশটি। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার আর্থিক পরিষেবা কমিশন জানায়, বাণিজ্য অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে তারা।
কোরিয়া গ্যাস করপোরেশন (কেওজিএএস) জানায়, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ টন রাশিয়ান গ্যাস আমদানি করে তারা, যা কোম্পানিটির মোট আমদানির প্রায় ৬ শতাংশ। তবে তারা সরাসরি রাশিয়ার সঙ্গে লেনদেন করে না। সিঙ্গাপুরে অবস্থিত একটি জাপানি ব্যাংকের মাধ্যমে তারা সাখালিন এনার্জির সঙ্গে লেনদেন করে।
কেওজিএএসের এক কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু আমরা জাপানি ব্যাংকের মাধ্যমে লেনদেন পরিচালনা করি, সুতরাং এটি (রুবল দ্বারা মূল্য পরিশোধ) আমাদের জন্য কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে না। তবে আমরা পরিস্থিতি খুব সচেতনভাবে পর্যবেক্ষণ করছি।
তাইওয়ানের অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি মাসের শেষ নাগাদ রাশিয়া থেকে গ্যাসের একটি সরবরাহ আমদানি করছে রাষ্ট্রায়ত্ত সিপিসি করপোরেশন। তবে মূল্য পরিশোধসংক্রান্ত কোনো পরিবর্তনের নীতি তাদের জানা নেই।



