মেঝে খুঁড়ে পাওয়া গেল কলেজছাত্রের ১০ টুকরো লাশ

ঈশ্বরদী উপজেলা থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর এক যুবকের ১০ টুকরো লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে উপজেলার নওদাপাড়া গ্রামের চাঁদ আলী নামের এক ব্যক্তির ঘরের মেঝে খুঁড়ে টুকরো টুকরো লাশটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া লাশটি নাইমুল ইসলাম ওরফে হৃদয় (২৫) নামের এক যুবকের। তিনি পাবনার নতুন রূপপুর গ্রামের মজনু মোল্লার ছেলে। পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি।

পুলিশ সূত্র জানায়, অভিযোগ পাওয়ার পর পুলিশ অভিযানে নামে। সোমবার আটক করা হয় হামান নামক যুবককে। তার তথ্য অনুযায়ী দাশুড়িয়া-লালন শাহ সেতু মহাসড়কের নওদাপাড়া দোতলা মসজিদ সংলগ্ন চাঁদ আলী নামের এক ব্যক্তির বাড়ি থেকে হৃদয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। চক্রটি ওই বাড়িটি ভাড়া নিয়ে তাদের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছিল।

হৃদয়ের বাবা মজনু জানান, অপহরণের পর শুক্রবার বিকেলে একবার আমার ছেলের মোবাইল থেকে আমাকে কল করে ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। অপহরণের দিনই থানায় অভিযোগ লিখিত করেছিলাম।

ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আসাদুজ্জামান আসাদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হৃদয়কে অপহরণের পর ৪০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে এমন অভিযোগ করা হয় পরিবারের পক্ষ থেকে। অভিযোগ পেয়ে আমরা অভিযান শুরু করি। সোমবার সন্দেহজন ভাবে হাসান নামক এক যুবককে আটক করে পুলিশ। তার তথ্যে হৃদয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়। লাশটি দশ টুকরো করে একটি ব্রিফকেসে পুরে পলিথিন দিয়ে মুড়িয়ে মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়েছিল।

এ ঘটনায় হৃদয়ের বাবা মজনু আলী বাদী হয়ে গতকাল ঈশ্বরদী থানায় হত্যামামলা দায়ের করেছেন। ওই মামলায় হাসানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা জানতে হাসানকে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। গ্রেপ্তারকৃত হাসানের বাড়ি পাবনা শহরের পৈলানপুর এলাকায় বলে জানান ওসি।

সম্পর্কিত খবর