শিরোনাম
icon আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় আইরিশ ক্রিকেটার icon বিটিএমএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম ইসলাম icon বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন icon ২০২৭ সালে সরকারি ছুটি ২৯ দিন icon বিসিএসএ কোটা জালিয়াতি: আইডিআরএ পরিচালক ওএসডি icon ১২ কেজি এলপিজির দাম ২২৩ টাকা বৃদ্ধি icon তরুণদের ২০ লাখ টাকা ঋণের আবেদন শুরু icon ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা icon স্বর্ণের দামে বড় লাফ icon গুলশানে গোল্ড কিনেনের প্রথম সেন্টার উদ্বোধন icon ডেঙ্গুতে ৬ জনের মৃত্যু, ভর্তি ১৯৭০ icon ৫ নভেম্বর শুরু হচ্ছে ৩০তম ইউএস ট্রেড শো icon দর বৃদ্ধির শীর্ষে সিলভা ফার্মাসিউটিক্যালস icon লেনদেনের শীর্ষে ইভেন্স টেক্সটাইল icon আজও সূচক ও লেনদেনের পতন icon কোটি কোটি টাকা লুট সোনার বাংলায়, কারাগারে খালেক icon রাত ১০টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা রাখার দাবি ব্যবসায়ীদের icon নামসর্বস্ব আমদানি-রপ্তানিতে ১০২ কোটি টাকা ফাঁকি icon ইসলামী ইন্স্যুরেন্সের পর্ষদে আইডিআরএর পর্যবেক্ষক নিয়োগ icon হাওয়েল টেক্সটাইলের বোর্ড সভা ৫ নভেম্বর icon নাহি অ্যালুমিনিয়ামের বোর্ড সভা ৪ নভেম্বর icon পাওয়ার গ্রীডের বোর্ড সভা ৮ নভেম্বর icon ডরিন পাওয়ারের বোর্ড সভা ৫ নভেম্বর icon ডেসকোর বোর্ড সভা ৫ নভেম্বর icon মিশ্র সূচকে এক ঘণ্টায় লেনদেন ১২৮ কোটি টাকা
down of head

টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিক, ব্যবস্থা নিচ্ছে বিএসটিআই

সম্প্রতি এক বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত গবেষণায় টুথপেস্টের ৩৪টি নমুনার মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়ায় জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায় বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিএসটিআই জানিয়েছে, তারা নিজ উদ্যোগে বাজার ও কারখানা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দেশি বা বিদেশি স্বীকৃত পরীক্ষাগারে পুনরায় পরীক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। যদি পরীক্ষায় প্রমাণিত হয় যে, কোনো পণ্য বাংলাদেশ মান পূরণ করেনি অথবা অনুমোদনহীন উপাদান ব্যবহার করা হয়েছে, তাহলে প্রচলিত আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটার বা তার চেয়ে ছোট আকারের ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা, যা খালি চোখে সাধারণত দেখা যায় না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি উদীয়মান পরিবেশগত ও স্বাস্থ্যগত উদ্বেগের বিষয়। মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে এখনো গবেষণা চলমান। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক মাইক্রোপ্লাস্টিকের স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

সর্বপ্রথম যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে টুথপেস্টসহ কসমেটিকস পণ্যে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। ইউরোপীয় আইনে টুথপেস্টসহ কসমেটিকস পণ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধে উৎপাদনকারীদেরকে ২০২৭ সালের ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে বিশ্বের অনেক দেশেই টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে সংযোজিত প্লাস্টিকের মাইক্রোবিড ব্যবহার নিষিদ্ধ। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা প্রভৃতি দেশের স্ট্যান্ডার্ডে বা আইএসও, এএসটিএম প্রভৃতি আন্তর্জাতিক মান সংস্থা প্রণীত মানে টুথপেস্ট পণ্যের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিকের কোনো মাত্রা বা ব্যবহার নিষিদ্ধের বিষয় উল্লেখ নেই। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে টুথপেস্টে অনিচ্ছাকৃতভাবে থাকা মাইক্রোপ্লাস্টিকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট গ্রহণযোগ্য সীমা বা একক পরীক্ষাপদ্ধতি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি।

টুথপেস্ট পণ্যের জন্য ‘বিডিএস ১২১৬ :২০১২ স্পেসিফিকেশন ফর টুথপেস্ট’ শিরোনামে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড রয়েছে। এসআরও নম্বর ৫০-আইন/২০১৯ এবং এসআরও নম্বর ৫১-আইন/২০১৯ জারির মাধ্যমে সরকার টুথপেস্ট বিক্রি-বিতরণের ক্ষেত্রে বিএসটিআই থেকে ওই স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী রাসায়নিক, মাইক্রোবায়োলজিক্যাল ও সেফটি প্যারামিটার পরীক্ষার পর লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক করেছে।

বিএসটিআই প্রণীত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহার সংক্রান্ত সরাসরি কোনো বিধি-নিষেধ না থাকলেও ওই স্ট্যান্ডার্ডে টুথপেস্ট উৎপাদনে ব্যবহারযোগ্য ৮১টি উপাদানের তালিকা দেওয়া হয়েছে, যেখানে মাইক্রোপ্লাস্টিক উল্লেখ নেই। বিএসটিআই থেকে সনদ দেওয়ার সময় টুথপেস্ট উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের মান নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা যাচাই করা হয়, বিধায় টুথপেস্ট উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইচ্ছাকৃতভাবে মাইক্রোপ্লাস্টিক ব্যবহারের সুযোগ নেই।

শুধু কোনো পরীক্ষায় প্লাস্টিকজাত কণা পাওয়া গেছে বলেই সেটি উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইচ্ছাকৃতভাবে ব্যবহার করেছে বা সেটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো বৈজ্ঞানিকভাবে সঠিক নয়। এ জন্য আরও বিস্তারিত পরীক্ষা, কণার ধরণ, উৎস, পরিমাণ এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি মূল্যায়ন প্রয়োজন।

এ কারণে বিএসটিআই এরই মধ্যে সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে গবেষণার পূর্ণাঙ্গ তথ্য, পরীক্ষা পদ্ধতি, পরীক্ষার র ডাটা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য চেয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট উৎপাদনকারী ও আমদানিকারকদের কাছ থেকেও কাঁচামাল, পণ্যের উপাদান এবং সিনথেটিক পলিমার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পূর্ণাঙ্গ বৈজ্ঞানিক ও আইনগত যাচাই ছাড়া কোনো ব্র্যান্ড বা টুথপেস্টকে অনিরাপদ বা নিম্নমানের বলে ঘোষণা করাও সঠিক হবে না বলে মনে করছে বিএসটিআই।

সংস্থাটি আরও বলেছে, এরই মধ্যে বিশেষজ্ঞ, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, পরিবেশ অধিদপ্তর, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর, দন্ত চিকিৎসক, শিল্পপ্রতিষ্ঠান এবং ভোক্তা প্রতিনিধিদের নিয়ে টুথপেস্টের বাংলাদেশ মান পর্যালোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় বৈজ্ঞানিক প্রমাণ পাওয়া গেলে টুথপেস্টে ইচ্ছাকৃতভাবে প্লাস্টিক মাইক্রোবিড ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ, উপাদান প্রকাশের বাধ্যবাধকতা এবং পরীক্ষাপদ্ধতি সংযোজনসহ বাংলাদেশ মান হালনাগাদ করা হবে।

সম্পর্কিত খবর