মুনাফায় ফিরেছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক
সমস্যায় জর্জরিত পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক লিমিটেড লোকসান থেকে মুনাফায় ফিরেছে। চলতি ২০২২ হিসাব বছরে প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে প্রায় ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল প্রায় ২১ কোটি ২৬ লাখ টাকার বেশি। অন্যদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-মার্চ) ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা হয়েছে ১০ কোটি ৯ লাখ টাকার বেশি। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১১ কোটি ৩৩ লাখ টাকার বেশি।
গতকাল প্রকাশিত ব্যাংকটির দ্বিতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি হিসাব বছরের প্রথমার্ধে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) হয়েছে ২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৩২ পয়সা। অন্যদিকে দ্বিতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির ইপিএস হয়েছে ১৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে লোকসান ছিল ১৭ পয়সা। ৩০ জুন ২০২২ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ১২ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে এ দায় ছিল ১৭ টাকা ৮৬ পয়সা।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ না দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫৯ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরে লোকসান ছিল ২৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২১ শেষে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট দায় দাঁড়িয়েছে ১৮ টাকা ১৩ পয়সা। আগের হিসাব বছরে এ দায় ছিল ১৭ টাকা ৫৪ পয়সা।
১৯৯০ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকটির বর্তমান অনুমোদিত মূলধন দেড় হাজার কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ৬৬৪ কোটি ৭০ লাখ ২০ হাজার টাকা। পুঞ্জীভূত লোকসান ১ হাজার ৮৩০ কোটি ৬৩ লাখ টাকা।
উল্লেখ্য, ৬৫০ কোটি টাকার আর্থিক জালিয়াতির কারণে ২০০৬ সালে ওরিয়েন্টাল ব্যাংক অধিগ্রহণ করে বাংলাদেশ ব্যাংক। কতিপয় শেয়ার হোল্ডার বিধি লঙ্ঘন করে ১০ শতাংশের বেশি এবং বেনামে ওরিয়েন্টাল ব্যাংকের শেয়ার ধারণ করেছিল। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় এবং ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(ক) ধারা লঙ্ঘন করায় শেয়ারধারীদের ৮৬ দশমিক ৩৪ শতাংশ শেয়ার বাংলাদেশ ব্যাংক নিজের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়। যার অভিহিত মূল্য ছিল ৪৪৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংক পরে এতে প্রশাসক বসায়। ব্যাংকটি থেকে আমানতকারীরা তখন টাকা তুলতে গেলে তারল্য সংকটে পড়ে এ ব্যাংকটি। এরপর আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে সাড়ে ছয় বছর সময় দিয়ে ২০০৭ সালে একটি স্কিম বা কর্মসূচি চালু করা হয়। যদিও পরবর্তী সময়ে কয়েক দফা ওই স্কিমের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। নতুন স্কিমে ব্যাংকটির পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৭০০ কোটি টাকা। এর ৫২ দশমিক ৬৭ শতাংশ শেয়ার উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মালয়েশিয়ার মালিকানাধীন আইসিবি ফাইন্যান্সিয়াল গ্রুপ হোল্ডিংস এজির কাছে বিক্রি করা হয়। পুনর্গঠনের পর ব্যাংকটির নামকরণ হয় আইসিবি ইসলামী ব্যাংক লিমিটেড।


