down of head

মুক্তিপণ দিয়েও মিলল ব্যবসায়ীর লাশ

চাঁদপুরের নিখোঁজ ব্যবসায়ী হান্নান মৃধাকে (৩৭) জীবিত ফেরত দিতে ১ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। বিকাশের মাধ্যমে ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে তার পরিবার। কিন্তু তাতেও শেষ রক্ষা হলো না। অবশেষে ১৩ দিন পর যশোরের বেনাপোলে মিলেছে তার লাশ।

হান্নান মৃধা চাঁদপুর পৌরসভার ১৫নং ওয়ার্ডের বিষ্ণুদী মৃধা বাড়ি এলাকার আবুল হোসেন মৃধার ছে‌লে। শহরের বিষ্ণুদী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে তার একটি মুদি দোকান ছিল।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, ১৩ মার্চ সকাল ৯টায় যশোরের শার্শা থানা পুলিশ খবর পেয়ে একটি গাছের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় হান্নানের লাশ উদ্ধার করে। পরে চাঁদপুরে হান্নানের বাড়িতে খবর দিলে দুপুর ১টায় পরিবারের সদস্যরা লাশ আনতে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়।

তারা আরও জানায়, গত ১ মার্চ দুপুর ১টার দিকে হান্নান দোকান বন্ধ করে তার শ্বশুরবা‌ড়ি চাঁদপুর সদর উপ‌জেলার বিষ্ণপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের প্রধা‌নিয়া বা‌ড়িতে শিশু পুত্র সন্তানকে দেখতে যায়। শ্বশুরবাড়ি থে‌কে ফেরার প‌থে তিনি নি‌খোঁজ হন।

জানা যায়, ৭ মার্চ রাত ৩টা থেকে বেনাপোল থেকে অচেনা ব্যক্তিরা মোবাইলে কল দিয়ে নিখোঁজ হান্নান তাদের কাছে বলে জানায়। তাকে ফিরে পেতে মুক্তিপণ ১ লাখ টাকা চাওয়া হয়। হান্নানের ভাই ও আত্মীয় স্বজনরা তাদের কথা বিশ্বাস করে নিখোঁজ হান্নানকে তাদের সঙ্গে কথা বলতে বললে হান্নান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেছিল- ভাই আমাকে বাঁচান। তারপর তারা চাঁদপুর মডেল থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করেন। তবে ৫০ হাজার টাকা পরিবারের পক্ষ থেকে বিকাশে পাঠানো হয় বলে জানা যায়।

এদিকে অপহরণের পর হত্যা করার ঘটনায় এলাকাবাসী বিচারের দাবিতে রোববার বিকালে মানববন্ধন করেছে। হান্নান অপহরণ ও হত্যার বিষয়ে চাঁদপুর সদর মডেল থানায় পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে।

চাঁদপুর মডেল থানার ওসি নাসিম উদ্দিন জানান, হান্নান মৃধাকে অপহরণের পর ১ মার্চ নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে। চাঁদপুর মডেল থানা পুলিশ পরিবারের স্বজনের সঙ্গে লাশ আনতে ঘটনাস্থলে যায়। পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

 

সম্পর্কিত খবর