‘বীমা সহায়তা ও সমালোচক’ ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে থানায় জিডি
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকে নিয়ে অশ্লীল অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও নোংরামি চলছে। কুচক্রি মহল দীর্ঘ সময় প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। এই নিয়ে ‘বীমা সহায়তা ও সমালোচক’ নামের একটি ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করা হয়েছে। আজ সন্ধ্যায় জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন রাজধানীর মতিঝিল থানায় জিডি করেন।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, ‘বীমা সহায়তা ও সমালোচক’ ফেসবুক আইডি থেকে অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃত ব্যক্তি জেনিথ ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম নূরুজ্জামানের ছবি আপলোড করে। একইসঙ্গে বিভিন্ন পেশার মানুষের সাথে শত্রুতা সৃষ্টির জন্য অযাচিত, অনাকাঙ্ক্ষিত এবং মানহানীকর ও অপমান মূলক মন্তব্যও যুক্ত করে। যাহা উৎসুক লোকজন শেয়ার করছে। এতে করে জেনিথ ইসলামী লাইফ এবং সিইও এস এম নূরুজ্জামান বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং এতে ব্যাপক মানহানি ও সুনাম ক্ষুন্ন হচ্ছে। এই ফেইক ফেসবুক আইডির বে-আইনি কর্মকান্ড; আমাদের কোম্পানীর বিভিন্ন স্তরের বীমা কর্মী ও গ্রাহক কোম্পানীর সিইওকে জানালে তিনি বিস্মিত হন।
জিডিতে আরো উল্লেখ করা হয়, এ বিষয় সুনির্দিষ্ট তথ্য-উপাত্ত না থাকায়; বিষয়টি সাধারণ ডাইরী করা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে/ প্রয়োজন সাপেক্ষে মামলা করা হবে।
উল্লেখ্য, দেশে দিন দিন বাড়ছে সাইবার অপরাধ। বীমা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে টার্গেট করে ভুয়া আইডি দিয়ে চলছে বুলিং আর মিথ্যাচার। ‘বীমা সহায়তা ও সমালোচক’ নামের এই ফেসবুক ফেইক আইডির অজ্ঞাত ব্যক্তি দীর্ঘদিন বীমা খাতের একাধিক প্রতিষ্ঠান, চেয়ারম্যান, সিই এবং বিভিন্ন সম্মানিত ব্যক্তিদের জড়িয়ে কুৎসা এবং মিথ্যাচার করছে। আর এ ধরণের কর্মকান্ড বীমা খাতে জন্য অশনি সংকেত বলে মনে করছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভুয়া ও নকল আইডি সত্যি উদ্বেগজনক। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও ভুয়া বা নকল আইডির সংখ্যা বাড়ছে। অপরাধীরা সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্ন করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেহেতু বন্ধ করা সম্ভব নয়, তাই সরকারের পক্ষ থেকে এর নিয়ন্ত্রণ জরুরি হয়ে পড়েছে। সাইবার ক্রাইম দমনে পুলিশ ও অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। ফেসবুকের যে কোনো ফেক আইডির বিরুদ্ধে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশের কাছে রিপোর্ট করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লুকিয়ে থাকা অপরাধীদের দ্রুত খুঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে। ভুয়া ফেসবুক আইডি শনাক্ত করে ও এর পেছনের ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে।
সোস্যাল মিডিয়ায় অপপ্রচার বাড়ছে উল্লেখ করে নিজাম উদ্দিন বলেন, জেনিথ লাইফকে নিয়ে অশ্লীল অপপ্রচার, মিথ্যাচার ও নোংরামি চলছে। কুচক্রি মহল দীর্ঘ সময় জেনিথ লাইফের সুনাম ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। এই নিয়ে জিডি করা হয়েছে। এহেন অপর্কম বন্ধ না হলে অপরাধীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। এধরণের বিভ্রান্তি এড়াতে গ্রাহক ও শুভানুধ্যায়ীদের ফেইক আইডি থেকে সাবধান ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এ ধরণের সাইবার ক্রাইম বিব্রতকর ও বীমা খাতের জন্য অশনি সংকেত উল্লেখ করে সিইও এস এম নূরুজ্জামান বলেন, ভুয়া অ্যাকাউন্ট সোশ্যাল মিডিয়ার মতো জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্মে’র পরিবেশকে ক্রমশ প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে। এর ফলে সমাজে একদিকে যেমন ব্যক্তিগত হয়রানি বাড়ছে- তেমনি অন্যদিকে ব্যপকভাবে সমাজে অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ভুয়া ফেসবুক আইডির মাধ্যমে অপপ্রচার, গুজবসহ সামাজিক অবক্ষয় প্রতিরোধে এর লাগাম টানতে ব্যর্থ হলে পুরো জাতিকে চরম খেসারত দিতে হবে। এই ক্রমবর্ধমান সমস্যা মোকাবিলায় দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) এক কর্মকর্তা বলেন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সিটিটিসি কাজ করছে। ফেক আইডিটির সম্পূর্ণ প্রোফাইল লিংকসহ স্ক্রিনশট নিয়ে থানা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানানোর সুযোগ রয়েছে। একইসঙ্গে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে সরাসরি অভিযোগ জানানো যায়। অপরাধীদের চিহ্নিত করা সম্ভব হলে বিচারের আওতায় আসতে হবে।



