down of head

পদ্মা-যমুনার ভাঙনরোধে দেড় হাজার কোটি দেবে এডিবি-নেদারল্যান্ডস

দেশের অন্যতম প্রধান দুই নদী পদ্মা ও যমুনার ভাঙনরোধসহ বন্যা নিয়ন্ত্রণে বড় অঙ্কের সহায়তা (ঋণ ও অনুদান) দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) এবং নেদারল্যান্ডস।

‘ফ্লাড অ্যান্ড রিভারব্যাংক ইরোশন রিস্ক ম্যানেজমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রোগ্রাম (প্রজেক্ট-২)’ শীর্ষক এ প্রকল্পের আওতায় ১ হাজার ৪৮৬ দশমিক ৫৬ লাখ টাকা দেবে এডিবি ও নেদারল্যান্ডস। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৭৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা, অবশিষ্ট টাকা যাবে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।

মঙ্গলবার (১ মার্চ) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলন কক্ষে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে এ সংক্রান্ত চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ সরকার।

চুক্তিতে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন ও বাংলাদেশ আবাসিক মিশনের এডিবি’র কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং সই করেন।

প্রকল্পে এডিবি ঋণ সহায়তা দিচ্ছে ১৫ দশমিক ৭ কোটি ডলার। প্রতি ডলার সমান ৮৫ টাকা ধরে বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১ হাজার ৩৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এছাড়া ১ দশমিক ৭৯ কোটি ডলার দেবে নেদারল্যান্ডস, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা প্রায় ১৫২ কোটি টাকা।

প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে ১৫ হাজার ৪০০ হেক্টর জমি ভাঙন থেকে রক্ষা করা হবে। এতে সরাসরি উপকৃত হবে পাঁচ লাখ মানুষ। এছাড়া চাষাবাদের আওতায় আসবে ৮ হাজার হেক্টর চরাঞ্চলীয় জমি।

প্রকল্প প্রসঙ্গে এডিমন গিনটিং বলেন, প্রকল্পটি জলবায়ু মোকাবিলায়ও কাজ করবে। এছাড়া দেশের সবুজায়নেও অনেক ভূমিকা রাখবে। এজন্য এডিবি সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দারিদ্র্য কমানো, জীবনযাত্রার উন্নতি করা এবং পানি সম্পর্কিত দুর্যোগ বা বন্যার ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কাজ করবে।

তিনি আরও বলেন, প্রকল্পটি সার্বিক পরিকল্পনা কৌশলের উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশে নদী ব্যবস্থার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন করবে। পানি নিয়ে সরকারের রোড তৈরির কাজকে সহযোগিতা করবে এ প্রকল্প। নদীভাঙনের ফলে সৃষ্ট ভূমিক্ষয় ও বন্যার ঝুঁকি কমানো, কৃষি উৎপাদন বাড়ানো এবং চরাঞ্চলের আবাদি জমির উর্বরতা বাড়ানোর মাধ্যমে প্রকল্প সরাসরি জীবন-জীবিকার উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

পাবনা, সিরাজগঞ্জ, টাঙ্গাইল এবং মানিকগঞ্জ জেলার নয়টি উপজেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে যমুনা ও পদ্মা নদীর তীরবর্তী ভাঙনকবলিত এলাকার জনগণের জীবনমান উন্নয়ন হবে। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করবে এ প্রকল্প। এছাড়া অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো এবং প্রকল্প এলাকার ভাঙনরোধ ও স্থায়িত্ব বাড়াতে সমন্বিত কাঠামোগত ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব হবে।

প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, দেশের প্রধান তিন নদীর (পদ্মা, মেঘনা, যমুনা) ভাঙনরোধে এডিবির আর্থিক সহায়তায় যমুন-মেঘনা রিভার ইরোশন মিটিগেশন (জেএমআরইএমপি) শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। যা ২০০২ সাল থেকে ২০১১ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড।

সম্পর্কিত খবর