পণ্য ও সেবায় শুল্ক-কর ছাড়ের দাবি ব্যবসায়ীদের
বিপুল পরিমাণ শুল্ক-করের চাপে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে পর্যটন খাতের অবিচ্ছেদ্য অংশ দেশের হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজগুলো। পর্যটকদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে যেসব সরঞ্জাম ও পণ্য আমদানি করতে হয়, সেগুলোতে বিপুল পরিমাণে শুল্ক দিতে হয় মালিকদের। তারপর সেবার ওপরও ভ্যাট পরিশোধ করতে হয়। আবার আয়ের ওপর দিতে হয় ৩৭ শতাংশ কর। এফবিসিসিআই কার্যালয়ে আয়োজিত হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্ট হাউজ উন্নয়নবিষয়ক এফবিসিসিআইয়ের স্ট্যান্ডিং কমিটির প্রথম বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা।
বৈঠকে প্রধান অতিথি ছিলেন এফবিসিসিআইয়ের সিনিয়র সহসভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু। এতে উপস্থিত ছিলেন কমিটির চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন আহমেদ, এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসাইন, এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক, কমিটির কো-চেয়ারম্যান খন্দকার রুহুল আমিন, তৌফিক উদ্দিন আহমেদ, মহিউদ্দীন হেলাল, এএইচএম আমিনুল ইসলাম ভুঁইয়া, মো. মাহবুব আলম, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, মেহদী আমিন চৌধুরী প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, করোনা মহামারীতে হোটেল, রিসোর্টস ও গেস্ট হাউজগুলোর ব্যবসা প্রায় ধ্বংসের মুখে। এ ক্ষতি পোষাতে শুল্ক ও করের অব্যাহতি দাবি করেন তারা। তারা জানান, আমদানি করা সরঞ্জামের ওপর হ্রাসকৃত হারে শুল্ক আরোপ করলে ভাড়াসহ অন্যান্য সার্ভিস চার্জ কমানো সম্ভব হবে। বাংলাদেশে পর্যটনের বিকাশের ক্ষেত্রে অপর্যাপ্ত ব্র্যান্ডিংকে দায়ী করেন কমিটির সদস্যরা। ট্যুরিজম বোর্ডের মাধ্যমে পর্যটন খাতে বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং করার তাগিদ দেন বক্তারা। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দেরও দাবি জানানো হয়। মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন করোনা মহামারীতে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে হোটেল, মোটেল, গেস্ট হাউজ অন্যতম। বিদেশী মুদ্রা অর্জনেও এ খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। স্ট্যান্ডিং কমিটিকে এ খাতের সম্ভাবনা, সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান বের করে প্রস্তাব আকারে এফবিসিসিআইতে জমা দেয়ার আহ্বান জানান এফবিসিসিআইয়ের এ নেতা।
কমিটির চেয়ারম্যান খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, জাতিসংঘ ঘোষিত ১৭টি টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার অন্তত তিনটি পর্যটনের উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। বাকি লক্ষ্যগুলোর অর্জনও পরোক্ষভাবে পর্যটনের উন্নয়নের ওপর নির্ভরশীল। তাই ২০৩০ সাল নাগাদ এসডিজি অর্জন করতে হলে দেশের পর্যটন শিল্পের উন্নয়ন ঘটাতে হবে।
এ সময় হোটেল, রিসোর্টে পর্যটকদের যৌক্তিক দামে মানসম্মত সেবা নিশ্চিতের আহ্বান জানান এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসাইন। একই সঙ্গে দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষানবিশ প্রশিক্ষণ, স্যুভেনির ও প্রকাশনা তৈরির তাগিদ দেন তিনি।
এফবিসিসিআইয়ের মহাসচিব মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, পর্যটনের উন্নয়নে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে আসছে এফবিসিসিআই। বাংলাদেশের পর্যটনের উন্নয়নে কানাডা-বাংলাদেশ যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপের আলোচ্যসূচিতেও এ খাতকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।



