down of head

নতুন উচ্চতায় পৌঁছবে অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক চাহিদা

চলতি দশকে অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক চাহিদা বেড়ে নতুন উচ্চতায় পৌঁছতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। চাহিদা পূরণে বিগলন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করতে হবে।

সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল অ্যালুমিনিয়াম ইনস্টিটিউটের (আইএআই) অধীনে বিজনেস ইন্টেলিজেন্স অ্যানালিস্ট প্রতিষ্ঠান সিআরইউ ইন্টারন্যাশনাল একটি সমীক্ষা চালিয়েছে। এতে কভিড-পরবর্তী অর্থনীতিতে প্রধান প্রধান অঞ্চল ও শিল্প খাতে ধাতুটির চাহিদার আদ্যোপান্ত তুলে ধরা হয়।

অপরচুনিটিজ ফর অ্যালুমিনিয়াম অন আ পোস্ট কভিড ইকোনমি শীর্ষক সমীক্ষায় বলা হয়, ২০৩০ সালের মধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের বৈশ্বিক চাহিদা ৪০ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ২০২০ সালে সব শিল্প খাতে ধাতুটির চাহিদার পরিমাণ ছিল ৮ কোটি ৬২ লাখ টন। কিন্তু ২০৩০ সালে চাহিদা বেড়ে ১১ কোটি ৯৫ লাখ টনে উন্নীত হবে। চাহিদা পূরণে বিগলন প্রতিষ্ঠানগুলোকে অতিরিক্ত ৩ কোটি ৩৩ লাখ টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করতে হবে।

সমীক্ষায় আরো বলা হয়, চাহিদা বৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখবে চারটি খাত। এগুলো হলো, পরিবহন, অবকাঠামো নির্মাণ, পণ্য মোড়কজাত ও ইলেকট্রিক্যাল খাত। মোট চাহিদার ৭৫ শতাংশই প্রয়োজন হবে এসব খাতে।

দুই-তৃতীয়াংশ চাহিদা চীন থেকে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এক দশকের মধ্যে দেশটিতে অতিরিক্ত ১ কোটি ২৩ লাখ টন অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা দেখা দিতে পারে। এশিয়ার অন্যান্য দেশে চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ৮৬ লাখ টনে। এছাড়া উত্তর আমেরিকায় ৫১ লাখ ও ইউরোপে ৪৮ লাখ টন অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা তৈরি হবে। বিশ্বব্যাপী অতিরিক্ত অ্যালুমিনিয়াম চাহিদার ৯০ শতাংশই আসবে এ চার অঞ্চল থেকে।

প্রতিবেদন অনুুযায়ী, কার্বন নিঃসরণ নীতিমালা বাস্তবায়নে পরিবহন খাত জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার থেকে বের হয়ে আসার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। এক্ষেত্রে গুরুত্ব বাড়ছে বৈদ্যুতিক যানবাহনের। এ খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদা দাঁড়াবে ৩ কোটি ১৭ লাখ টন।

অন্যদিকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও চলতি দশকে অ্যালুমিনিয়ামের চাহিদায় উল্লম্ফন দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে সোলার প্যানেল তৈরিতে ধাতুটির সর্বাধিক প্রয়োজনীয়তা দেখা দিতে পারে। এছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহে তামার তারের পরিবর্তে জায়গা করে নিচ্ছে অ্যালুমিনিয়াম। ফলে এ খাতেও ধাতুটির চাহিদায় ব্যাপকতা দেখা দিতে পারে। ইলেকট্রিক খাতে ২০৩০ সাল নাগাদ অতিরিক্ত ৫২ লাখ টন অ্যালুমিনিয়াম প্রয়োজন হতে পারে।

এদিকে চলতি দশক শেষে অবকাঠামো নির্মাণ খাতে অতিরিক্ত ৪৬ লাখ টন অ্যালুমিনিয়াম প্রয়োজন হবে। চীন ব্যতীত এশিয়ায় নগরায়ণ চাহিদা প্রবৃদ্ধিতে ৪৪ শতাংশ ভূমিকা রাখবে।

সম্পর্কিত খবর