দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদনে অনিয়মের অভিযোগ

দেশে চাহিদার তুলনায় লবণের উৎপাদন ঘাটতি রয়েছে প্রায় পাঁচ লাখ টন। সংকট মোকাবেলায় সরকার প্রথম কিস্তিতে দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদন দিয়েছে ২৩০টি সনাতনী মিল ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে। তবে আমদানি অনুমোদনের (আইপি) ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিয়মিত উৎপাদনে থাকা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা প্রতিষ্ঠানও লবণ আমদানির অনুমোদন পেয়েছে বলে অভিযোগ মিলসংশ্লিষ্টদের।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ জুন সারা দেশের ২৩০টি প্রতিষ্ঠানকে চার ক্যাটাগরিতে লবণ আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। এ ক্যাটাগরিতে পাঁচ প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেককে ২ হাজার ৯৯০ টন করে আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়। মূলত দেশের বৃহৎ শিল্প হিসেবে ফ্রেশ ব্র্যান্ডের সোনারগাঁও সল্ট, পিওর ব্র্যান্ডের এসিআই সল্ট, মোল্লা সল্ট, কনফিডেন্স সল্ট ও এসএ গ্রুপের মুসকান সল্টকে এ অনুমোদন দেয়া হয়। পাঁচটি প্রতিষ্ঠান মোট ১৪ হাজার ৯৫০ টন লবণ আমদানি করতে পারবে। এছাড়া বি-ক্যাটাগরিতে ৪৭টি লবণ মিলের প্রতিটি এক হাজার টন করে মোট ৪৭ হাজার টন, সি-ক্যাটাগরিতে ১০৩টি মিল ৬০০ টন করে ৬১ হাজার ৮০০ টন এবং ডি-ক্যাটাগরিতে ৭৫টি প্রতিষ্ঠান ৩৫০ টন করে মোট ২৬ হাজার ২৫০ টন লবণ আমদানির অনুমোদন পেয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে লবণ মিল মালিক সমিতির অধীনে তিন শতাধিক মিল নিবন্ধিত থাকলেও অনুমোদন দেয়া হয়েছে ২৩০টি প্রতিষ্ঠানকে।

গত এক দশকে শতাধিক মিলের উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। আমদানির অনুমোদন তালিকায় এসব প্রতিষ্ঠানের অন্তত ২৫-৩০টি স্থান পেয়েছে বলে অভিযোগ মিল মালিকদের। অভিযুক্ত একাধিক লবণ মিলে খোঁজ নিয়ে বন্ধ থাকার প্রমাণও পাওয়া গেছে।

বিষয়টি স্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) কর্মকর্তারাও। তাদের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে আমদানির অনুমোদন দেয়ায় কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান লবণ আমদানির তালিকায় স্থান পায়নি। আবার কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান উৎপাদন বন্ধ সত্ত্বেও তালিকায় উঠে এসেছে। বিসিকের নিজস্ব জনবলের ঘাটতি ছাড়াও লবণ মিল মালিক সমিতির দেয়া তালিকা অনুসরণ করতে গিয়ে অনেক যোগ্য প্রতিষ্ঠান বঞ্চিত হতে পারে। এক্ষেত্রে ১০ শতাংশ ভুলভ্রান্তি হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন বিসিকের লবণ খাতসংক্রান্ত দপ্তরের কর্মকর্তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খাতুনগঞ্জের চাক্তাই এলাকার রাজাখালীতে জমজম ও জিলানী সল্টের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ২০১৭ সাল থেকে। এর পরও মিল দুটি ডি-ক্যাটাগরিতে লবণ আমদানির অনুমোদন পেয়েছে। একই অবস্থা পটিয়া উপজেলার প্রখ্যাত ইন্দ্রপোল লবণ শিল্প এলাকার আল্লাই সল্ট ক্রাশিং অ্যান্ড রিফাইনারি, চান্দখালী সল্টসহ বেশকিছু মিলের।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ লবণ মিল মালিক সমিতির সভাপতি মো. নুরুল কবির বলেন, লবণ আমদানির ক্ষেত্রে ক্যাটাগরি করার প্রয়োজন ছিল না। শুধু বিসিকের তত্ত্বাবধানে আমদানি অনুমোদন দেয়ায় অনিয়মের সুযোগ থাকে। তাছাড়া বৃহৎ শিল্পের এ-ক্যাটাগরিতে বড় পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে যে পরিমাণ আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে সেটিও ঠিক হয়নি। আমদানি অনুমোদনের ক্ষেত্রে মিল মালিক সমিতির প্রতিনিধি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ট্রেড বডির সদস্যদের অংশগ্রহণ থাকলে বন্ধ প্রতিষ্ঠান আমদানির তালিকায় উঠে আসত না।

বিসিকের পরিচালক (শিল্প উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ) মোহাম্মদ জাকির হোসেন বলেন, দেড় লাখ টন লবণ আমদানির অনুমোদনটি ২০২১ সালের অক্টোবরে দেয়া হয়েছিল। পরে সরকার আমদানির অনুমোদনটি স্থগিত রাখে। চলতি বছর ঘাটতি থাকায় আগের তালিকা অনুযায়ী আমদানিতে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বর্তমানে যেসব অভিযোগ এসেছে সেগুলো পর্যালোচনা করে আগামীতে আমদানিতে যোগ্য ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেশি সুযোগ দেয়া হবে।

সম্পর্কিত খবর