down of head

তিন প্রকল্পে জাপানের সঙ্গে ২৬৬ কোটি ডলারের চুক্তি

মেট্রোরেল লাইন-১ ও মাতারবাড়ী কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ করোনা মোকাবেলা সহায়তায় জাপান সরকারের সঙ্গে ২৬৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের (২৯২.২৭৯ বিলিয়ন জাপানিজ ইয়েন) চুক্তি সই হয়েছে। ২২ নভেম্বর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের এনইসি-২ সম্মেলন কক্ষে এ চুক্তি সই হয়। মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ারড প্রজেক্ট, ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১) ও কভিড-১৯ ক্রাইসিস রেসপন্স ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফেজ-২ প্রকল্পে এ অর্থায়ন করা হবে।

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব ফাতিমা ইয়াসমিন, বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত ইতো নাওকির সঙ্গে বিনিময় নোট এবং বাংলাদেশে অবস্থিত জাইকা অফিসের চিফ রিপ্রেজেন্টেটিভ ইউহো হাইয়াকাওয়ার সঙ্গে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেন। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত ছিলেন।

জানা গেছে, জাপান সরকার গত বছর বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো ৩২ কোটি ডলারের বাজেট সহায়তা ঋণ দিয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলারের ‘কভিড-১৯ ক্রাইসিস রেসপন্স ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফেজ-২’ সই হয়েছে। পাশাপাশি ৪২তম ইয়েন লোন প্যাকেজের প্রথম ধাপের অধীনে ২৩০ কোটি ডলারের দুটি প্রকল্পের জন্য দুটি ঋণ চুক্তি সই হয়েছে। এ দুটি প্রকল্প হলো মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ারড প্রজেক্ট ও ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট। জাপান সরকারের ৪২তম ওডিএ লোন প্যাকেজের (১ম ব্যাচ) আওতাধীন বিনিয়োগ প্রকল্প দুটির জন্য স্বাক্ষরিত ঋণের বার্ষিক সুদহার নির্মাণকাজের জন্য দশমিক ৬০ শতাংশ, পরামর্শক সেবার জন্য দশমিক শূন্য ১ শতাংশ ও ফ্রন্ট অ্যান্ড ফি (এককালীন) দশমিক ২ শতাংশ। এ ঋণ ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য। বাজেট সাপোর্ট ঋণের বার্ষিক সুদহার দশমিক ৫৫ শতাংশ ও ফ্রন্ট অ্যান্ড ফি (এককালীন) দশমিক ২ শতাংশ। এ ঋণ ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য। এ ঋণ চুক্তির আওতায় নিম্নোক্ত প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হবে। দেশের উন্নয়ন প্রকল্পে ঋণ ও বিভিন্ন প্রকার অনুদান সহায়তা হিসেবে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার দিয়েছে জাপান।

মাতারবাড়ী আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ারড প্রজেক্ট: বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় মাতারবাড়ী ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট আল্ট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ারড পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনের কাজ চলছে। প্রকল্পে মোট ব্যয় ৩৫ হাজার ৯৮৪ কোটি ৪৬ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি ৪ হাজার ৯২৬ কোটি ৬৬ লাখ, জাইকা ২৮ হাজার ৯৩৯ কোটি ও সিপিজিসিবিএল ২ হাজার ১১৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত।

ঢাকা মাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন১): ৩১ দশমিক ২৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ দুটি অংশে বিভক্ত—বিমানবন্দর রুট (বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর) ও পূর্বাচল রুট (নতুন বাজার থেকে পিতলগঞ্জ ডিপো)। বিমানবন্দর রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১৯ দশমিক ৮৭২ কিলোমিটার ও পাতাল স্টেশনের সংখ্যা ১২। এ রুটেই বাংলাদেশে প্রথম পাতাল বা আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রোরেল নির্মাণ হতে যাচ্ছে। পূর্বাচল রুটের মোট দৈর্ঘ্য ১১ দশমিক ৩৬৯ কিলোমিটার। এটির সম্পূর্ণ অংশ উড়াল এবং স্টেশন সংখ্যা ৯। নতুন বাজার স্টেশনে ইন্টারচেঞ্জ থাকবে। বর্তমানে ডিটেইল ডিজাইনের কাজ চলমান আছে। প্রকল্পের মোট ব্যয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে জাইকার অর্থায়ন ৩৯ হাজার ৪৫০ কোটি ৩২ লাখ টাকা। প্রকল্পের মেয়াদ ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের ডিসেম্ব্বর পর্যন্ত।

কভিড-১৯ ক্রাইসিস রেসপন্স ইমার্জেন্সি সাপোর্ট লোন ফেজ-২: এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হলো কার্যকর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা বাস্তবায়ন, কভিড-১৯-সংক্রান্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং কভিড-১৯ মহামারীর কারণে বাংলাদেশের সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা উত্তরণে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ঘোষিত আর্থিক প্রণোদনা কার্যক্রম বাস্তবায়নে বাজেট সাপোর্ট দেয়া। এর আওতায় জাপান সরকার ৪ হাজার কোটি জাপানিজ ইয়েন (৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার) ঋণসহায়তা দেবে। এ ঋণের বার্ষিক সুদহার দশমিক ৫৫ শতাংশ, এককালীন ফ্রন্ট অ্যান্ড ফি দশমিক ২ শতাংশ। এ ঋণ ১০ বছরের গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধযোগ্য।

সম্পর্কিত খবর