তামার বৈশ্বিক ঘাটতি ৯ হাজার টন কমেছে
গত কয়েক বছর ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারে তামার বৈশ্বিক ঘাটতি চলছে। ব্যাপক চাহিদা থাকলেও বাজারে সরবরাহ নেই। তবে গত বছর এ পরিস্থিতি কিছুটা ইতিবাচক দিকে মোড় নেয়। ওই বছর ব্যবহারিক ধাতুটির বৈশ্বিক ঘাটতি নয় হাজার টন কমেছে। ঘাটতি কমায় নবায়ণযোগ্য জ্বালানিসহ তামানির্ভর বিভিন্ন খাতে সম্ভাবনা দেখছেন বাজার বিশ্লেষকরা। ইন্টারন্যাশনাল কপার স্টাডি গ্রুপ (আইসিএসজি) সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছর বাজারে তামার ঘাটতি ছিল ৪ লাখ ৭৫ হাজার টন। অথচ এক বছর আগেও বাজারে ৪ লাখ ৮৪ হাজার টন তামার ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ঘাটতি কমেছে নয় হাজার টন।
গত বছরের ডিসেম্বরে পরিশোধিত তামার বৈশ্বিক বাজারে ৯২ হাজার টনের ঘাটতি দেখা দিয়েছিল। নভেম্বরে ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১ লাখ ২৩ হাজার টনের। সে হিসাবে ঘাটতি কমেছে ৩১ হাজার টন। সংস্থাটির তথ্য বলছে, গত বছরের ডিসেম্বরে পরিশোধিত তামার বৈশ্বিক উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ২১ লাখ ১০ হাজার টন। এ সময় ব্যবহার করা হয় ২২ লাখ টন। পুরো বছরে ২ কোটি ৪৫ লাখ টন উৎপাদন হলেও ব্যবহার হয়েছে ২ কোটি ৫৩ লাখ ৩০ হাজার টন।
আইসিএসজি বলছে, গত বছর খনি থেকে তামা উত্তোলন আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে। তবে ২০২০ সালের তুলনায় গত বছরের উত্তোলনকে কম হিসেবেই বিবেচনা করছে সংস্থাটি। কারণ ওই বছর করোনা মহামারী রুখতে লকডাউনের কারণে বেশির ভাগ দেশেই বিপর্যয়ের মুখে ছিল তামা উত্তোলন শিল্প। ২০১৯-২০ বছরে উত্তোলনের বার্ষিক প্রবৃদ্ধির হার ছিল মাত্র দশমিক ৩ শতাংশ।
বিশ্বের শীর্ষ তামা উত্তোলনকারী দেশ চিলি। কিন্তু ২০২১ সালে লকডাউন ও অন্যান্য বিধিনিষেধের কারণে দেশটিতে তামা উত্তোলন ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যায়। এর মধ্যে কনসেনট্রেট উত্তোলন ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। চিলিতে গত বছরের উত্তোলন ছিল ২০১৯ সালের তুলনায় ২ দশমিক ৮ শতাংশ কম।
পেরু বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ তামা উত্তোলনকারী দেশ। ২০২০ সালে বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে দেশটির তামা উত্তোলন খাতে ধস নামে। তবে গত বছর সংক্রমণের হার কমতে থাকায় বিধিনিষেধ শিথিল করা হয়। এতে বাড়তে থাকে উত্তোলন। এক বছরের ব্যবধানে দেশটিতে তামা উত্তোলন বেড়েছে ৭ শতাংশ। তবে মহামারীপূর্ব অবস্থার তুলনায় উত্তোলন ৬ দশমিক ৫ শতাংশ কম ছিল।
অন্যদিকে গ্রাসবার্গ খনিতে উত্তোলন অব্যাহতভাবে বাড়ায় গত বছর ইন্দোনেশিয়া ব্যাপক প্রবৃদ্ধি অর্জন করে। বছর শেষে দেশটির উত্তোলন ৪৯ শতাংশ বাড়ে। এছাড়া ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোয় ১২, পানামায় ৬১ ও চীনে ১০ শতাংশ বেড়েছে তামা উত্তোলন। মূলত নতুন ও সম্প্রসারিত উত্তোলন কর্মকাণ্ডের কারণে এসব দেশের বার্ষিক উত্তোলনে প্রবৃদ্ধি এসেছে।
আইসিএসজি আরো জানায়, রাশিয়ার তামা শিল্প মূলত তিনটি কোম্পানিকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলেছে। এগুলো হলো নরিলস্ক, ইউএমএমসি ও দ্য রাশিয়ান কপার কোম্পানি। পাঁচ বছরে দেশটিতে তামা উত্তোলন প্রায় ২৮ শতাংশ বেড়েছে। নতুন দুটি খনি তৈরির কারণেই উত্তোলনে এমন প্রবৃদ্ধি লাভ করেছে। গত বছর রাশিয়া সব মিলিয়ে ৮ লাখ ৭৫ হাজার টন তামা উত্তোলন করে, যা মোট বৈশ্বিক উত্তোলনের প্রায় ৪ শতাংশ।
আইসিএসজির দেয়া তথ্যমতে, বর্তমানে ইউক্রেনের সব তামা খনিতে উত্তোলন বন্ধ। প্রাক্কলন অনুযায়ী দেশটির বার্ষিক পরিশোধিত তামা উৎপাদন ও ব্যবহারের পরিমাণ ২০ হাজার টন।
চলতি সপ্তাহে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জ (এলএমই) জানিয়েছে, তাত্ক্ষণিকভাবে রাশিয়ার ধাতব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পরিকল্পনা নেই এটির। যদিও এক্সচেঞ্জের কিছু সদস্য ইউক্রেনে হামলার প্রতিক্রিয়ায় নিষেধাজ্ঞার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাশিয়ান ধাতব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে বিশ্ববাজারে সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে। পাল্লা দিয়ে বাড়তে পারে দাম।
এমনিতে বিশ্ববাজারে তামার সংকট। এলএমইর গুদামগুলোয় পণ্যটির মজুদ ১৬ বছরের সর্বনিম্নে অবস্থান করছে। গত সপ্তাহে তামার দাম টনপ্রতি ১০ হাজার ৮৪৫ ডলারে উঠেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ।



