চায়ের নতুন ক্রয়াদেশ নিয়ে উদ্বিগ্ন ভারত
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাব পড়েছে ভারতের চা খাতের ওপর। এ দেশ দুটিসহ তাদের প্রতিবেশী দেশগুলোয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চা রফতানি করেন ভারতীয় ব্যবসায়ীরা। কিন্তু যুদ্ধের কারণে এক ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে রফতানি করা চায়ের বিপরীতে অর্থ প্রত্যাবাসন করতে পারছে না তারা। মূল্য পরিশোধে সময় নিচ্ছেন ক্রেতারা। উদ্বেগ দেখা দিয়েছে নতুন ক্রয়াদেশ নিয়েও। এ অবস্থায় পানীয় পণ্যটির রফতানির জন্য নতুন গন্তব্যের সন্ধান করছে ভারত। খবর ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
রাশিয়া-ইউক্রেন ছাড়াও কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোয় চা রফতানি করে ভারত। যুদ্ধ শুরুর আগেই দেশগুলোয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে চা রফতানি করেছে দেশটি। কিন্তু রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় এখন রফতানির বিপরীতে মূল্য পরিশোধে সময়ক্ষেপণ হচ্ছে। আবার রফতানি করলেও পণ্য নিয়ে জাহাজ বন্দরে ভিড়তে পারছে না। একই সঙ্গে ডলারের বিপরীতে রুবলের অবমূল্যয়ন নতুন ক্রয়াদেশ নিয়ে জটিলতা তৈরি করেছে।
রাশিয়াসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোয় চায়ের অন্যতম রফতানিকারক ইন্দ্রচাঁদ সীতারাম। কলকাতাভিত্তিক এ রফতানিকারক জানান, তিনি চায়ের বেশ কয়েকটি চালান রাশিয়ায় পাঠিয়েছেন। কিন্তু সেগুলো ঠিক গন্তব্যে পৌঁছায়নি। রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ ও ইউক্রেনের ওডিশা বন্দরে চায়ের এ চালান পৌঁছার কথা ছিল। অধিকাংশ কনটেইনার কৃষ্ণসাগরের বিভিন্ন বন্দরে পড়ে আছে। কিছু কিছু এখনো সাগরের মাঝে অবস্থান করছে। যেহেতু পণ্যের জাহাজীকরণ হয়েছে, এর বিপরীতে কীভাবে রফতানি মূল্য পাওয়া যায়, সেটিই এখন আমাদের প্রধান চিন্তা।
ভারতীয় চা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, রাশিয়ায় সারা বছর তারা চা রফতানি করে। মাসে ৬৫ থেকে ৭০ কোটি রুপির চা রফতানি হয় দেশটিতে। এমনকি ২০২১ অর্থবছরে দেশটিতে ৫৮৯ কোটি ১১ লাখ রুপির চা রফতানি করা হয়েছে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি উদ্বেগ তৈরি করেছে। আগামী কয়েক মাস দেশটিতে স্বাভাবিক রফতানি প্রক্রিয়া ধরে রাখা যায় কিনা সেটা চিন্তার বিষয়।
এ পরিস্থিতিতে রাশিয়ায় চায়ের রফতানি চালান পাঠানোর বিকল্প উপায় খোঁজ করা হচ্ছে বলে জানান চা বোর্ডের এ কর্মকর্তা। তিনি বলেন, চীন হয়ে রাশিয়া, ইউক্রেন ও কাজাখস্তানে চালান পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে তেমন কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি।
ভারতীয় চায়ের দ্বিতীয় শীর্ষ গন্তব্য রাশিয়া। ফলে দেশটিতে যেকোনো রফতানি জটিলতা ভারতের ওপর বড় প্রভাব ফেলবে। ইন্ডিয়া টি অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপারসন নয়নতারা পালচৌধুরী এ বিষয়ে সম্প্রতি গণমাধ্যমে জানান, ভারতীয় চায়ের জন্য রাশিয়ার বাজার খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতীয় চায়ের প্রায় ১৮ শতাংশই দেশটিতে রফতানি হয়ে থাকে। তাছাড়া ইরানসহ অন্যান্য দেশের রফতানি মূল্য পরিশোধের ক্ষেত্রেও দেশটির বড় ভূমিকা রয়েছে।
এ অবস্থায় রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব এড়াতে বিকল্প গন্তব্যে চা রফতানি করার চেষ্টা করছে ভারত। এজন্য বিকল্প বাজারের সন্ধান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা।



