অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ কমেছে
এপ্রিলে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক সরবরাহ এক বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে। মাসভিত্তিক এক প্রতিবেদনে সম্প্রতি এ তথ্য জানায় ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি (আইইএ)।
সংস্থাটি জানায়, প্রতিদিন ৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল করে সরবরাহ কমেছে। দৈনিক সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৮১ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেলে। এ মাসে রাশিয়া অন্তত দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল সরবরাহ বন্ধ করেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, এপ্রিলেও জ্বালানি রফতানিকারক দেশগুলোর মিত্র জোট ওপেক প্লাসের উত্তোলন ছিল হতাশাজনক। ব্লকটির মোট উত্তোলন দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেলেরও বেশি কমেছে। অপরিকল্পিতভাবে রফতানি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় লিবিয়া ও কাজাখস্তানে উত্তোলন দৈনিক চার লাখ ব্যারেল কমেছে।
সংস্থাটি বলছে, উত্তোলন ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ায় সরবরাহ ও উত্তোলন লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ব্যবধান অনেক বেড়েছে।
তবে আইইএর তথ্যানুযায়ী, মোট বৈশ্বিক উত্তোলন কমে গেলেও তাতে আংশিক ভারসাম্য এনেছে নন-ওপেক প্লাস দেশগুলোর ঊর্ধ্বমুখী সরবরাহ। প্রতিদিন ৩ লাখ ৮০ হাজার ব্যারেল করে সরবরাহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে এসব দেশ। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় বাজারে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটি বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে। এছাড়া বায়োডিজেলের মূল্যবৃদ্ধিও উত্তোলন বাড়াতে সহায়তা করেছে।
চলতি মাস থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত বৈশ্বিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ৩১ লাখ ব্যারেল করে বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
গত মাসে ওপেকের দৈনিক অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বেড়ে ২ কোটি ৮৬ লাখ ৭০ হাজার ব্যারেলে উন্নীত হয়েছে। আগের মাসের তুলনায় প্রতিদিন উত্তোলন বেড়েছে ৫০ হাজার ব্যারেল করে।
এ সময় ওপেকের প্রাকৃতিক গ্যাস লিকুইডস উত্তোলন দৈনিক ৫৩ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ওপেকের মোট জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৩ কোটি ৪০ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে।
অন্যদিকে নন-ওপেক দেশগুলোর উত্তোলন দৈনিক ৮ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল করে কমেছে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৬ কোটি ৪৯ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলে।
এদিকে চলতি বছরের জন্য অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের চাহিদা পূর্বাভাস কমিয়েছে আইইএ। চাহিদা দৈনিক ১০ হাজার ব্যারেল করে কমতে পারে। চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে দৈনিক ৯ কোটি ৯৪ লাখ ব্যারেলে।
ওপেকের প্রতিবেদনে বলা হয়, করোনা সংক্রমণ রোধে চীনে কঠোর লকডাউন চলছে। এ কারণে দেশটিতে জ্বালানি তেলের চাহিদায় ধস নেমেছে। ২০২০ সালের পর দেশটিতে আবারো সর্বনিম্নে নেমেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের ব্যবহার।
এক প্রতিবেদনে ওপেক জানায়, পূর্ব ইউরোপে চলমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং কভিড-১৯ জনিত বিধিনিষেধে চলতি বছর জ্বালানি তেলের চাহিদায় ভয়াবহ নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
ওপেক বলছে, বর্তমানে মূল্যস্ফীতি অব্যাহত বাড়ছে। পাশাপাশি আর্থিক সংকটও ক্রমবর্ধমান। চলতি বছরের জন্য অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাস ৩ দশমিক ৯ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি জ্বালানি তেলের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী সম্ভাবনাকে ব্যাহত করছে।
ওপেক ও রাশিয়াসহ এর মিত্র দেশগুলো ওপেক প্লাস নামে পরিচিত। ২০২০ সালে জোটটি রেকর্ড মাত্রায় জ্বালানি তেল উত্তোলন কমানোর সিদ্ধান্ত নেয়। উদ্দেশ্য বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখা। কিন্তু গত বছর করোনা পরিস্থিতি শিথিল হতে শুরু করলে জ্বালানি তেলের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী হয়ে ওঠে। ফলে ওই সিদ্ধান্ত থেকে ফিরে আসে ওপেক প্লাস। প্রতি মাসেই নির্দিষ্ট হারে জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াতে সম্মত হয় জোটের সদস্যরা।
তবে জোটটি গত বছর যে হারে উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তা সংকট মোকাবেলায় পর্যাপ্ত ছিল না বলে দাবি করে পশ্চিমা দেশগুলো। মার্কিন প্রশাসন ওপেক প্লাসকে উত্তোলন আরো বাড়ানোর আহ্বান জানায়। কিন্তু এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে নিজেদের সিদ্ধান্তেই অটল জোটটি।
এদিকে সর্বশেষ বৈঠকে জোটটি ইউক্রেন সংকটকে এক রকম এড়িয়ে বিদ্যমান উত্তোলন নীতিতে অটল। জুনে জোটটির দৈনিক ৪ লাখ ৩২ হাজার ব্যারেল করে উত্তোলন বাড়ানোর কথা। তবে প্রতি মাসেই উত্তোলন বৃদ্ধির এ লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ব্যর্থ জ্বালানি রফতানিকারক দেশগুলোর এ জোট।



