ভোলায় অসহায় মানুষের পাশে সমাজ সেবক জামাল মিঞা

ইরফান হৃদয় : 

পবিত্র রমজান মাসে ভোলায় এতিমখানা ও হাফিজী মাদ্রাসার প্রায় অর্ধশত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ইফতার এবং খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেছেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক মো. জামাল উদ্দিন মিঞা। করোনা সংক্রমনের এই সময়ে ইতোমধ্যে তিনি লকডাউনে থাকা বহু অসহায় পরিবারের মাঝে খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করেন। দেশের সংকটময় পরিস্থিতিতে আগামীতেও ক্ষতিগ্রস্থ অভাবি মানুষের পাশে দাড়াঁনোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

করোনাভাইরাসের কারণে পুরো বিশ্ব সংকটময় পরিস্থিতিতে রয়েছে। যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশেও। বিশেষ করে সারাদেশ লকডাউনে থাকায় ভোলায় হতদরিদ্র বহু মানুষ খাবার সংকটে ভুগছেন। এ অবস্থায় অনেক ধনাঢ্য ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান নিজেদের গুটিয়ে রাখছেন। আবার কিছু মানুষ মানবতার জায়গা থেকে এগিয়ে আসছেন, সামনে থেকে লড়াই করে অসহায় প্রান্তিক মানুষের পাশে সাহায্যের হাত বাড়াচ্ছেন। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরে ঘরে বিনামূল্য খাবার পৌছে দিচ্ছেন,  ভোলা শহরের এক তরুণ সমাজসেবক মো. জামাল উদ্দিন । তারুন্যের জয়গান গাওয়া এই মানুষটি সকাল থেকে সন্ধ্যা অবধি ছুটছেন সাধ্যমতো খাবার নিয়ে, মানুষের ঘরে ঘরে। হাসিমুখে তুলে দিচ্ছেন খাদ্যসামগ্রী। সবশেষ তিনি গতকাল দারুল উলূম কাবিল মিঞা কাওমী ও হাফিজীর মাদ্রাসা পরিবারের পাশে দাড়াঁন। প্রায় অর্ধশত শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ এতিম ছাত্রদের হাতে তুলে দিয়েছেন প্রয়োজনীয় ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী।

ভোলা শহরের পৌর কাঠালি এলাকার দারুল উলূম কাবিল মিঞা কাওমী ও হাফিজীর মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা মো. জামাল উদ্দিন মিঞা একই সাথে মমতাজ উদ্দিন জামে মসজিদের সেক্রেটারীর দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর সেবামূলক কাজের এক ফাঁকে কথা হয়। বলেন, রাজধানীসহ সারাদেশের কলকারখানাসহ প্রায় সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ, থমকে গেছে জীবনযাত্রা। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে দেশের খেটে খাওয়া অসহায় গরীব জনগন। দিনমজুর থেকে শুরু করে অনেকেরই এখন চিন্তার ভাজঁ। যার ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে দ্বীপ জেলা ভোলায়। এমন সংকটময় অবস্থায় কিছু অসহায় পরিবারের মাঝে মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যে দিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়ানোর চেষ্টা করেছি ।

জামাল উদ্দিন জানান, একদিকে করোনা সমস্যা অন্যদিকে রমজান মাস। এঅবস্থা বিবেচনা করে তিনি  হাফিজী মাদ্রাসা, এতিমখানাসহ জেলার কিছু রিক্সাওয়ালা, দিনমজুর ও অসহায় পরিবারের মাঝে ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী চাল, আলু, ডাল, বুট, মুড়ি, চিনি, লবণ, তেল এসব নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য বিতরণ করেণ। তিনি ব্যক্তিগত অর্থায়নে এ খাবারের ব্যবস্থা করেন।

সমাজসেবী জামাল উদ্দিন বলেন, অসহায় মানুষের পাশে সমাজের ধণাঢ্য ব্যক্তিদের আরো বেশি এগিয়ে আসা দরকার।  স্বচ্ছল ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে দেশের সাধারণ জনগনের ভাগ্য আরো বেশি পরিবর্তন সম্ভব বলে মনে করেন তিনি।