তেল-চিনি-ডিমে চাপে ক্রেতা
রাজধানীর নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি নেই ক্রেতাদের। নতুন করে সয়াবিন তেল ও চিনির সরবরাহ সংকট দেখা দেওয়ায় নির্ধারিত সর্বোচ্চ খুচরা মূল্যের (এমআরপি) চেয়ে বেশি দামে এসব পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি ডিমের দামও রয়েছে বাড়তি। এতে নিত্যপণ্য কিনতে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর রামপুরা, হাজীপাড়া, মালিবাগ, সেগুনবাগিচা ও মগবাজারের কয়েকটি খুচরা বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
বাজারে প্যাকেটজাত এক কেজি চিনির গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা লেখা থাকলেও তা ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এক লিটার সয়াবিন তেলের বোতলের এমআরপি ২০৪ টাকা হলেও কোথাও কোথাও তা ২১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। আবার অনেক দোকানে প্যাকেটজাত চিনি ও বোতলজাত তেল পাওয়া যাচ্ছে না। খোলা তেল-চিনিও প্যাকেটজাত পণ্যের দামে বিক্রি হচ্ছে।
হাজীপাড়ার মুদি দোকানি সোহাগ মিয়া বলেন, প্যাকেট চিনির গায়ে ১১০ টাকা দাম লেখা থাকলেও তাদের কিনতে হচ্ছে ১১৩ টাকা দরে। ফলে বাধ্য হয়ে ১১৫ থেকে ১২০ টাকা দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। এ কারণে অনেক দোকানে প্যাকেট চিনি রাখা হচ্ছে না।
খলিলুর রহমান নামে এক বিক্রেতা বলেন, প্যাকেটের গায়ে ১১০ টাকা লেখা থাকায় ১২০ টাকা চাইলে ক্রেতাদের নানা প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। তাই প্যাকেট কেটে খোলা চিনি বিক্রি করলে ঝামেলা কম হয়।
মালিবাগ বাজারের ক্রেতা চিশতি বলেন, এমনিতেই নিত্যপণ্যের দাম বেশি। এর মধ্যে নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি টাকা নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। বিষয়টি সরকারের কঠোরভাবে নজরদারি করা উচিত।
এদিকে কয়েক সপ্তাহ ধরে সয়াবিন তেলের সরবরাহ সংকট কাটেনি বলে জানিয়েছেন খুচরা ব্যবসায়ীরা। বাজারে বোতলজাত তেলের সরবরাহ কম থাকায় অনেক দোকানে তেল ক্রেতাদের চোখের আড়ালে রাখা হচ্ছে। সুযোগ বুঝে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্টের ৭ নম্বর সড়কের একটি সুপার শপে এক লিটার সয়াবিন তেল ২১০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা গেছে। অথচ বোতলের গায়ে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ২০৪ টাকা।
দোকানি শাহিনুল হক বলেন, সরবরাহ কম। আবার বিক্রেতাদের কমিশনও কম। এ অবস্থায় নির্ধারিত দামে তেল বিক্রি করলে তাদের পোষায় না।
সম্প্রতি সয়াবিন তেলের দাম বাড়ানোর অনুমোদন দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এরপরও ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে আরও দাম বাড়ানোর দাবি উঠেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ভোজ্যতেলের দাম বৃদ্ধির কারণ দেখিয়ে দাম সমন্বয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন ব্যবসায়ীরা বলে জানা গেছে।
সেগুনবাগিচা কাঁচাবাজারের বিক্রেতা শফিকুল ইসলাম বলেন, প্রায় এক থেকে দেড় মাস ধরে কোম্পানি তেলের অর্ডার নিতে চায় না। কমিশন কমিয়ে লিটারপ্রতি মাত্র ১ টাকা করা হয়েছে। এরপরও বিভিন্ন পাইকারি বাজার থেকে নিজেদের খরচে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে।
তবে খুচরা বাজারে সরবরাহ সংকটের কথা বলা হলেও বিভিন্ন সুপারশপে প্যাকেটজাত তেল ও চিনি পাওয়া যাচ্ছে। কোথাও কোথাও নির্ধারিত দামেও এসব পণ্য বিক্রি করতে দেখা গেছে।
এদিকে ডিমের দামও কমেনি। বিভিন্ন বাজারে ফার্মের মুরগির ডিম প্রতি ডজন ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পাড়া-মহল্লার দোকানে এক হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়। সে হিসাবে ডজনপ্রতি দাম দাঁড়াচ্ছে ১৬৫ টাকা।
তবে ব্রয়লার মুরগির দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। বাজারভেদে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
সবজির দামও এখনো তুলনামূলক চড়া। ১০ থেকে ১৫ দিন আগে দাম বাড়ার পর কিছু সবজির দাম কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা কমলেও সামগ্রিকভাবে বাজারে স্বস্তি ফেরেনি। একই সঙ্গে আটা ও ময়দাও আগের মতো বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে।



