জুলাইয়ে আসছে ব্যবসা সহজীকরণে নতুন ঘোষণা
দেশে ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া আরও সহজ করতে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তিনি বলেন, লাইসেন্সিং প্রক্রিয়ার জটিলতা ও আমলাতান্ত্রিক বাধা কমিয়ে দ্রুত ব্যবসা শুরু করার পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে।
আজ (২২ জুন) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত ‘সহনশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরবরাহ শৃঙ্খলের জন্য বিনিয়োগ, বাণিজ্য এবং শোভন কাজের এজেন্ডা সমন্বয়’ বিষয়ক ডিব্রিফিং সেশনে তিনি এসব কথা বলেন। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, আগে একটি ব্যবসা শুরু করতে প্রায় এক বছর সময় লাগত। এখন সেই সময় কমিয়ে মাত্র ১৪ দিনে ব্যবসা শুরুর সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। আদর্শ পরিস্থিতিতে ১৫তম দিনেই একটি কোম্পানি যন্ত্রপাতি আমদানির জন্য এলসি খুলতে পারবে।
তিনি বলেন, জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতি কমিটি (সিডিপি) বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের সময়সীমা নিয়ে যে সুপারিশ দিয়েছে, সেটিকে শুধু সময় বাড়ানো হিসেবে দেখলে হবে না। বরং এটি প্রস্তুতি গ্রহণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ, যা প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা শক্তিশালীকরণ এবং উৎপাদন খাত বহুমুখীকরণের জন্য কাজে লাগাতে হবে।
বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক’ অর্থনীতির যে কথা বলা হয়েছে, তা কেবল বক্তব্য নয়; এটি সরকারের নীতিনির্ধারণের ভিত্তি। ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, লাইসেন্সিং জটিলতা কমানো এবং বাজার বহুমুখীকরণে সরকারের অগ্রাধিকার স্পষ্ট।
বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে আন্তর্জাতিক ক্রেতা ও বিনিয়োগকারীরা স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। নতুন বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে পরিবেশ সুরক্ষা, শ্রম অধিকার, মানবাধিকার এবং জলবায়ু সহনশীলতা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তিনি জানান, দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক আচরণ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ‘রেসপনসিবল বিজনেস কন্ডাক্ট (আরবিসি) সেল’ গঠন করেছে। এটি সরকারি সংস্থা, ব্যবসায়ী সংগঠন ও উন্নয়ন অংশীদারদের মধ্যে সমন্বয় জোরদার করবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশকে একটি নির্ভরযোগ্য সোর্সিং ও উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ করা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, যা কোথায় সময় কমানো ও প্রক্রিয়ার পুনরাবৃত্তি দূর করা সম্ভব, তা চিহ্নিত করেছে। আগামী জুলাই মাসে এ বিষয়ে বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হবে।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার, বিডার নির্বাহী সদস্য মো. হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেকজনিয়াক এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।


