ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

রাজধানীর মতিঝিলের দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির নতুন চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগসহ সাত দফা দাবিতে টানা তৃতীয় দিনের মতো অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন ব্যাংকটির ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর সদস্যরা।

বুধবার (৩ জুন) অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেন, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদে সাম্প্রতিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তারা চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল, ব্যাংক পরিচালনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ওমর ফারুক খানকে পুনর্বহালের দাবি জানান।

আন্দোলনকারীরা জানান, তাদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ, ওমর ফারুক খানের পুনর্বহাল, ব্যাংক লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের পরিচালনা পর্ষদ থেকে অপসারণ, ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল, এস আলম গ্রুপের দখলকৃত মালিকানা ও সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সমন্বয়, ভবিষ্যতে এস আলমকে কোনো ব্যাংকে ফিরতে না দেওয়ার ব্যবস্থা এবং ব্যাংক খাতে লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা।

সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতারা বলেন, খুরশীদ আলম পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে। একইসঙ্গে গ্রাহকদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের আগামীকাল দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালনের আহ্বানও জানান তারা।

বিক্ষোভ সমাবেশে ফোরামের সভাপতি নুর নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংকে এস আলমের ৮২ শতাংশ শেয়ার বিক্রি করে তার ঋণের সমন্বয় করতে হবে। পাশাপাশি তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফেরত আনতে হবে।

তিনি আরও বলেন, “যেদিন খুরশীদ আলম ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে আসবেন, সেদিন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত হবেন। তাকে কোনোভাবেই ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে মেনে নেওয়া হবে না।”

সমাবেশ শেষে দিলকুশা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জাতীয় প্রেসক্লাবের উদ্দেশে যাত্রা করে।

সাত দফা দাবি:
১. চেয়ারম্যান খুরশীদ আলমের পদত্যাগ।
২. ওমর ফারুক খানকে এমডি পদে পুনর্বহাল।
৩. লুটপাটে জড়িত কাউকে পরিচালনা পর্ষদে না রাখা।
৪. ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্টের ১৮(ক) ধারা বাতিল।
৫. এস আলমের দখলকৃত মালিকানা ও সম্পদ বিক্রির মাধ্যমে অর্থ সমন্বয়।
৬. এস আলমকে ভবিষ্যতে কোনো ব্যাংকে ফিরতে না দেওয়ার ব্যবস্থা।
৭. ব্যাংক খাতের দুর্নীতি ও লুটপাটে জড়িতদের বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা।

সম্পর্কিত খবর