নোয়াখালীর আদালতে বাদিকে হত্যার চেষ্টা, থানায় গিয়ে আত্নরক্ষা!
নোয়াখালী জেলা জজ আদালতে হত্যাচেষ্টা মামলার আসামিরা বাদি ও ভুক্তভোগীকে আবারো হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগী বাদি সুধারাম থানায় আশ্রয় নিয়ে প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন।
১২ অক্টোবর বিকেলে জেলা জজ আদালতের বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন সুধারাম থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন।
মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরএলাহী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মতিন তোতার ছেলে ইব্রাহিম তোতার নেতৃত্বে ইব্রাহীম তোতা ও ইসমাইল তোতা বাহিনীর সদস্যরা আমাকে হত্যার চেষ্টা করে। এরআগে গত ১৭ আগস্ট এ বাহিনীর সদস্যরা আমাকে গলাকেটে হত্যার চেষ্টা করে। ওই মামলা তুলে নিতে তারা আবার হত্যার চেষ্টা করেছে।
তিনি আরও বলেন, সন্ত্রাসীদের ভয়ে আমি সুধারাম থানায় আশ্রয় নিই। পরে আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মোহাম্মদ শাহদৎ হোসেনের পরামর্শে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ৫ আগস্টের পর থেকে চরএলাহী ইউনিয়নে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের নিয়ে ইসমাইল তোতা বাহিনী গঠন করে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি,দখল,ধর্ষণ,অপহরণ,ঘাট,খামার,জমি জবরদখল,দাঙ্গা-হাঙ্গামা করে জনজীবন বিষিয়ে করে আসছে সাবেক চেয়ারম্যান তোতার ছেলেরা। তাদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি বেগমগঞ্জ থানায় বিজয় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। এলাকায় তারা বিএনপির মননোয়ন প্রত্যাশী কেন্দ্রীয় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় সম্পাদক বজলুর রশিদ চৌধুরী আবেদ গ্রুপের সদস্য হিসেবে পরিচিত। এ সব বিষয়ে জানতে অভিযুক্তদের খোঁজ করে পাওয়া যায়নি।
চর এলাহী বাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, ওই গ্রুপের সদস্যরা পুলিশের ভয়ে আত্মগোপনে থাকেন। মাঝে মাঝে এলাকায় এসে জনজীবন বিধ্বংশী নানা অপকর্ম করে নদী পথে উড়িরচর পালিয়ে যায়।
আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) এডভোকেট মোহাম্মদ শাহদৎ হোসেন বলেন, বিষয়টি শোনার পর বাদিকে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম বলেন, বাদির অভিযোগের ভিত্তিতে থানায় সাধারণ ডায়েরী (নম্বর-৭৩২) রুজু করা হয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


