বীমা খাতের অগ্রযাত্রা রোধে চলছে ষড়যন্ত্র
সালমান এফ রহমান ও এস আলমের সঙ্গে কোন সর্ম্পক নেই

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি:

এস আলম ও দরবেশের আর্শীবাদপুষ্ট আপেল মাহমুদ এখন আইডিআরএর সদস্য- শিরোনামে অনলাইন নিউজ পোর্টাল শীর্ষ নিউজ ডটকমে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। এই সংবাদের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ) সদস্য (লাইফ) আপেল মাহমুদ।

বীমা খাতে দীর্ঘ বছর সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন জনাব আপেল মাহমুদ। দীর্ঘ বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে এই বিজ্ঞ বীমা ব্যক্তিত্বকে ঘিরে কখনো কোন বিতর্ক তৈরী হয়নি। কিন্তু আইডিআরএর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শুরু হয় ষড়যন্ত্র। প্রকাশ করা হচ্ছে পরিকল্পিত নেতিবাচক সংবাদ।

পেল মাহমুদ বলেন, বিভিন্ন বীমা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালীন সময়কে কেন্দ্র করে এবং এস আলম ও সালমান এফ রহমানের সঙ্গে জড়িয়ে- অনবরত মিথ্যা তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। এস আলম এবং সালমান এফ রহমানের সঙ্গে কখনো কোনদিন দেখাও হয়নি- এমনকি কোন যোগাযোগও হয়নি। প্রাইম ইসলামী লাইফে এস আলমের নামে কোন শেয়ার নেই। অপরদিকে, ফারইস্ট ইসলামী লাইফের বেক্সিমকো গ্রুপের দুইটি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার থাকলেও সালমান এফ রহমানের সরাসরি কোন সম্পৃক্ততা ছিল না। সালমান এফ রহমান একদিনের জন্যও ফারইস্ট লাইফে আসেননি। এমনকি আলফা ইসলামী লাইফে দায়িত্ব পালন নিয়েও কখনো কোন অভিযোগ না থাকার পরও অবলীলায় ভৌতিক হলুদ কল্প-কাহিনী তৈরী করা হয়েছে।

ইডিআরএর এই সদস্য বলেন, যখন কোম্পানীগুলোকে সঠিক গাইড লাইন অনুসরণ করে, অনিয়ম ও দুণীর্তির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে পরিচালনার চেষ্টা করছেন, ঠিক তখনই হঠাৎ কিছু স্বার্থান্বেষী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িয়ে- বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার নিয়ে শুরু হয়েছে নোংরা খেলা। সৃষ্টি করা হচ্ছে পরিকল্পিত বিতর্ক। অথচ, সুদীর্ঘ কর্ম জীবনে আইন মেনে সুনামের সঙ্গে বীমা খাতে পেশাগাত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে জন সাধারণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন ছিল সফলতার একমাত্র সঙ্গী।

আপেল মাহমুদ আরো বলেন, প্রতিবেদক যাচাই-বাচাই ছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে ভুল, বানোয়াট, মিথ্যা, মনগড়া ও বিকৃত তথ্য পরিবেশন করেছেন। প্রাইম ইসলামী লাইফ ও ফারইস্ট ইসলামী লাইফের মুখ্য নির্বাহী পদে নিয়মনীতি অনুসরণ করে ইন্টারভিউ ও যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিয়োগ পেয়েছিলেন। কোম্পানি দু’টির অর্থ আত্মসাৎতের ঘটনা সিইও হিসেবে যোগদানের আগের বিষয়- এই অর্থ আত্মসাৎতের সঙ্গে সামান্যতম সংযোগ নেই। বরং তিনি টাকা উদ্ধার চেষ্টার পাশাপাশি প্রাইম ও ফারইস্ট লাইফে গ্রাহক স্বার্থ রক্ষায় সচেষ্ট ছিলেন। এমনকি আলফা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সকেও সু-শৃঙ্খলভাবে পরিচালনা করেছেন। তার দক্ষ ও যোগ্য নেতৃত্বে সারাদেশে ব্যবসার পাশাপাশি মাত্র ২ বছরে সাতশত কোটি টাকা গ্রাহকদের বীমা দাবী পরিশোধ করে ফারইস্ট লাইফ। অন্যদিকে তিনশত কোটি টাকা দাবী পরিশোধ করা হয়েছে প্রাইম লাইফে। একইসঙ্গে দুই কোম্পানীর আত্মসাতৎকৃত টাকা উদ্ধারে আপেল মাহমুদের প্রাণ-পন চেষ্টা অব্যাহত ছিল। পূর্বে অর্থ লোপাটকারী চেয়ারম্যান, পরিচালক ও দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলাও করা হয় তার সময়ে। এমনকি, আইডিআরএর সদস্য হিসেবে যোগদানের পরও দু’টি কোম্পানির আত্মসাৎ হওয়া টাকা উদ্ধারে আরো কঠোর অবস্থানে রয়েছেন।

এসময় আইডিআরএ যোগদান প্রসঙ্গ তুলে ধরেন আপেল মাহমুদ। বলেন, বীমা খাতের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে আইডিআরএ। নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সদস্য হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোন একক ব্যক্তির সুপারিশের সুযোগ নেই। সরকার যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যোগ্য এবং দক্ষ ব্যক্তিকে এখানে সদস্য পদে নিয়োগ করেন। এ বিষয় অহেতুক প্রশ্ন তোলা- নুন্যতম জ্ঞানের অভাব ছাড়া আর কিছুই হতে পারে না।

তার মতে, এভাবে অপপ্রচার, মিথ্যাচার, অতিরঞ্জিত ও বানোয়াট গল্প তৈরি করে আইডিআরএর কর্মকান্ড থামিয়ে দেয়ার কোন সুযোগ নেই। এহেন অনাকাঙ্খিত প্রমাণহীন মিথ্যাচার অব্যাহত থাকলে- দেশের প্রচলিত আইনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ধরনের ঘৃণ্য চক্রান্ত আর অপপ্রচারের মাধ্যমে কোনভাবেই বীমা খাতের সুশাসন, উন্নয়ন ও জবাবদিহিতা বাধাগ্রস্থ করা সম্ভব হবে না।

সম্পর্কিত খবর