শিরোনাম
ডিজিটাল প্রতারণা শনাক্তে এআই ব্যবহারের ওপর জোর ডিএসই চেয়ারম্যানেরডেঙ্গুতে আরও ১০ মৃত্যু, ভর্তি ১,৯৯৬২৬ অক্টোবর জাপান যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীপতনে শেষ ডিএসইর লেনদেনপ্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে নামার পূর্বাভাস বিশ্বব্যাংকেরএশিয়ার বড় বাজারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়ছেনির্ধারিত দামে এলপিজি না মিললে ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাশিশুদের প্রতিভা বিকাশে সুযোগ দিতে হবে: প্রধানমন্ত্রীমৌসুমি বায়ুর বিদায়, সাগরে লঘুচাপের আভাসডিএমপির অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৪৪৭ওয়াহাজের সঙ্গে ফারিয়ার নজরকাড়া সাজশাহজালালে ৬৩১ কার্টন সিগারেট জব্দরপ্তানি স্বাভাবিক, কমল তেলের দামস্টক এক্সচেঞ্জে সরাসরি কোম্পানি তালিকাভুক্তির বিধিনিষেধ প্রত্যাহারডেঙ্গুতে আরও ৯ মৃত্যু, ভর্তি ১,৯০২
down of head

ওমরাহর পর স্মৃতি ফিরে পেলেন, ৫৪ বছর পর নিজ বাড়িতে

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার বাকশীমূল দক্ষিণ পাড়ার আবুল বারীর ছেলে সফিকুর রহমান। পরিবারের অভাব-অনটনে শৈশবে অভিমান করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান। তখন বয়স ১২ বছর। প্রাইমারির ছাত্র। এটা মুক্তিযুদ্ধের আগের কথা। এরপর কাজের সন্ধানে ঘুরে বেড়ান বিভিন্ন স্থানে। প্রতারণার শিকার হয়েছেন বহুবার। ১৭ বছর বয়সে নিজেকে আবিষ্কার করেন খুলনায়। প্রতারণার শিকার হন সেখানেও। মানসিক কষ্টে স্মৃতিশক্তি হারান। ভুলে যান মা-বাবা ও আত্মীয়-স্বজনের নাম, ঠিকানা।

বেঁচে থাকার তাগিদে কখনো হকার, কখনো গৃহকর্মীর কাজ করেন। দেশ স্বাধীন হলে বিয়ে করেন খুলনায়। স্ত্রীকে নিয়ে বর্তমান নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর পৌর এলাকায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। গড়ে তুলেন নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ‘বিলাস এন্টারপ্রাইজ ও মিনি গার্মেন্ট’। তাদের সংসারে আসে তিন সন্তান মিল্টন, লিটন ও মহসিন। তারা বড়ে হয়ে বাবার কাছে জানতে চায়, তাদের দাদার বাড়ির কোথায়? শফিকুর নির্বাক, কারণ তার যেন কিছুই মনে নেই। আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ জানান, তার স্মৃতিশক্তি ফিরে পাওয়ার জন্য। এভাবে কেটে যায় ৫৪ বছর।

বর্তমানে শফিকুর রহমানের বয়স ৭২। গত রমজানে পবিত্র ওমরাহ পালনের জন্য তিনি সৌদি আরব যান। আল্লাহর ঘর ধরে গোনাহ মাফ চান, স্মৃতি ফিরে পাওয়ার আকুতি জানান। তার বিশ্বাস আল্লাহ তার প্রার্থনা কবুল করেছেন। ওমরাহ শেষে পবিত্র মক্কা নগরীতে পণ্য কেনার জন্য তিনি একটি দোকানে যান। দোকান মালিক সোহেল জানান, তার বাড়ি বাংলাদেশের কুমিল্লার বুড়িচংয়ের বাকশীমূল গ্রামে। একপর্যায়ে শফিকুরের শৈশব স্মৃতি আসে। সোহেলের বাড়ি আর তার বাড়ি একই গ্রামে। গ্রামের কিছু মানুষের নাম বলার সঙ্গে সঙ্গে শফিকুর সবাইকে চিনতে পারেন।

সোহেল তার ছবি তুলে এলাকার আত্মীয়-স্বজনের মোবাইলে পাঠিয়ে দেন। মক্কা থেকেই ইমুতে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে কথা বলেন শফিকুর রহমান। কয়েকদিন আগে স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে নিজ বাড়ি বাকশীমূলে আসেন। তিনি বলেন, বাড়িতে এসে দেখেন অসংখ্য মানুষের মেলা। তাকে দেখতে আসা অনেকে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি জানতে পারেন বাবা আব্দুল বারী মারা গেছেন অনেক আগেই, মা আফিয়া খাতুন মারা গেছে ৪ বছর আগে। চার ভাই, তিন বোনের মধ্যে ভাই খোরশেদ আলম ও এক বোন মারা গেছেন। বেঁচে আছেন ভাই জামাল হোসেন, কামাল হোসেন ও দুই বোন। শফিকুর রহমান সবার বড়।

সম্পর্কিত খবর