এসইজেড চালু হলে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেন ভারতীয় উদ্যোক্তারা
বর্তমানে ভারতের পঞ্চম বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য হিসেবে স্থান দখল করে আছে বাংলাদেশ। ভারতীয় উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের (এসইজেড) কার্যক্রম চালু হলে দেশটির উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগের জন্য উৎসাহিত হবেন। গতকাল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) প্রতিনিধি দলের ভারতের পশ্চিমবঙ্গ সফরের দ্বিতীয় দিনে ইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্স আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এমনটা জানান ভারতীয় আলোচকরা।
ইন্ডিয়ান চেম্বারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের কৃষিমন্ত্রী শোভনদেব চ্যাটার্জি ও সমবায়মন্ত্রী অরূপ রায়। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের নির্বাহী পরিচালক পি কমলাকান্ত ও কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রদূত আন্দালিব ইলিয়াস। আরো উপস্থিত ছিলেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি রিজওয়ান রাহমান, ইন্ডিয়ান চেম্বারের সভাপতি প্রদীপ সুরেকা, চার্নক হাসপাতালের এমডি প্রশান্ত শর্মা ও পশ্চিমবঙ্গের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক আশীষ মৃধা।
রিজওয়ান রাহমান বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগের কোনো নির্দিষ্ট সীমারেখা নেই। উদ্যোক্তারা নিজেদের ব্যবসায়িক কার্যক্রমের সম্ভাবনা বিবেচনায় নিয়ে সুবিধাজনক স্থানে তা পরিচালিত করে থাকেন। এ সময় স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, মানবসম্পদের দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্য-প্রযুক্তি এবং ফিনটেক খাতে বাংলাদেশ ও কলকাতার উদ্যোক্তাদের যৌথ বিনিয়োগে এগিয়ে আসার ওপর জোরারোপ করেন ডিসিসিআই সভাপতি। ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা আরো সহজতর করার লক্ষ্যে এ-সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়নে বেসরকারি খাতের আরো সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন বলে তিনি মত প্রকাশ করেন। পশ্চিমবঙ্গের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক আশীষ মৃধা বলেন, দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে ভারতের জন্য বাংলাদেশ শুধু অন্যতম ব্যবসায়িক সহযোগী হিসেবেই আবির্ভূত হয়নি, ভারতের রফতানির ক্ষেত্রে পঞ্চম বৃহত্তম গন্তব্যস্থল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ৩৫০টি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে প্রায় ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ করেছে এবং বাংলাদেশে ভারতের উদ্যোক্তাদের জন্য বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম চালু হলে আরো ভারতীয় উদ্যোক্তা বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত হবেন।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর জোরারোপ করে কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রদূত আন্দালিব ইলিয়াস বলেন, বর্তমানে দুদেশের বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বেশকিছু নীতিগত প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তবে আলোচনার মাধ্যমে তা সমাধান করা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ইন্ডিয়ান চেম্বারের সভাপতি প্রদীপ সুরেকা বলেন, ঐতিহাসিক, সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত সুদৃঢ়। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অধিকতর উন্নয়নে দুটো দেশই একযোগে কাজ করছে, তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করে প্রশান্ত শর্মা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা অন্যতম সম্ভাবনাময় একটি খাত, যেখানে দুদেশের একযোগে কাজ করার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগের জন্য এরই মধ্যে ভারতীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


