যুদ্ধের মধ্যেই কমল ওপেকের জ্বালানি তেল উত্তোলন
গত মাসে ওপেক ও তার মিত্র দেশগুলোর অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন আগের মাসের তুলনায় কমেছে। এক বছরেরও বেশি সময় পর উত্তোলন কমে যাওয়ার ঘটনা ঘটল। সম্প্রতি এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস কমোডিটি ইনসাইটের সমীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে এমনিতেই জ্বালানি তেলের বাজার বিপর্যস্ত। এ পরিস্থিতি ওপেক ও মিত্র দেশগুলোর জ্বালানি তেল উত্তোলন কমে যাওয়ায় সংকট আরো তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে রাশিয়ান জ্বালানি তেলের বাজারে পশ্চিমা দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার প্রভাব দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এছাড়া কাজাখস্তান ও লিবিয়াও উত্তোলন কমানোর পেছনে বড় ভূমিকা পালন করেছে।
ওপেকের ১৩টি সদস্য দেশ দৈনিক ৬০ হাজার ব্যারেল করে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন বাড়াতে সক্ষম হয়েছে। এসব দেশের মোট দৈনিক উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৭ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেলে। কিন্তু ব্লকটির অন্য নয়টি দেশের উত্তোলন দৈনিক ১ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল করে কমেছে। প্রতিদিন উত্তোলন করা হয়েছে ১ কোটি ৩৯ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল করে।
অনেক বাজার বিশ্লেষকই মনে করছেন চলতি বছর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক চাহিদা মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরে আসবে। কিন্তু জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর জোটটি এ চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ প্রতি মাসেই ওপেক ও তার মিত্র জোট ওপেক প্লাস জ্বালানি তেলের উত্তোলন লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে। উত্তোলন ও লক্ষ্যমাত্রার ব্যবধান দিন দিন বেড়ে রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
এর আগে সর্বশেষ গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওপেকের জ্বালানি তেল উত্তোলন কমে গিয়েছিল। ওই সময় সৌদি আরব এককভাবেই দৈনিক ১০ লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন কমিয়ে আনে। এর উদ্দেশ্য বাজার নিয়ন্ত্রণ। কারণ ২০২০ সালে নিম্নমুখী চাহিদায় বাজারে পণ্যটির দাম তলানিতে নামে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় উত্তোলন কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় ওপেক।
তবে গত বছরের মাঝামাঝি করোনার প্রাদুর্ভাব কমে বিশ্ব অর্থনীতিতে গতি ফিরতে শুরু করায় পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে মোড় নেয়। অব্যাহতভাবে বাড়ে জ্বালানি তেলের চাহিদা। সে তুলনায় সরবরাহ না থাকায় পণ্যটির দাম বাড়তে থাকে। ফের বাজার নিয়ন্ত্রণে উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় জোটটি।
তথ্য বলছে, গত বছরের আগস্ট থেকে প্রতি মাসে দৈনিক চার লাখ ব্যারেল করে উত্তোলন বাড়াতে সম্মত হয় জোটভুক্ত দেশগুলো। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি অনুযায়ী এ উত্তোলনকে অপর্যাপ্ত বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, জাপান ও অন্যান্য শীর্ষ জ্বালানি তেল ব্যবহারকারী দেশ। এসব দেশ ওপেক সদস্যদের প্রতি উত্তোলন আরো বেশি মাত্রায় বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে। যদিও প্রতিবারই এ আহ্বান প্রত্যাখ্যান করে বিদ্যমান নীতিতেই উত্তোলনের সিদ্ধান্তে অটল জোটটি।
সমীক্ষায় আরো দেখা গিয়েছে, ওপেকের নেতৃস্থানীয় দেশ সৌদি আরব গত মাসে তাদের উত্তোলন স্থিতিশীল রেখেছে। উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে দৈনিক ১ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে। তবে গত মাসের দেশটির রফতানি কমে গিয়েছে বলে জানিয়েছে পণ্যবাহী জাহাজের তথ্য সেবাদাতা বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
সমীক্ষায় আরো দেখা গিয়েছে, ওপেক প্লাসের নেতৃস্থানীয় দেশ রাশিয়া পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যে। দেশটির অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন কমে দৈনিক ১ কোটি ৪০ হাজার ব্যারেলে নেমেছে। অনেক ব্যবসায়ী রাশিয়ান পণ্য কেনা থেকে বিরত।
রাশিয়ার প্রতিবেশী দেশ কাজাখস্তানে উত্তোলন বড় পরিসরে কমেছে। কারণ ঝড়ে দেশটির সিপিসি পাইপলাইনের লোডিং টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে বড় প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। দৈনিক উত্তোলন নেমেছে ১৫ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলে।
অন্যদিকে লিবিয়ার সবচেয়ে বড় তেল ক্ষেত্র সাহারায় উত্তোলন বন্ধ ছিল। এ কারণে দেশটির উত্তোলন দৈনিক ৫০ হাজার ব্যারেলে নেমেছে।


