তথ্য চেয়ে দুই ব্যাংকে চট্টগ্রাম কাস্টমসের চিঠি
চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে জাহাজীকরণের উদ্দেশ্যে পণ্য অফডকেই আনা হয়নি। অথচ সংশ্লিষ্ট নথি ও রেকর্ড অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করে দুবাই, মালয়েশিয়া ও সৌদি আরবে আলু ও তিলবীজ রফতানি করেছে জান্নাত করপোরেশন ও সিয়াম ইন্টারন্যাশনাল নামে ঢাকার দুই প্রতিষ্ঠান। বিষয়টি নিয়ে বড় পরিসরে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে তথ্য চেয়ে দুটি বেসরকারি ব্যাংকে চিঠি দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ভুয়া রফতানির বিপরীতে সরকারের রফতানি প্রণোদনা (ইনসেনটিভ) গ্রহণ করা হয়েছে কিনা তা জানতে চেয়ে গতকাল উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড ও ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডকে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তদন্তের স্বার্থে চিঠিতে গুরুত্বপূর্ণ আরো সাত ধরনের তথ্য চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে রফতানিকারকের কমার্শিয়াল ইনভয়েস কপি, প্যাকিং লিস্ট, বিল অব লেডিং (বিএল), বিল অব এক্সপোর্ট (বিই), ই-এক্সপির কপি, এমএলসির কপি এবং রফতানিকারকের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি)।
উত্তরা ব্যাংকের মতিঝিলের দিলকুশা ও ইংলিশ রোড শাখা এবং ব্যাংক এশিয়ার এমসিবি দিলকুশা শাখায় এ চিঠি দেয়া হয়। চিঠিতে উল্লেখিত তথ্য ও দলিলাদির সত্যায়িত ফটোকপি রাজস্বের স্বার্থে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
তথ্য চেয়ে ব্যাংকে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম কাস্টমস কমিশনার মো. ফখরুল আলম। তিনি বলেন, পণ্য রফতানি কার্যক্রমে জালিয়াতি উদঘাটনের পর এখন তদন্ত চলছে। এরই অংশ হিসেবে রফতানি কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য চাওয়া হয়েছে।
এর আগে রফতানি-সংক্রান্ত জালিয়াতির এ বিষয়টি গত ২ ডিসেম্বর ‘চালানের পণ্য জাহাজেই ওঠেনি, নথিতে রফতানি সম্পন্ন’ শীর্ষক সংবাদ প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউজে কর্মরত নেই, এমন দুই রাজস্ব কর্মকর্তার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সার্ভারে অনুপ্রবেশ করে এ জালিয়াতি ঘটিয়েছেন অভিযুক্তরা। কৃষিপণ্য রফতানিতে সরকারের দেয়া নগদ সহায়তা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে এমন নয়টি রফতানি চালানের ভুয়া রেকর্ড তৈরি করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রফতানি জালিয়াতিতে অভিযুক্ত দুই প্রতিষ্ঠান ঢাকার জান্নাত করপোরেশন ও সিয়াম ইন্টারন্যাশনালের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে চট্টগ্রামের পাঁচ প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে। এগুলো হলো প্যান বেঙ্গল এজেন্সি লিমিটেড, বেঙ্গল প্রগ্রেসিভ এন্টারপ্রাইজ, এঅ্যান্ডজে ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, কেআরএস সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেড ও জিআর ট্রেডিং করপোরেশন সিঅ্যান্ডএফ লিমিটেড।


