৫০০ কোটি টাকার বন্ড ছাড়বে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক
৫০০ কোটি টাকার মুদারাবা সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের পরিচালনা পর্ষদ। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ব্যাংকের ৩৩৯তম পর্ষদ সভা থেকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পাশাপাশি সভায় চলতি ২০২২ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের (জানুয়ারি-মার্চ) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়।
মূল্যসংবেদনশীল তথ্যের (পিএসআই) মাধ্যমে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক জানিয়েছে, ‘এসজেআইবিএল থার্ড মুদারাবা সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড’ নামের এ বন্ডের মেয়াদ সাত বছর। এর বৈশিষ্ট্য হলো এটি নন-কনভার্টিবল, আনসিকিউরড, পুরোপুরি অবসায়নযোগ্য ও ফ্লোটিং রেট। প্রাইভেট প্লেসমেন্টের মাধ্যমে এ বন্ড ইস্যু করা হবে। এর মাধ্যমে ব্যাংকটি টায়ার টু মূলধন শক্তিশালী করবে। সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন সাপেক্ষে এ বন্ড ইস্যু করা হবে।
এদিকে ৩৩৯তম পর্ষদ সভা থেকে চলতি ২০২২ হিসাব বছরের প্রথম প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম প্রান্তিকে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় হয়েছে ৯৮ পয়সা। যেখানে আগের হিসাব বছরের একই সময়ে আয় ছিল ৬২ পয়সা। ৩১ মার্চ ২০২২ শেষে ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ২৪ পয়সায়। আগের হিসাব বছরের একই সময় শেষে যা ছিল ১৭ টাকা ৪২ পয়সা।
৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১৫ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছে শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। এর মধ্যে ১০ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ বোনাস লভ্যাংশ। আলোচ্য হিসাব বছরে ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ২ টাকা ৫২ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ১ টাকা ৮৬ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৯ টাকা ২৭ পয়সা, আগের হিসাব বছর শেষে যা ছিল ১৭ টাকা ৪৬ পয়সা।
২০২০ হিসাব বছরের জন্য শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১২ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক। এর মধ্যে ৭ শতাংশ নগদ ও বাকি ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। এর আগে ২০১৯ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের মোট ১০ শতাংশ লভ্যাংশ দিয়েছিল ব্যাংকটি। এর মধ্যে ৫ শতাংশ নগদ ও বাকি ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ। ২০১৮ হিসাব বছরে শেয়ারহোল্ডারদের ১০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছিল তারা। তার আগের হিসাব বছরেও একই হারে স্টক লভ্যাংশ পেয়েছিলেন ব্যাংকটির শেয়ারহোল্ডাররা।
সর্বশেষ রেটিং অনুযায়ী, দীর্ঘমেয়াদে ব্যাংকটির ঋণমান ‘ডাবল এ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-টু’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২১ হিসাব বছরে ব্যাংকটির নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনসহ হালনাগাদ প্রাসঙ্গিক অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।
২০০৭ সালে তালিকাভুক্ত শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের অনুমোদিত মূলধন ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ২৯ কোটি ১০ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৭৬৭ কোটি ৮৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১০২ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫২। এর মধ্যে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে ৪৮ দশমিক ২২ শতাংশ, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ১৪ দশমিক ৬০, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছে দশমিক ১৫ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের হাতে ৩৭ দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।
ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ব্যাংকটির শেয়ারের সর্বশেষ ও সমাপনী দর ছিল ২০ টাকা ৩০ পয়সা। গত এক বছরে শেয়ারটির সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ দর ছিল যথাক্রমে ১৯ টাকা ৬০ পয়সা ও ২৩ টাকা ৭০ পয়সা।
সর্বশেষ নিরীক্ষিত ইপিএস ও বাজারদরের ভিত্তিতে শেয়ারটির মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ১০ দশমিক ৫১, অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে যা ৮ দশমিক ১৩।


