শুরুর পতনের পর বড় উত্থানে সূচক
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) সঙ্গে বৈঠকের বিষয়বস্তু নিয়ে আগের দিন নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বাংলাদেশ ব্যাংক। গতকালের লেনদেনের শুরুতেই পুঁজিবাজারে এর প্রভাব পড়ে। বড় পতন হয় সূচকে। তবে শুরুর পতন কাটিয়ে দ্রুত ইতিবাচক ধারায় ফেরে বাজার। শেষ পর্যন্ত সূচকের বড় উত্থানের মধ্য দিয়েই গতকালের লেনদেন শেষ হয়। সূচকের পাশাপাশি এদিন দুই এক্সচেঞ্জে লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে। বাড়তির দিকে ছিল অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদরও।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পুঁজিবাজার নিয়ে দুই নিয়ন্ত্রক সংস্থার মধ্যে মতপার্থক্যের বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কিছুটা আস্থার সংকট দেখা দিয়েছে। গতকালের লেনদেনের শুরুতেই যার প্রভাব পড়ে। কিন্তু পুঁজিবাজার নিয়ে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিএসইসি, বাংলাদেশ ব্যাংক, এনবিআরসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ডাকা বৈঠকের খবরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়, যা শেষ পর্যন্ত সূচকের বড় উত্থানে ভূমিকা রেখেছে।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল সকাল ১০টায় লেনদেন শুরুর পর থেকেই পয়েন্ট হারাতে থাকে দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স। এক পর্যায়ে ৯০ পয়েন্টের বেশি হারায় সূচক। অবশ্য এরপর সূচকে কিছুটা পয়েন্ট যোগ হয়। তবে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত সূচকে বড় পয়েন্ট যোগ হয়।
লেনদেন শেষে গতকাল ডিএসইএক্স প্রায় ৯০ পয়েন্ট বেড়ে ৬ হাজার ৯৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা আগের কার্যদিবসে ছিল ৬ হাজার ৮৪৭ পয়েন্টে। ডিএসইর শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস গতকাল দিন শেষে ২১ পয়েন্ট বেড়ে ১ হাজার ৪৫৯ পয়েন্টে অবস্থান করছে, যা আগের দিন শেষে ছিল ১ হাজার ৪৩৮ পয়েন্টে। ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ দিনের ব্যবধানে ৪৬ পয়েন্ট বেড়ে ২ হাজার ৬৩৬ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের দিন শেষে যা ছিল ২ হাজার ৫৯০ পয়েন্টে।
গতকাল ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ১ হাজার ২৪৫ কোটি টাকা। এর আগের কার্যদিবসে লেনদেন হয়েছিল ১ হাজার ১০২ কোটি টাকা। এদিন ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৩৭৪টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ২০৮টির, কমেছে ১১৮টির আর অপরিবর্তিত ছিল ৪৮টি সিকিউরিটিজের বাজারদর।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইর মোট লেনদেনের ২৫ দশমিক শূন্য ২ শতাংশ দখলে নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে ব্যাংক খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ দখলে নিয়েছে বিবিধ খাত। ১৩ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ নিয়ে লেনদেনের ভিত্তিতে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাত। চতুর্থ অবস্থানে থাকা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দখলে ছিল লেনদেনের ৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ। এছাড়া আর্থিক খাতের দখলে ছিল ৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। গতকাল সব খাতের শেয়ারেই ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি এসেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতে ৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম এক্সচেঞ্জে (সিএসই) গতকাল সিএসসিএক্স সূচক দিনের ব্যবধানে ১৫৬ পয়েন্ট বেড়ে ১২ হাজার ১৮০ পয়েন্টে অবস্থান করছে। আগের কার্যদিবসে সূচকটির অবস্থান ছিল ১২ হাজার ২৪ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৬৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ১৫২টির, কমেছে ৮৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২৬টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে মোট ৬২ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৫৪ কোটি টাকা।


