চরফ্যাশনে দুই জামায়াত নেতাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন
চরফ্যাশন (ভোলা) প্রতিনিধি:
জামাতের দুইজন নেতাকে পিশাচীয়ভাবে নির্যাতন করেছে যুবদল নেতা শাহীন বাহিনী। এলাকায় যুবদল নেতা শাহিন বাহিনীর তান্ডব চলেছে।
ভোলার চরফ্যাশনের আসলামপুরের ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক শাহিন দালালের নেতৃত্বে তার বাহিনী কর্তৃক স্থানীয় জামায়াত কর্মী জলিলকে ক্লাবে আটকে হাত পা বেঁধে মধ্যযুগীয কাযদায নির্যাতন করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাত নযটার দিকে আসলামপুর ইউনিযনের আবুগঞ্জ বাজারে এই ঘটনা ঘটে।
এ সময জামায়াত কর্মী জলিলের সাথে থাকা আসলামপুর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর সভাপতি ও উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি মাওলানা মাহবুবকেও পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করে। পুলিশের ইমারজেন্সি টিমর এস আই সালাম জানান,এ সময় আবুগঞ্জ বাজারে বিএনপির অফিসের মধ্য পাওয়া বেশ কিছু দেশীয় পাইপ তারা জব্দ করেন।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন জামায়াত কর্মী জলিল জানান, আমি ও উপজেলা শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি মাহবুব ভাই এশার নামাজ পড়ে আবু গঞ্জ বাজারের একটি দোকানে চা পান করে বের হতেই শাহীন আমাকে কথা আছে বলে তার দোকানের পিছনে ডেকে নিয়ে যায়। এ সময আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই তার বাহিনীর তারেক, মোতাহার, নুরু, জসিম, শাহাবুদ্দিন, ফয়সাল আমার আমাকে লাঠি দিয়ে পিটাতে থাকে , আমাকে বাঁচাতে আমার সাথে থাকা মাওলানা মাহবুবুর রহমান এগিয়ে আসলে তাকেও পিটিয়ে তার কপাল ও হাত ফাটিয়ে দেয।
শাহিন ও তার বাহিনীর বেধড়ক মারপিটে আমি ঘটনাস্থলে অজ্ঞান হয়ে যাই, পরে তারা আমাকে টেনে তাদের আবুগঞ্জ বাজারে বিএনপির অফিসের নিয়ে আসলে আমার জ্ঞান ফিরে আসায় আবারো আমাকে হাত পা বেঁধে মোটা পাইপ দিয়ে আমার শরীরের বিভিন্ন স্থানে পেটাতে থাকে । আমার পকেট থেকে ৭ হাজার টাকা ও মোবাইল নিয়ে যায। দ্বিতীয় দফা তাদের মারধরে আমি আবার অজ্ঞান হয়ে যাই।

স্থানীযরা জানান, ২৪র ৫ ই আগস্ট এর পর থেকে আসলামপুরের ইউনিয়ন যুবদলের এই সাবেক সংগঠনিক সম্পাদক শাহিন দালালের ও তার বাহিনী কর্তৃক মানুষের জমি দখল, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও এলাকায প্রতিনিযত ত্রাস সৃষ্টিসহ শত শত ঘটনা ঘটে। তার বাহিনীর কেমন আচরণ কেউ তার অন্যায়ের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস করে না।

নির্বাচনের আগে শাহিন বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হলে সে গা ঢাকা দেয়। নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসলে, সে সক্রিয় হয়ে এলাকায় নিজেকে যুবদলের কর্ণধার পরিচয দিয়ে আবারো তার বাহিনী দিয়ে অপকর্ম শুরু করে ।
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) খলিলুর রহমান বলেন, ঘটনা শুনে পুলিশের ইমারজেন্সি টিম গিয়ে মারধরের শিকার দুই জামায়াত কর্মীকে উদ্ধার করে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে জডতিদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওযা হবে ।
বিষযটি নিয়ে শাহিন বাহিনীর প্রধান শাহিনের সাথে যোগাযোগ করা হলে সে জানায, আমি এলাকার সালিস বিচার করি, অপকর্ম করিনা। তার নেতৃত্বে গঠিত শাহীন বাহিনীর বিষয জানতে চাইলে সে জানায় সামনে ইউনিয়ন নির্বাচন করব তাই কর্মীদের নিয়ে চলতে হয়।


