অরেঞ্জ বন্ড: শেয়ারবাজারে খুলছে অর্থায়নের নতুন পথ
বাংলাদেশের প্রথম অরেঞ্জ বন্ড “সাজেদা অরেঞ্জ জিরো কুপন বন্ড”-এর ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন পরিচালনার লক্ষ্যে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পিএলসি (ডিএসই) এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের মধ্যে একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
সোমবার ডিএসইর নিকুঞ্জস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ চুক্তি সই হয়। ডিএসইর ইলেকট্রনিক সাবস্ক্রিপশন সিস্টেম (ইএসএস)-এর মাধ্যমে বন্ডটির সাবস্ক্রিপশন কার্যক্রম ১৮ মে শুরু হয়ে আগামী ২৩ মে পর্যন্ত চলবে। এটি ইএসএস প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়া প্রথম প্রাইভেট বন্ড।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার, সাজেদা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি সিইও মো. ফজলুল হক এবং ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ রাশেদ হোসাইনসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
অনুষ্ঠানে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার বলেন, দেশের জনমিতিক সুবিধাকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে উদ্ভাবনী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা জরুরি। তার মতে, অরেঞ্জ বন্ডের মতো নতুন ধরনের বন্ড পুঁজিবাজারে বিকল্প অর্থায়নের সুযোগ সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
ব্র্যাক ইপিএল ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ রাশেদ হোসাইন বলেন, “সাজেদা অরেঞ্জ বন্ড” বাংলাদেশের থিমেটিক বন্ড বাজারের জন্য একটি নতুন ভিত্তি তৈরি করবে। তিনি উল্লেখ করেন, এ উদ্যোগ দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি শক্তিশালী ইমপ্যাক্ট ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলবে, যেখানে সামাজিক উন্নয়নের পাশাপাশি আর্থিক রিটার্নও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ডিএসই প্ল্যাটফর্মে চালু হওয়া এই বন্ড ভবিষ্যতে আরও এ ধরনের বন্ড ইস্যুর পথ সুগম করবে।
সাজেদা ফাউন্ডেশনের ডেপুটি সিইও মো. ফজলুল হক বলেন, নারীদের জন্য বিনিয়োগভিত্তিক “Orange Zero Coupon Bond” বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তিনি জানান, গত তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে সাজেদা ফাউন্ডেশন নারীর ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আয় বৃদ্ধি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
বিনিয়োগকারীরা নিজেদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা অনুযায়ী মেয়াদ নির্বাচন করার সুযোগ পাবেন। বন্ডটি ১ বছর, ২ বছর এবং ৩ বছর মেয়াদে জিরো-কুপন ইন্সট্রুমেন্ট হিসেবে গঠন করা হয়েছে।


