আইসিবির কাছ থেকে ২২৫ কোটি টাকা ফেরত চায় বিএসইসি
শেয়ারবাজারে বিনিয়োগের জন্য ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশকে (আইসিবি) দেওয়া ২২৫ কোটি টাকা ফেরত আনতে ক্যাপিটাল মার্কেট স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ডকে (সিএমএসএফ) নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিনিয়োগকারীদের দাবি অনুযায়ী দ্রুত অর্থ ফেরত নিশ্চিত করতে এবং তহবিলের নিরাপত্তা জোরদারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির এক নির্দেশনায় সিএমএসএফকে আইসিবি থেকে ধাপে ধাপে অর্থ প্রত্যাহারের পরিকল্পনা তৈরি করে কমিশন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগকে জানাতে বলা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, সিএমএসএফ ৭২৭ কোটি টাকা নগদ অর্থ এবং ১৪ কোটি ৫৪ লাখ শেয়ার পেয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এসব শেয়ারের বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৩৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। অন্যদিকে, তহবিলটি ইতোমধ্যে যোগ্য বিনিয়োগকারীদের ৩২৯ কোটি ২ লাখ টাকার নগদ ও শেয়ার ফেরত দিয়েছে। এছাড়া ব্যাংক আমানত ও বিভিন্ন বিনিয়োগ থেকে সুদ ও আয় বাবদ আরও ১৩১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা অর্জন করেছে সিএমএসএফ।
এর আগে সিএমএসএফের নীতিমালা অনুযায়ী তহবিলের নগদ অর্থের অন্তত ৫০ শতাংশ বাজার মধ্যস্থতাকারীদের ঋণ হিসেবে দেওয়া যেত, যাতে তারা মার্জিন ঋণের মাধ্যমে শেয়ারবাজারে তারল্য বাড়াতে পারে। সেই নীতির আওতায় আইসিবিকে কয়েক ধাপে ২২৫ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছিল, যা পরে রাষ্ট্রায়ত্ত বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানটি শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ করে।
তবে এখন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে সরকারের নীতিগত অবস্থানে পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সিএমএসএফের অর্থ আর বাজার মধ্যস্থতাকারীদের ঋণ হিসেবে দেওয়া হবে না। বরং এই তহবিল শুধুমাত্র বিনিয়োগকারীদের অনাদায়ী দাবি পরিশোধ এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহার করা হবে।
সিএমএসএফ মূলত শেয়ারবাজারের বিনিয়োগকারীদের অনাদায়ী ক্যাশ ও বোনাস ডিভিডেন্ড, ফেরত না নেওয়া আইপিও আবেদন অর্থ এবং অবণ্টিত রাইট শেয়ারের অর্থ সংগ্রহ করে ২০২১ সালে গঠিত হয়। তহবিলটি বিনিয়োগকারীদের এসব অর্থ ও শেয়ারের অভিভাবক হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে সিএমএসএফকে আইনি ভিত্তি দিতে নতুন আইন প্রণয়নের কাজও চলছে। প্রস্তাবিত ২০২৫ সালের আইনে সিএমএসএফকে একটি সংবিধিবদ্ধ তহবিল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার কথা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বিএসইসি যৌথভাবে এ আইন চূড়ান্ত করার কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ফলে তহবিলের কাঠামো, ব্যবস্থাপনা ও তদারকিতে আরও স্বচ্ছতা আসবে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে।


