শিরোনাম
icon যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমল ৪.৫ শতাংশ icon ৭ নভেম্বর পোশাক কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা icon ৯ নভেম্বর বসছে মজুরি বোর্ডের দ্বিতীয় সভ icon হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৯৬ icon প্রিমিয়াম জালিয়াতি, কার্গো বীমায় নিষিদ্ধ বিজিআইসি icon সাবেক মন্ত্রীসহ শতাধিক ব্যক্তির ব্যাংক হিসাব জব্দের নির্দেশনা icon লেনদেনের শীর্ষে শাহজিবাজার পাওয়ার icon দর বৃদ্ধির শীর্ষে জাহিন স্পিনিং icon দরপতনের শীর্ষে ইস্টার্ন লুব্রিকেন্টস ব্লেন্ডার্স icon চুলের সাজে তরুণীর রূপে পূর্ণিমা icon ডেঙ্গুতে আরও ৭ মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৫৯৬ icon যেসব এলাকায় জমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা ডিএমপির icon শেখ হাসিনাকে ট্রাভেল পাস নয়: হুমায়ুন কবির icon ৩ মাসের জন্য বন্ধ গ্রীণ ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের ব্যবসা icon দুলামিয়া কটনের পর্ষদ সভা ১১ নভেম্বর icon ইন্ট্রাকোর পর্ষদ সভার নতুন তারিখ ১০ নভেম্বর icon সূচকের উত্থানে লেনদেন ৬৪৫ কোটি টাকা icon ২০২৭ সালের সরকারি ছুটির তালিকা প্রকাশ icon আশুলিয়ায় ৩৫ কারখানায় ছুটি ঘোষণা icon ফারইস্ট নিটিংয়ের বোর্ড সভা ১১ নভেম্বর icon বিডি থাই ফুডের বোর্ড সভা ১৪ নভেম্বর icon সমতা লেদারের বোর্ড সভা ১০ নভেম্বর icon কুইন সাউথের বোর্ড সভা ১১ নভেম্বর icon সোনার দামে বড় লাফ icon সূচকের উত্থানে চলছে লেনদেন
down of head

যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি কমল ৪.৫ শতাংশ

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে চলতি ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে ৬১৪ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে একই সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে দেশটির মোট পোশাক আমদানি কমেছে ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। ফলে সামগ্রিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশ থেকে আমদানি কমার হার কিছুটা কম।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটেক্সা) প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

ওটেক্সার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৫ হাজার ৬৬৮ কোটি ডলারের পোশাক আমদানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় আমদানির এই পরিমাণ ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ কম। এ সময়ে পোশাক আমদানির পরিমাণ বা ভলিউম কমেছে ৮ দশমিক ১০ শতাংশ। তবে গড় একক মূল্য বেড়েছে ২ দশমিক ১৪ শতাংশ।

অন্যদিকে আলোচ্য নয় মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬১৪ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় তা ৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ কম। এ সময়ে বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানির পরিমাণ কমেছে ৩ দশমিক ৬৫ শতাংশ। পাশাপাশি গড় একক মূল্য কমেছে শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ।

মাসভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ১১ দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়েছিল। তবে সেপ্টেম্বর মাসে সেই প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি আগের বছরের একই মাসের তুলনায় ৫ দশমিক ৫৭ শতাংশ কমে যায়।

সামগ্রিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের আমদানি কমার হার কম হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের বাজার হিস্যা কিছুটা কমলেও তা তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে। গত বছরের একই সময়ে দেশটির মোট পোশাক আমদানিতে বাংলাদেশের অংশ ছিল ১০ দশমিক ৯৯ শতাংশ। চলতি বছরের জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর সময়ে তা কমে দাঁড়িয়েছে ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগী কয়েকটি দেশ ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। আলোচ্য সময়ে ভিয়েতনাম থেকে দেশটির পোশাক আমদানি বেড়েছে শূন্য দশমিক ২৬ শতাংশ। কম্বোডিয়া থেকে বেড়েছে ৬ দশমিক ৪২ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়া থেকে ২ দশমিক ৮১ শতাংশ।

অন্যদিকে চীন, ভারত ও পাকিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে। এর মধ্যে চীন থেকে আমদানি কমেছে ২৩ দশমিক ০৮ শতাংশ। ভারত থেকে কমেছে ২৫ দশমিক ১৯ শতাংশ এবং পাকিস্তান থেকে ৩ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

পোশাকের গড় একক মূল্যের ক্ষেত্রেও সরবরাহকারী দেশগুলোর মধ্যে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আমদানি করা পোশাকের সামগ্রিক গড় একক মূল্য ২ দশমিক ১৪ শতাংশ বাড়লেও তালিকাভুক্ত সাতটি এশীয় সরবরাহকারী দেশের মধ্যে পাঁচটির গড় একক মূল্য কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে চীনের পোশাকের গড় একক মূল্য, ৭ দশমিক ৬৬ শতাংশ। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়া থেকে আমদানি করা পোশাকের গড় একক মূল্য বেড়েছে।

বাংলাদেশের পোশাকের গড় একক মূল্য বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারের সামগ্রিক গড় মূল্যের চেয়ে প্রায় ৩ দশমিক ৫ শতাংশ কম। গত বছর এই ব্যবধান প্রায় শূন্যের কাছাকাছি ছিল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাকের গড় মূল্য বিশ্ব গড়ের তুলনায় আরও নিচে নেমেছে।

সব মিলিয়ে চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশের রপ্তানিতেও। তবে সামগ্রিক বাজারের তুলনায় বাংলাদেশের রপ্তানি কমার হার কম হওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানিতে ১০ দশমিক ৮৩ শতাংশ বাজার হিস্যা ধরে রাখা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। একই সঙ্গে গড় একক মূল্য কমে যাওয়ার প্রবণতা রপ্তানি আয়ের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলছে, সেটিও পর্যবেক্ষণের বিষয়।

সম্পর্কিত খবর