শিরোনাম
down of head

পুনর্বিবেচনা না করলে আবাসন শিল্পে সংকট তৈরি হবে

২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পুনর্বিবেচনা না করা হলে দেশের আবাসন খাতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেছে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব)। গতকাল রাজধানী একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বাজেট প্রতিক্রিয়া এমনটা জানায় আবাসন খাতে সংগঠনটি। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন (কাজল)। এ সময় উপস্থিত ছিলেন রিহ্যাবের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ইন্তেখাবুল হামিদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট (প্রথম) কামাল মাহমুদ, ভাইস প্রেসিডেন্ট-২ নজরুল ইসলাম (দুলাল), ভাইস প্রেসিডেন্ট-৩ লায়ন শরীফ আলী খান, ভাইস প্রেসিডেন্ট (ফাইন্যান্স) প্রকৌশলী মোহাম্মদ সোহেল রানা ও পরিচালনা পর্ষদের পরিচালকরাসহ রিয়েল এস্টেট ব্যবসায়ীরা।

বাজেট প্রতিক্রিয়ায় রিহ্যাব জানায়, গতা অর্থবছরের বাজেটের মতো অপ্রদর্শিত অর্থ বিনাপ্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখার প্রয়োজন। সংগঠনটি জানায়, আবাসন খাত সম্প্রতি নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। উদীয়মান এ খাতে নানা রকম কর আরোপ ও সরকারের নীতি সহায়তার অভাবে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পতিত হয়েছে। কভিড মহামারীর ধাক্কা, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, সামর্থ্যের মধ্যে মাসিক কিস্তি সুবিধা দেয়ার মতো এ খাতে পর্যাপ্ত আর্থিক ঋণপ্রবাহ না থাকায় অনেকের বাসস্থানের স্বপ্ন পূরণ হচ্ছে না। একের পর এক সমস্যা এ শিল্পকে সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারের আশু পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া সংকট উত্তরণ অসম্ভব।

রিহ্যাব জানায়, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা কারণে সমগ্র গৃহায়ন খাতের বিক্রয় পরিমাণ প্রায় কমে এসেছে। এ মুহূর্তে যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হয়, তবে দেশের অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে। রিহ্যাবের বাজেট প্রস্তাবনায় স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনাপ্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দেয়া হয়েছিল। ২০২০-২১ অর্থবছরে এ সুযোগ থাকায় ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অর্থনীতির মূল ধারায় এসেছে। সরকার ২ হাজার কোটি টাকার ওপরে রাজস্ব পেয়েছে। গত এক বছরে সুইচ ব্যাংকে বাংলাদেশীদের টাকার পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে ৫৫ শতাংশ।

গত বাজেট অনুমোদনের পর অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ সম্পর্কে স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যার অভাবে দেশে বিনিয়োগ কম হয়েছে। স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনাপ্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ অব্যাহত থাকলে অর্থনীতিতে একটা ভালো সুফল আসবে। অপ্রদর্শিত অর্থ পাচারের সুযোগ না রেখে মূল ধারার অর্থনীতিতে নিয়ে আসা গেলে সরকারের রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

এবারের বাজেটে পাচারকৃত টাকা দেশে আনার উদ্যোগকে সাহসী পদক্ষেপ উল্লেখ করে রিহ্যাব জানায়, দেশ থেকে যাতে টাকা পাচার না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দেয়া উচিত। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক ‘হাউজিং লোন’ নামে ২০ হাজার কোটি টাকার রিফাইন্যান্সিং তহবিল গঠন, জমি ও ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ব্যয় হ্রাস ও সেকেন্ডারি বাজার ব্যবসা সৃষ্টির সুযোগ তৈরি এবং নির্মাণসামগ্রীর মূল্যহ্রাস করার জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানায় রিহ্যাব।

সংগঠনটি জানায়, গত কয়েক মাস দফায় দফায় রডের দাম বেড়েছে। আবাসন খাতের অন্যান্য নির্মাণ সামগ্রীর দামও বেড়েছে অনেক। বেশ কিছু পণ্যে শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। ফলে বাড়তি দাম ‘সবার জন্য আবাসন’ এ স্লোগানকে প্রশ্নবিদ্ধ করবে।

সম্পর্কিত খবর