জ্বালানি তেলজাত পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদায় পুনরুদ্ধার

চলতি বছর শক্তিশালী পুনরুদ্ধার দেখেছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলজাত পণ্যের বৈশ্বিক চাহিদা। তবে পুরোপুরি পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এভিয়েশন খাতে কেরোসিনের নিম্নমুখী চাহিদা। শীর্ষস্থানীয় তথ্য সেবাদাতা ও বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ডাটা সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

অপরিশোধিত জ্বালানি তেলজাত পণ্যের বাজার নিয়ে গ্লোবাল ডাটার করা বিশ্লেষণ বলছে, কেরোসিন বাদে চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) জ্বালানি তেলজাত পণ্যের চাহিদা সম্পূর্ণভাবে মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরে এসেছে। চলতি বছরজুড়ে কেরোসিনের চাহিদা মহামারীপূর্ব পর্যায়ের তুলনায় দুই-তৃতীয়াংশ নিচে অবস্থান করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেরোসিন প্রধানত জেট জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার হয়। কিন্তু নভেল করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরন আন্তর্জাতিক ভ্রমণ খাতে নতুন করে বাধার সৃষ্টি করলে জেট জ্বালানির চাহিদা আবারো দুর্বল হয়ে পড়ে।

গ্লোবাল ডাটার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কেরোসিনসহ সব ধরনের জ্বালানি তেলজাত পণ্যের চাহিদা ছিল মহামারীপূর্ব অবস্থার মাত্র ৩ শতাংশ নিচে। আকাশপথে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা কেটে গেলে সব ধরনের অপরিশোধিত জ্বালানি তেলজাত পণ্যের চাহিদা মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরবে।

গ্লোবাল ডাটার ম্যানেজিং এনার্জি এনালিস্ট উইল স্কারগিল বলেন, বৈশ্বিক চাহিদা পুনরুদ্ধারে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে চীন। দেশটির পরিবহন খাতে গ্যাসোলিনের ঊর্ধ্বমুখী চাহিদা বিশ্ববাজারে প্রভাবকের কাজ করেছে। এছাড়া পেট্রোকেমিক্যাল খাতে লক্ষণীয় মাত্রায় বেড়েছে নাপথা ও তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) চাহিদা।

অন্যান্য বড় অর্থনীতিগুলোয় চাহিদা এখনো পুরোপুরি মহামারীপূর্ব অবস্থায় ফিরতে পারেনি। তবে চীনে এসব পণ্যের চাহিদায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি শূন্যস্থান পূরণে সক্ষম হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এভিয়েশন খাতে নিম্নমুখী চাহিদার মানে বৈশ্বিক চাহিদা এখনো কিছু ঘাটতিতে রয়েছে।

এদিকে শুধু কেরোসিনই নয়, পুরোপুরি পুনরুদ্ধার ঘটেনি ডিজেলের চাহিদায়ও। চীনে অন্যান্য জ্বালানি তেলজাত পণ্যের মতো ডিজেলের ব্যবহার বাড়েনি। এমনকি কভিড-১৯ মহামারী শুরুর আগে থেকেই দেশটিতে ডিজেলের চাহিদা কমতে শুরু করেছিল। গ্লোবাল ডাটার প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ডিজেলের বৈশ্বিক চাহিদা ২০১৯ সালের চাহিদার ৪ শতাংশ নিচে অবস্থান করছিল। স্কারগিল বলেন, টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কারণে ২০১৫ সালে চীনে ডিজেলের চাহিদা আকাশচুম্বী হয়ে ওঠে। কিন্তু পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে রূপান্তরের পরিকল্পনার কারণে তা ক্রমেই কমছে।

এদিকে উন্নত অর্থনীতিগুলোয় সড়কে যানবাহন চলাচল এখনো মহামারীপূর্ব স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে পারেনি। অন্যদিকে কার্বন নিঃসরণের কারণে ডিজেলচালিত যানবাহন থেকে সরে আসছে ইউরোপ। ডিজেলের চাহিদায় পুনরুদ্ধার না ঘটার পেছনে এসব বিষয়কেও দায়ী করা হচ্ছে।

গত বছর কভিড-১৯ মহামারীর বড় ধরনের প্রভাব পড়ে কেরোসিনের চাহিদায়। কারণ ভাইরাসটি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে দেশে দেশে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। উড়োজাহাজ চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় কমতে থাকে কেরোসিনের ব্যবহার। গত বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে মোড় নিলে অনেক দেশই ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা উঠিয়ে নেয়। কিন্তু চলতি বছর করোনাভাইরাসের ডেল্টা ধরন শনাক্ত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ভ্রমণ খাতে আবারো স্থবিরতা নেমে আসে। নতুন করে ওমিক্রনের উদ্ভব পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে। ফলে বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে কেরোসিনের চাহিদা আরো কমার আশঙ্কা রয়েছে।

সম্পর্কিত খবর