কোল্ড স্টোরেজে বিনিয়োগের আহ্বান সালমান এফ রহমানের
মানসম্মত সংরক্ষণ ব্যবস্থা অভাবে দেশের প্রতিবছর ২০ থেকে ৪৪ শতাংশ শাকসবজি এবং ফলমূল নষ্ট হয়। যার আর্থিক ক্ষতি বছরে প্রায় ২.৪ বিলিয়ন ডলারের। তবে প্রতিনিয়ত কোল্ড স্টোরেজ ব্যবস্থাপনার চাহিদা বাড়ছে। তাই এই খাতে ব্যক্তি উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প এবং বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান।
তবে বিদ্যমান ব্যবস্থায় ১৩ শতাংশ সুদে ব্যবসায়ীরা এ খাতে বিনিয়োগ করবে না উল্লেখ করে নতুন ঋণ নীতির দাবি জানিয়েছেন কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু।
বুধবার আগারগাঁওয়ের বিনিয়োগ ভবনে আয়োজিত বাংলাদেশ কোল্ড চেইন ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্সে এমন বিষয় উঠে আসে। বিডার সঙ্গে মার্কিন এগ্রিকালচার বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়।
এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লিক্সক্যাপ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক উইলিয়াম ফেলোস। তিনি বলেন, ২০৩১ সালের মধ্যে দেশের কোল্ড চেইন খাত ১১ শতাংশ বেড়ে ৪.৮ মিলিয়ন ডলারের বাজারে পরিণত হবে। এর সাথে স্টোরেজে, পরিবহন, প্যাকেজিং, লভেলিং মিলিয়ে প্রায় ৪৪০ মিলিয়ন ডলারের বাজার তৈরি হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালমান এফ রহমান বলেন, দেশের অবকাঠামোখাত উন্নত হয়েছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আইসিটি সকল খাতেই বড় বিনিয়োগ হয়েছে। এখন এসব খাতে সফট স্কিল দরকার। আর কোল্ড স্টোরেজ এখন সময়োপযোগী একটি উদ্যোগ। রফতানি ছাড়া অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্যও এটা গুরুত্বপূর্ণ। তাই বেসরকারি খাতের বিনিয়োগকারীদের এ খাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আর সুদের হার কমানোর কথা থাকলেও এখনো কমেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, বৈশ্বিক কারণে সুদের হার বেড়েছে। তবে এর মধ্যেও কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে কিভাবে বিনিয়োগকারীদের সাবসিডি দেয়া যায় সেটা নিয়ে কাজ করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, দেশের কোল্ড স্টোরেজগুলো মূলত ৬০ এর দশকে তৈরি করা। সেগুলো আধুনিকায়ন হয়নি। ফরিদপুর পাবনা শহর দেশে বিভিন্ন জায়গায় পেঁয়াজের ভালো উৎপাদন হলেও সংরক্ষণের অভাবে তার ২৫ শতাংশ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ভারতীয় আমদানি বন্ধ হলেই পেঁয়াজের কেজি ১০০ টাকার ওপরে চলে যায়। তাছাড়া সংরক্ষণ ব্যবস্থা যুগোপযোগী না হওয়ায় ফরমালিনযুক্ত ফল খাচ্ছেন ভোক্তারা।
এমতাবস্থায় ১৩ শতাংশ সুদ দিয়ে কোনো ব্যবসায়ী কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করতে আসবে না। তাই এখাতে নতুন ঋণনীতি দরকার। এতে ভোক্তারও সহনীয় মূল্যে পণ্য কিনতে পারবে।



