শিরোনাম
down of head

ঈদ সামনে রেখে অবৈধ কসাইখানার বিরুদ্ধে অভিযান শুরু আরব আমিরাতের

ঈদুল আজহা উপলক্ষে গৃহস্থালিসহ অননুমোদিত স্থানে পশু জবাই বন্ধে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজাহ, আজমান, ফুজাইরাহ ও উম্মে আল কুয়েন শহরে ব্যাপক অভিযান শুরু করেছে পৌর কর্তৃপক্ষ। জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ সুরক্ষায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো।

কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদেরকে শুধু অনুমোদিত কসাইখানায় পশু কোরবানি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এ ছাড়া সতর্ক করা হয়েছে নিয়ম ভঙ্গকারীদের ৫,০০০ থেকে ২০,০০০ দিরহাম পর্যন্ত জরিমানা করা হবে।

শারজাহ পৌরসভার পরিদর্শন ও নিয়ন্ত্রণ বিভাগের পরিচালক খলিফা বুগানেম আল সুওয়াইদি জানান, ঈদের ছুটি জুড়ে সমন্বিতভাবে পরিদর্শন দল কাজ করবে। তিনি বলেন, ‘অননুমোদিত কসাইদের মাধ্যমে পশু জবাই করলে মাংস দূষিত হতে পারে, রোগ ছড়াতে পারে এবং এটি গুরুতর জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।’ তিনি আরও জানান, লাইসেন্সপ্রাপ্ত কসাইখানাগুলোতে পশু জবাইয়ের আগে ও পরে পশুচিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা করা হয় এবং কঠোর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা হয়।

আজমান শহরের পৌরসভা পশু কেনার প্রক্রিয়া সহজ করতে কসাইখানার পাশে পশুর হাট স্থাপন করেছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান খালেদ আল হোসানি জানান, এই উদ্যোগ বাসিন্দাদের অবৈধ কসাইদের থেকে সরে এসে নিরাপদ কোরবানি করতে সহায়তা করবে। তিনি সতর্ক করেন, বাড়িতে পশু জবাই করলে জুনোটিক (পশু থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায় এমন) রোগ ছড়াতে পারে এবং পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে।

ফুজাইরাহ ও উম্মে আল কুয়েন কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, ঈদের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে কসাইখানাগুলোতে পর্যাপ্ত পশুচিকিৎসক ও কারিগরি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং মোবাইল পরিদর্শন দল তৎপর থাকবে। উম্মে আল কুয়েন শহরের কসাইখানাগুলো সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।

এখানে অন-সাইট পশুচিকিৎসা সেবা পাওয়া যাবে।

এ ছাড়া নিজ নিজ শহরের বাসিন্দাদের তাদের পৌরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করে অবৈধ কার্যকলাপের তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। পরিবেশ ও জননিরাপত্তা বিভাগের পরিচালক মাইথা জসিম শাফি বলেন, ‘শুধুমাত্র স্বীকৃত কসাইখানাগুলোতেই স্বাস্থ্যসম্মতভাবে ও ইসলামিক নিয়ম অনুযায়ী পশু জবাই করা হয়।’

সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বার্তা স্পষ্ট—অবৈধ কসাইদের কাছে গিয়ে ঈদের আনন্দকে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলা যাবে না। এটি শুধু আইনি অপরাধ নয়, বরং জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও ধর্মীয় মর্যাদার উপরও আঘাত।

বাসিন্দাদের আহ্বান জানানো হয়েছে, যেন তারা সচেতন ভাবে সিদ্ধান্ত নেন, স্বীকৃত পরিষেবা ব্যবহার করেন এবং নিরাপদ ও সম্মানজনকভাবে ঈদুল আজহা উদযাপন করেন।

সম্পর্কিত খবর