ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েলের নতুন রফতানি শুল্কহার কার্যকর
পাম অয়েলের রফতানি শুল্ক কমিয়েছে ইন্দোনেশিয়া। সর্বোচ্চ শুল্কহার ধরা হয়েছে টনপ্রতি ২০০ ডলার। গতকাল থেকে এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এর আগে গত সপ্তাহে সম্মিলিত শুল্কহার কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল দেশটির সরকার। খবর এগ্রিকালচার ডটকম।
ইন্দোনেশিয়ার বিদ্যমান পাম রফতানি শুল্ক সর্বোচ্চ ৩৭৫ থেকে কমিয়ে ২০০ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া রফতানি বৃদ্ধি প্রোগ্রামের জন্য বিশেষ রেটও নির্ধারণ করা হয়েছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দেয়া তথ্যমতে, নতুন শুল্কহার গতকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত পাম অয়েল রফতানিতে এ হারেই শুল্ক পরিশোধ করতে হবে। তবে ১ আগস্ট থেকে সর্বোচ্চ রফতানি শুল্ক বাড়িয়ে টনপ্রতি ২৪০ ডলারে উন্নীত করা হবে। এ সময় প্রতি টন পাম অয়েলের রেফারেন্স দাম ১ হাজার ৫০০ ডলারে অবস্থান করবে।
প্রসঙ্গত, তিন সপ্তাহের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে গত ২৩ মে থেকে পুনরায় পাম অয়েল রফতানি শুরু করেছে শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া। এর আগে অভ্যন্তরীণ বাজারে ভোজ্যতেল পণ্যটির সরবরাহ বাড়ানো ও মূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে পাম অয়েল রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা দেয় দেশটি। রফতানি নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও তা স্বাভাবিক পর্যায়ে পৌঁছতে বেশ ধীরগতি লক্ষ করা গিয়েছে। বিভিন্ন পদ্ধতিগত সমস্যা ও কৃষিক্ষেত্রগুলোর জন্য সরকারের বৃহদাকার ভোজ্যতেল সরবরাহ প্রোগ্রামে সংযুক্ত হওয়ায় নতুন নীতিমালার কারণে এমনটা দেখা গিয়েছে।
এবার সরকারি সরবরাহ প্রকল্পে সংযুক্ত না হওয়া কোম্পানিগুলোও পাম অয়েল রফতানির সুযোগ পাবে বলে জানানো হয়েছে। এক্ষেত্রে এসব কোম্পানিকে রফতানি শুল্ক ও কর ছাড়াও প্রতি টন পাম অয়েল রফতানির জন্য অতিরিক্ত মুদ্রা পরিশোধ করতে হবে। গতকাল এমনটা জানান ইন্দোনেশিয়ার সমুদ্র ও বিনিয়োগবিষয়ক মন্ত্রী লুহুত পান্ডজাইতান।
মন্ত্রী বলেন, সর্বশেষ ডমিস্টিক মার্কেট অবলিগেশন (ডিএমও) নীতিমালায় বেশকিছু ছাড় দেয়া হয়েছে। এর আগে মজুদ ও স্থানীয় সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্য বাস্তবায়নে পরিশোধনাগারগুলো কৃষকদের কাছ থেকে বেশি পাম ফল ক্রয়ে বহুমুখী প্রতিবন্ধকতার মুখোমুখি হতো। নীতিমালা সংশোধনের মাধ্যমে আগামী মাসের শেষ নাগাদ ১০ লাখ টন পাম অয়েল রফতানির লক্ষ্যমাত্রা হাতে নেয়া হয়েছে বলে জানান লুহুত পান্ডজাইতান। নতুন নীতিমালার ফলে স্থানীয় বাজারে সরবরাহকৃত পরিমাণের পাঁচ গুণ বেশি পাম অয়েল রফতানি করার অনুমতি পাবে কোম্পানিগুলো। এর আগে স্থানীয় বাজারে যে পরিমাণ পাম অয়েল সরবরাহ করা হতো তার তিন গুণ পাম অয়েল রফতানির অনুমতি পেত কোম্পানিগুলো।



